দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা বহনকারী প্রথম ট্রাকগুলো প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
রবিবার (১৯ তারিখ) বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানায়।
মিসরের রাফাহ থেকে এএফপি জানায়, ফিলিস্তিনি অঞ্চলে জাতিসংঘের অস্থায়ী ওসিএইচএ সহায়তা সংস্থার প্রধান জোনাথন হুইটল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, ‘যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক মিনিট পরই সরবরাহের প্রথম ট্রাকগুলো প্রবেশ শুরু করে।’
মিসরের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘২৬০টি সহায়তা ট্রাক এবং ১৬টি জ্বালানি বহনকারী ট্রাক’ ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত কেরেম শালোম ক্রসিং এবং মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে নিৎসানা ক্রসিং হয়ে গাজায় প্রবেশ করেছে।
মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি শনিবার জানান, এই চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন গাজায় ৬০০ ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি জ্বালানিবাহী ট্রাক থাকবে।
এএফপি সাংবাদিকরা রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং এবং রাফাহ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত আল-আরিশ অঞ্চলে শত শত সাহায্যবাহী ট্রাক দেখেছেন।
এই যানবাহনগুলো মিসরের রাফাহ ও নিৎসানা হয়ে ইসরায়েলের ক্রসিংগুলোতে গাজায় প্রবেশের অনুমতি পেতে স্ক্রিনিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছিল।
কিছু ট্রাক মাল খালাসের পর খালি ফিরে গেছে এবং প্রায় এক ডজন অ্যাম্বুলেন্সকেও রাফাহর প্রধান গেট থেকে বের হতে দেখা গেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী দখল করে নেওয়ার পর আগেরকার সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ রাফাহ ক্রসিং মে মাস থেকে বন্ধ ছিল।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের মুখপাত্র নেবাল ফারসাখ ‘ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সহায়তা গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে’ উল্লেখ করে এএফপিকে বলেছেন, ‘এই ট্রাকগুলো কোন প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করা হবে এবং কোন ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।’
মানবিক সহায়তাকারীরা সাবধান করেছেন যে সাহায্য কার্যক্রম বিশাল বাধার সম্মুখীন হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে যেসব অবকাঠামো আগে চালান প্রক্রিয়াকরণের কাজ করত, তা ধ্বংস হয়ে যাওয়া। সূত্র: এএফপি
বাসস/তাওফিক/