বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও সাবেক পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এই ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নয়, বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভেঙেছে সন্ত্রাসীরা।’
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) কলকাতার বিধাননগরে ‘ইন্ডিয়া’স ফরেন পলিসি রোডম্যাপ উইথ ফোকাস অন ইমিডিয়েট নেইবারহুড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটি কেবল শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িই নয়, এটি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, আর্কাইভ ও নথি ছিল। আমার মনে হয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার একটা প্রচেষ্টা এটি। এর পেছনে কোনো শিক্ষার্থী ছিল না, যারা ছিল তারা সবাই সন্ত্রাসী। ব্যাপারটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য একেবারেই সুখকর নয়।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নিরাপদ থাকাটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সীমান্ত রয়েছে বাংলাদেশের। তাই দেশটিতে অস্থিরতা বা প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার প্রভাব আমাদের দেশেও পড়বে।’
সম্প্রতি বাংলাদেশে একটা পরিবর্তন ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ ন্যারিটিভ বদলে গেছে।’
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আন্দোলন দমাতে ‘গণহত্যার’ অভিযোগে তাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে সেই অনুরোধের কোনো জবাব ভারত দেয়নি।
ভারতে বসে শেখ হাসিনার অনলাইনে ভাষণ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়। আগুন দেওয়া হয় ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার বাসভবন সুধা সদনে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-লুটপাট হয়।
বাংলাদেশ সরকার এ ধরনের হামলা-ভাঙচুর থামানোর আহ্বান জানালেও সে জন্য শেখ হাসিনাকেই দায়ী করেছে। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলেছে, ‘পলাতক অবস্থায় ভারতে বসে জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে জনমনে গভীর ক্রোধের সৃষ্টি হয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’