জার্মানির ন্যাশনাল ডিসক্রিমিনেশন অ্যান্ড রেসিজম মনিটরের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ ও মুসলিমরা নিয়মিত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এই প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশের পর জার্মান সমাজে প্রচলিত আদিধারার ভ্রান্তি আরও স্পষ্ট হয়।
এ প্রসঙ্গে বার্লিনে কর্মরত স্কুল শিক্ষিকা ফাতমা বলেন, ‘সকাল থেকেই বৈষম্যের শুরু। স্কুলে যাওয়ার সময় বাসচালকরা আমার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে থাকেন।’ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও হিজাবের কারণে চাকরি পেতে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ তার।
আরও গুরুতর অভিযোগ করেন বার্লিনের আরেক বাসিন্দা হানা। তিনি বলেন, ‘বাস-ট্রেনে নিত্যই লোকজন আমাকে হেনস্তা করেন। আমাকে নিজের দেশে ফিরে যেতে বলেন।’
রেসিজম মনিটর তাদের গবেষণায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১০ হাজার বাসিন্দার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। সাধারণত অভিবাসী ও মুসলিমরাই এই ধরনের জাতিবাদী আক্রমণের শিকার হন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
এ প্রসঙ্গে রেসিজম মনিটরের কর্মকর্তা চিহান সিনানোগলু বলেন, ‘জার্মানির বর্ণবাদ আগের চেয়েও সূক্ষ্মভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। সমাজের মানুষরা বর্ণবাদকে বিভিন্নরূপে স্থান দিচ্ছেন।’
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজন জার্মানের মধ্যে একজন বর্ণবাদী মনোভাব পোষণ করেন। তাদের মধ্যে অনেকের ধারণা অভিবাসীদের নিজেদের রাজনৈতিক চাওয়া কিছুটা ‘বাড়াবাড়ির’ শামিল।
এর সামাজিক প্রভাবও লক্ষণীয়। বর্ণবাদ ও ইসলামবিদ্বেষের শিকার হয়ে দেশটিতে এনক্সাইটি ও মানসিক অবসাদে আক্রান্তের হার বাড়ছে। ‘সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ভরসা করতে না পারায় মানসিকভাবে আলাদা হয়ে পড়ছেন ভুক্তভোগীরা।’, বলেন চিহান।
বিশ্লেষকদের দাবি, জার্মানির বর্ণবৈষম্যবিরোধী আইনগুলো প্রয়োজনের তুলনায় দুর্বল। এ প্রসঙ্গে জার্মানির বর্ণবৈষম্যবিরোধী কমিশনার ফার্দা আতামান বলেন, ‘গবেষণা থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, ভুক্তভোগীদের আরও নিরাপত্তা দেওয়া দরকার।’ সূত্র: ডয়েচে ভেলে
নাইমুর/