পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সার্জিকাল স্ট্রাইক ‘অপারেশন সিঁদুর’-কে প্রকৃত অর্থেই সিঁদুর মুছে দেওয়ার বদলা বলা যেতে পারে।
কাশ্মীরের পাহালগামের নারকীয় হামলায় নব বিবাহিত নারীর সিঁদুর মুছে দেওয়ারই বদলা নিল ভারত। একারণেই বুধবার ( ৭ মে) গভীর রাতে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতের সম্মিলিত সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত অভিযানের নাম রাখা হয়েছে অপারেশন সিঁদুর ।
গত ২২ এপ্রিলের কাশ্মীরের পাহালগামে গুলি করে হত্যা করা হয় ২৬ জন পুরুষ পর্যটককে। প্রথমে তাদের ধর্ম জানতে চায় জঙ্গিরা। তার পর তাদের পরিবারের সামনেই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক থেকে গুলি করে। তাদের মধ্যে বিতান অধিকারীর স্ত্রী সোহিনী এবং সমীর গুহর স্ত্রী শর্বরীর সিঁথির সিঁদুর কেড়ে নেয় চার জঙ্গি। তাছাড়া শুধু সোহিনী-শর্বরী নয় নিহতদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন সদ্য বিবাহিত।
এই অপারেশনের পর ভারতীয় সেনাবাহিনী পক্ষ থেকে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। সেই ছবিতে অপারেশনের নাম বড় অক্ষরে লেখা—‘SINDOOR’, যার একটি 'O' ডীয়ে সিঁদুরের কৌটা থেকে গড়িয়ে পড়া কিছু সিঁদুরকে বোঝানো হয়। এটি যেন জঙ্গিদের নিষ্ঠুরতার প্রতীক, যা নিঃস্ব করে দিয়েছে কয়েকজন নারীর জীবন।
পাহালগামে জঙ্গি হামলার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ভাইরাল হয়। হাতে বিয়ের চুড়া পরে সদ্যবিবাহিতা হিমাংশি নারওয়াল পড়ে রয়েছেন স্বামী লেফটেন্যান্ট বিনয় নারওয়ালের নিথর দেহের পাশে।
অন্য এক ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্জুনাথ রাওয়ের স্ত্রী পল্লবী, যিনি আগের দিন শিকারা ভ্রমণে খুশিমনে একটি ভিডিও করেন, হামলার পর সাহায্য চেয়ে অসহায়ভাবে কাঁদছেন।
শৈলেশ কালাঠিয়ার স্ত্রী শীতল থেকে শুরু করে বিতান অধিকারীর স্ত্রী সোহিনী, শুভম দ্বিবেদীর স্ত্রী ঐশন্যা থেকে সন্তোষ জগদলের স্ত্রী প্রগতি—যাদের চোখের পানি কাঁদিয়েছে গোটা ভারতকে। অপারেশন সিঁদুর সেই কান্নার প্রতিশোধ।
এই জবাবি হামলার পর ঐশন্যা বলেন, ‘আমার স্বামীর মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা তার ওপর ভরসা রেখেছিলাম এবং তিনি সেই ভরসা রক্ষা করেছেন। এই প্রতিক্রিয়াই আমার স্বামীর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।’
আবার প্রগতি জগদল কাঁপা কাঁপা গলায় বলেছেন, ‘সেদিন যেভাবে সিঁদুর মুছে দিয়েছিল ওরা.... এই অপারেশনের নাম শুনেই চোখে জল চলে এসেছে। সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’ সূত্র: এনডিটিভি এবং দ্য হিন্দু
দিনা/