ইসরায়েলি হামলায় গতকাল (১৮ মে) অন্তত ১৫১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, রবিবার ভোর থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের তথাকথিত ‘সেইফ জোন’ অর্থাৎ নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত আল মাওয়াসিতে ৩৬ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৬১ জন। হতাহতের প্রকৃত তথ্য জানা কঠিন, কারণ বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অনেকে চাপা পড়ে আছে।
অপারেশন্স গিডিয়ন্স চ্যারিয়টসের অংশ হিসেবে ইসরায়েল এসব হামলা চালায়। এর লক্ষ্য হলো, গাজা পুরোপুরি দখলে নেওয়া। ইতোমধ্যে গাজা উপত্যকায় বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। এই অভিযানের মাধ্যমে তারা হামাসের সামরিক ও শাসন কাঠামো ভেঙে ফেলতে চায়- এমনটাই জানিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
এ অভিযানের অংশ হিসেবে গাজার উত্তরাঞ্চলে ইতোমধ্যে ভয়াবহ ট্যাংক হামলা চালানো হয়েছে। আঘাত হেনেছে আল-আতাতরার পশ্চিম অংশ, বেইত হানুন, জাবালিয়া শরণার্থী শিবির, তুফফাহ এলাকাসহ আরও বেশ কিছু স্থানে।
ইসরায়েলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২০ লাখ মানুষকে দক্ষিণ গাজায় সরিয়ে নেওয়া হবে- যাতে সাধারণ মানুষ আর হামাসকে আলাদা করা যায় এবং আক্রমণ চালানো সহজ হয়।
এ বছরের মার্চে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি করেছে ইসরায়েল। ফলে নিহতের পাশাপাশি আহতের সংখ্যা বাড়ায় জরুরি ভিত্তিতে সব রক্তের গ্রুপের প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহ করার আহ্বান জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গাজার সিভিল ডিফেন্স ফোর্স জানায়, প্রায় সব সদস্য নিখোঁজ কিংবা সবাই মারা গেছেন এমন পরিবারের সংখ্যা শতাধিক।
সংস্থাটির মতে, একবারে হারিয়ে যাওয়া এসব পরিবারের সদস্যরা হামলায় নিহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুধা, অপুষ্টি ও চিকিৎসার অভাবেও প্রাণ হারিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে প্রতিনিয়ত এমন পাশবিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হামাস। আল মাওয়াসি এলাকার তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া বাসিন্দাদের ওপর হামলার ভিডিও ফুটেজ প্রচার করে হামাস জানায়, এমন বর্বর হত্যাকাণ্ড নেতানিয়াহুর যুদ্ধাপরাধ এবং প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক ও মানবিক আইন লঙ্ঘনের দলিল।
হামাস আরও জানায়, গাজায় গণহত্যায় ইসরায়েলকে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে নিঃশর্ত সমর্থন যুগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও এই গণহত্যার সরাসরি অংশীদার এবং মার্কিন প্রশাসন কখনোই এর দায় এড়াতে পারে না। এদিকে আরব ও মুসলিম বিশ্বের নিষ্ক্রিয়তার মধ্যে আবারও ইসরায়েলের গণহত্যা বন্ধ করতে কার্যকর ও ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে তাদের প্রতি আহ্বান জানায় হামাস।
এদিকে গাজার হাসপাতালগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। উত্তর গাজার কামাল আবদেল নাসের হাসপাতালের পরিচালক শাকের হামাদ বলেন, আহতরা হাসপাতালে বানের জলের মতো এসে ভিড় করছেন। উদ্ধারকাজের মধ্যে কোনো ধরনের সমন্বয় নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে গাজায় কোনো হাসপাতাল আর কার্যকর নেই। একমাত্র সচল ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালও কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩ হাজার ৩৩৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৪ জন। সূত্র: আল-জাজিরা