রাশিয়ার বাহিনী ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সময় উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং বিভিন্ন শহরে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের সদস্যদের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিষয়টি।
মস্কো পিয়ংইয়ংয়ের ওপর কতটা নির্ভরশীল, তা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এটি তৈরি করেছে মাল্টিল্যাটেরাল স্যাঙ্কশনস মনিটরিং টিম। এর ১১ সদস্যের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্র ও জাপান।
তারা বলছে, কিম জং উনের দেশ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে রাশিয়াকে ২০ হাজারের বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদের কনটেইনার সরবরাহ করেছে।
টিমটি আরও জানায়, তাদের হাতে যে প্রমাণ রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে যে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া একাধিক অবৈধ কাজে জড়িয়েছে, যা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে নিষিদ্ধ করা আছে।
২০২৪ সালের জুনে উত্তর কোরিয়ার নেতা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তি অনুসারে, কোনো দেশ আক্রমণের কবলে পড়লে অপর দেশ তাকে সহায়তায় এগিয়ে আসবে।
এদিকে, মাল্টিল্যাটেরাল স্যাঙ্কশনস মনিটরিং টিম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০২৪ সালে। এটি তাদের প্রথম প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া থেকে রাশিয়ায় ৯০ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ ও রকেট লঞ্চার পাঠানো হয়েছে।
আগামীতেও উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া এ লেনদেন বজায় রাখবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে পর্যবেক্ষণ দলটি। তারা বলেছে, দুই দেশের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোসহ ইউক্রেনের শহরগুলোতে মস্কোর আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে উত্তর কোরিয়া।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিপরীতে উত্তর কোরিয়া তাদের গোয়েন্দা স্যাটেলাইট তৈরির ক্ষেত্রে রাশিয়ার সহায়তা নিচ্ছে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে রাশিয়ায় অন্তত ১০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এসব অস্ত্র তারা আকাশ, নৌ ও রেলপথে পাঠিয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান