ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার
Nagad desktop

ইরান নাকি ইসরায়েল? সামরিক সক্ষমতায় কে এগিয়ে?

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৫, ১০:২৩ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৫, ১২:০৮ এএম
ইরান নাকি ইসরায়েল? সামরিক সক্ষমতায় কে এগিয়ে?
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ডামাডোল বেজে উঠেছে। শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালালে পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েলে অন্তত একশো ড্রোন হামলা চালায়। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইরানের পক্ষ থেকে আরও শক্তিশালী  প্রতিক্রিয়া আসছে অচিরেই।

ইসরায়েলের হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি এক বিবৃতিতে তেল আবিবকে তেহরানের ভয়ংকর পাল্টা জবাবের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।

এদিকে,ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলাগুলোকে অপারেশন রাইজিং লায়ন-এর অংশ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, ইরান ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। তাই হামলা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রক্তের বিনিময়ে রক্ত নেবে। 

যুগের পর যুগ ধরেই চরম বৈরী সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই পরাশক্তির মধ্যে। ১৯৭৯ সালের পর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ছায়াযুদ্ধ চললেও এবং গত বছর দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলা হলেও তা খুব বড় আকার ধারণ করেনি। তবে এবার ঘটনাপ্রবাহ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবার পুরোপুরি সংঘাতে জড়াবে দুপক্ষ।


ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনার মধ্যে, দুই দেশের কোন পক্ষের সেনাবাহিনী বেশি উন্নত? কার কাছে শক্তিশালী অস্ত্র বেশি আছে? বা সামরিক সক্ষমতায় কে এগিয়ে?-এমন নানান প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে। সেই সুবাদে দুই পরাশক্তির তুলনামূলক পরাক্রম সম্পর্কে এক নজরে জেনে নেওয়া যাক। 


ইরান বনাম ইসরায়েলের পরাক্রম

জনবলের দিক থেকে তেহরান ইহুদি জাতির চেয়ে এগিয়ে। ইরানের জনসংখ্যা ইসরায়েলের জনসংখ্যার চেয়ে দশগুণ বেশি, যেখান থেকে তারা তাদের সশস্ত্র বাহিনী তৈরি করে থাকে। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের ২০২৪ সালের সূচক অনুসারে, ইরানের জনসংখ্যা ছিল ৮,৭৫,৯০,৮৭৩। যেখানে ইসরায়েলের জনসংখ্যা ৯০,৪৩,৩৮৭। এর অর্থ হল, ইরানের হাতে বেছে নেওয়ার জন্য আরও অনেক বেশি জনবল রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে বৃহত্তম, যেখানে কমপক্ষে ৫,৮০,০০০ সক্রিয়-কর্তব্যরত কর্মী এবং প্রায় ২০০,০০০ প্রশিক্ষিত রিজার্ভ কর্মী ঐতিহ্যবাহী সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের মধ্যে বিভক্ত ।

সেখানে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীতে সবমিলিয়ে ১,৬৯,৫০০ সক্রিয় সামরিক কর্মী রয়েছে। আরও ৪,৬৫,০০০ এর মধ্যে রয়েছে তাদের রিজার্ভ বাহিনী, যেখানে ৮,০০০ এর মধ্যে রয়েছে আধাসামরিক বাহিনী।

প্রতিরক্ষা ব্যয়

প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ক্ষেত্রে, ইসরায়েল ইরানকে ছাড়িয়ে গেছে। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেএক্সের তথ্যানুসারে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাজেট ২৪ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ইরানের ৯.৯৫ বিলিয়ন ডলার।

তবে, ওয়াশিংটন-ভিত্তিক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিজ (এফডিডি) অনুসারে, ইরানের সামরিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) কেবল রাষ্ট্রীয় বাজেটের উপর নির্ভর করে না। ‘তেহরান স্টক এক্সচেঞ্জে’ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজার মূল্য (এক-পঞ্চমাংশ) নিয়ন্ত্রণ করে এই সামরিক প্রতিষ্ঠান। এছাড়া এটি হাজার হাজার অন্যান্য কোম্পানির মালিক, যার সবকটিই সশস্ত্র বাহিনীর জন্য রাজস্ব এনে দেয়। এছাড়াও, আইআরজিসি ইরানের ভূগর্ভস্থ অর্থনীতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

অস্ত্রের দিক থেকে এগিয়ে আছে ইরান

অস্ত্রশস্ত্রের হিসাবেও এগিয়ে আছে ইরান। দ্য মিলিটারি ব্যালেন্সের ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ট্যাংক আছে ১০ হাজার ৫১৩টি, ভারী অস্ত্র আছে ৬ হাজার ৭৯৮ ও সাঁজোয়া যান আছে ৬৪০টি। ইরানের প্রধান সামরিক বাহিনীর ভান্ডারে ৫০টি হেলিকপ্টার আছে। আর ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর আছে পাঁচটি। অন্যদিকে, ইসরায়েলের অস্ত্রভান্ডারে ট্যাংক আছে ৪০০টি, ভারী অস্ত্র আছে ৫৩০টি এবং সাঁজোয়া যান আছে ১ হাজার ১৯০টি।

ইরান জনবল এবং অস্ত্রের দিক থেকে ইসরায়েলকে ছাড়িয়ে গেলেও তাদের চেয়ে ইসরায়েলের বিমান শক্তি বেশি। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেএক্সের মতে, ইসরায়েলের মোট ৬১২টি বিমান রয়েছে, যেখানে ইরানের ৫৫১টি। এক্ষেত্রে, উল্লেখযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, ইসরায়েলের বিমান বাহিনীতে F-15s, F-16s এবং F-35s এর মতো সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমান রয়েছে। যেটি ইরানের নেই।

এছাড়া, ইসরায়েলের দখলে রয়েছে তাদের বিখ্যাত বহু-স্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার মধ্যে রয়েছে আয়রন ডোম , ডেভিড'স স্লিং, অ্যারো , এবং দ্য প্যাট্রিয়ট। যা ইসরায়েলে ইরানের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম।  

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার অতুলনীয়

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার অতুলনীয়। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ জানায়, পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের বৃহত্তম এবং সমৃদ্ধ ভাণ্ডার রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, পাশাপাশি ২০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলোর ইসরায়েল সহ যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার ক্ষমতা এবং পরিসীমা আছে।

ইরান এই বিষয়টি গোপন করেনি, সামরিক কুচকাওয়াজের সময় দেশটি তাদের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার প্রদর্শন করে এবং ড্রোনের একটি বৃহৎ রপ্তানি ব্যবসা গড়ে তোলার উচ্চাকাঙ্ক্ষার কাথাও জানায়। সম্প্রতি, রাশিয়া ইউক্রেনে ইরানের তৈরি করা ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায় এবং সুদানের সংঘাতেও এটি দেখা গিয়েছে।

তাছাড়া, স্থলশক্তির কথা বলতে গেলে ইরান এগিয়ে। ইসরায়েলের ১,৩৭০টি ট্যাঙ্ক আছে, যেখানে ইরানের ১,৯৯৬টি। তবে, ইসরায়েলের চেয়ে বেশি ট্যাঙ্ক থাকা মোটেও সামরিকভাবে অপ্রতিরোধ্যতা নয়। তাছাড়া, ইহুদি জাতির অস্ত্রাগারে মেরকাভা ট্যাঙ্কের মতো আরও উন্নত ট্যাঙ্ক রয়েছে, যা বিশ্বের সেরা নকশাকৃত এবং ভারী সাঁজোয়াযুক্ত ট্যাঙ্কগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়।

নৌবাহিনীর সক্ষমতায় এগিয়ে ইরান

ইরান বা ইসরায়েলের নৌবাহিনীর তেমন উপস্থিতি নেই। তবে, এরমধ্যেও, নৌবাহিনীর সক্ষমতার দিক দিয়েও এগিয়ে আছে ইরান। ইরান ছোট নৌকা আক্রমণ চালানোর ক্ষমতার জন্য পরিচিত। ইরানের নৌবহরে আছে ১৭টি ট্যাকটিক্যাল সাবমেরিন (ছোট ও দ্রুত হামলার উপযোগী ডুবোজাহাজ), ৬৮টি টহল ও যুদ্ধজাহাজ, সাতটি করভেট (ছোট আকারের যুদ্ধজাহাজ), ১২টি ল্যান্ডিং শিপ (সৈন্য ও যানবাহন পরিবহনের জন্য), ১১টি ল্যান্ডিং ক্র্যাফট (সৈন্য নামানোর ছোট জাহাজ) এবং ১৮টি লজিস্টিক ও সাপোর্ট যান (সহায়ক সরঞ্জাম ও জাহাজ)।

বিপরীতে ইসরায়েলের আছে কেবল পাঁচটি সাবমেরিন এবং ৪৯টি টহল ও যুদ্ধজাহাজ। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের মতে, তেহরানের নৌবহরের সংখ্যা ১০১টি আর ইসরায়েলের ৬৭টি। এছাড়াও, এটি ১৯টি সাবমেরিন পরিচালনা করে, যেখানে ইসরায়েলের পাঁচটি সাবমেরিন রয়েছে। 

এছাড়া, ইরানের ইসফাহানে একটি সামরিক মহড়ার সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে দেখা যায়। পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে ইরানের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের বৃহত্তম ভাণ্ডার রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, পাশাপাশি ২০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। 

বিমানবাহিনীর সক্ষমতায় কিছুটা এগিয়ে ইসরায়েল

বিমানবাহিনীর সক্ষমতার হিসাবে কিছুটা এগিয়ে আছে ইসরায়েল। দ্য মিলিটারি ব্যালেন্সের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ইরানের বিমানবাহিনীর ৩১২টি যুদ্ধবিমান রয়েছে, অ্যাটাক হেলিকপ্টার আছে দুটি। এর পাশাপাশি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কাছে যুদ্ধবিমান আছে ২৩টি আর অ্যাটাক হেলিকপ্টার রয়েছে পাঁচটি। এ ছাড়া ইরানের প্রধান সামরিক বাহিনীর কাছে অ্যাটাক হেলিকপ্টার রয়েছে ৫০টি। অন্যদিকে ইসরায়েলের ভান্ডারে যুদ্ধবিমান আছে ৩৪৫টি আর অ্যাটাক হেলিকপ্টার আছে ৪৩টি।

পারমাণবিক শক্তিতে এগিয়ে ইসরায়েল

পারমাণবিক শক্তির দিক থেকে, ইসরায়েল এগিয়ে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI) এর পূর্ববর্তী প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৮০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০টি বিমানের মাধ্যমে সরবরাহের জন্য মাধ্যাকর্ষণ বোমা। বাকি ৫০টি অস্ত্র জেরিকো I 

এছাড়া, মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের জন্য জেরুজালেমের পূর্বে একটি সামরিক ঘাঁটিতে গুহায় তাদের মোবাইল লঞ্চারগুলো স্থাপন করা হয়েছে বলে মনে করা হয়।

বিপরীতে ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র নেই বলে ধারণা করা হয়। তবে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। দেশটিতে একাধিক পারমাণবিক স্থাপনা ও গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে। অনেকেই আবার বলে থাকে, ইরান ইচ্ছে করেই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য সামনে আনেনি।

ইরানের মারাত্মক প্রক্সি শক্তি

সামরিক দিক থেকে ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর জটিল সামরিক ব্যবস্থা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল, কয়েক দশক ধরে ইরানের উপর সরাসরি সামরিক হামলা এড়িয়ে চলেছে বা জড়াতে চায় না।

নেভাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কুলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক এবং ইরানের সামরিক বাহিনী বিশেষজ্ঞ আফশন অস্তোভার আমেরিকান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ইরানে আঘাত না লাগার একটি কারণ আছে। ইরানের প্রতিপক্ষরা ইরানকে ভয় পায় এমন নয়। তারা বুঝতে পারেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো যুদ্ধ মানেই সেটি অত্যন্ত গুরুতর যুদ্ধ। কেননা, ইরান পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ নামে পরিচিত একটি প্রক্সি মিলিশিয়া নেটওয়ার্ককে অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং সমর্থন দেয়। এই মিলিশিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি, সিরিয়া ও ইরাকের মিলিশিয়া গোষ্ঠী এবং গাজার হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ। যদিও তাদেরকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অংশ হিসেবে গণ্য করা হয় না, কিন্তু তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এবং ইরানের প্রতি অত্যন্ত অনুগত।’


আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা

আকাশ প্রতিরক্ষার দিক থেকে এগিয়ে আছে ইসরায়েল। তেল আবিবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’কে বিশ্বের সেরা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হিসেবেও অভিহিত করা হয়। এটি এমন একটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যা শত্রুপক্ষের ছোড়া রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে।

আয়রন ডোমে একটি রাডার থাকে, যা ইসরায়েলের দিকে আসন্ন রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ও দিক নির্ণয় করে। এরপর নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হিসাব করে দেখে—এই রকেট জনবসতির জন্য হুমকি কি না। যদি হুমকি না হয়, তাহলে সেটিকে ধ্বংস না করে ফাঁকা জায়গায় পড়তে দেওয়া হয়। কিন্তু হুমকি হলে লাঞ্চার থেকে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সেটিকে আকাশেই ধ্বংস করা হয়। একটি লাঞ্চারে (ব্যাটারি) ২০টি করে ক্ষেপণাস্ত্র থাকে। ইসরায়েলজুড়ে এরকম ১০টি আয়রন ডোম ব্যাটারি মোতায়েন রয়েছে।

এর পাশাপাশি ইসরায়েলের কাছে রয়েছে আরও দুটি দূরপাল্লার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। একটি হলো ডেভিডস স্লিং, যেটি ৪০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরত্বের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারে। আরেকটি হলো অ্যারো সিস্টেম, যা ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম।

অন্যদিকে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরান আজারাখশ নামের একটি স্বল্পপাল্লা ও নিচ দিয়ে উড়তে থাকা লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকারী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করে। এটি রাডার, ইনফ্রারেড ও ইলেকট্রো অপটিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এবং যানবাহনের ওপর বসিয়ে ব্যবহার করা যায়।

ইরানের অন্যান্য প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে ৪২টির বেশি দূরপাল্লার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা—যেমন রাশিয়ার এস-২০০, এস-৩০০ ও স্থানীয়ভাবে তৈরি বাভার-৩৭৩। মাঝারিপাল্লায় রয়েছে ৫৯টির বেশি। এর মধ্যে অন্যতম মিম-২৩ হক, এইচকিউ-টু ও খোরদাদ-১৫। আর স্বল্পপাল্লার জন্য রয়েছে ২৭৯টি সিস্টেম, যার মধ্যে রয়েছে চীনের সিএইচ-এসএ-৪ এবং রাশিয়ার নাইনকে ৩১ টোর-এম১।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে অন্তত ১২ ধরনের স্বল্প ও মাঝারিপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তোন্দার-৬৯, যার সর্বোচ্চ পাল্লা ১৫০ কিলোমিটার এবং আরও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র যেমন খোররামশহর ও সেজজিল, যেগুলোর পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত।

অন্যদিকে ইসরায়েলের কাছে অন্তত চার ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—যেমন লোরা, যার পাল্লা ২৮০ কিলোমিটার এবং জেরিকো-৩, যার পাল্লা ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৬ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

সুলতানা দিনা/

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্য নিয়ে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রস্তুত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন এই খসড়া চুক্তির একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছে।

ফ্রান্সে চলমান জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া একজন কূটনীতিক এবং আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আরও দুটি কূটনৈতিক সূত্র এই খসড়া দলিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই খসড়াটি চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকের প্রকৃত রূপ নয়। অন্যদিকে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এই ফাঁসের ঘটনাকে ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

এই খসড়া চুক্তি অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত নথিতে স্বাক্ষর করবেন। তার আগে গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটালভাবে এই খসড়া চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এই স্মারককে একটি ‘রাজনৈতিক দলিল’ হিসেবে অভিহিত করে এর গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্দার আড়ালে যে মূল প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা এই নথিতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

খসড়া চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে দুই দেশ এবং তাদের মিত্রদের মধ্যকার যুদ্ধ অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে শেষ হবে। দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবে।

চুক্তির আওতায় স্বাক্ষর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান মাইন অপসারণসহ সব প্রযুক্তিগত বাধা দূর করবে। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চল থেকে তার সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। এ ছাড়া ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সহযোগীরা অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল নিশ্চিত করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের ওপর থাকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ে ইরান যাতে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানি করতে পারে, সে জন্য মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র বা ওয়েভার ইস্যু করবে। একই সঙ্গে ইরানের ফ্রিজ বা আটকে থাকা সব তহবিল ও সম্পদ অবমুক্ত করা হবে এবং ইরানের সেন্ট্রাল ব্যাংক তা ব্যবহার করতে পারবে।

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে ইরানের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এই খসড়ায় সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশই বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে। অর্থাৎ ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বাড়াবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না বা ওই অঞ্চলে সেনা বাড়াবে না। এই ঐতিহাসিক চুক্তি বাস্তবায়নের পর পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করার জন্য একটি যৌথ বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হবে। আগামীকাল এই স্মারক স্বাক্ষরের পর চূড়ান্ত চুক্তি নির্ধারণের জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হবে।

 সূত্র: সিএনএন

ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও লেবাননে আবারও মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন।

বুধবার (১৭ জুন) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “ইরান সংঘাত এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট মানবিক সংকটে তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। ‘বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় চীন ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে সেখানে পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়নে সহায়তা করা যায়।”

এটি চলমান সংঘাত শুরুর পর দ্বিতীয়বারের মতো ইরানে চীনের মানবিক সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ। এর আগে মার্চ মাসেও বেইজিং তেহরানে সহায়তা পাঠিয়েছিল।

চীনের সহয়তা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩,৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে চীনের এমন পদক্ষেপ ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমান/

ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনাকে উপক্ষা করেই লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

বুধবার (১৭ জুন) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা এবং পাশের কফর তেবনিতের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

তবে এর আগে তারা বলেছিল, তাদের লক্ষ্য ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য হওয়া চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান বলেছে, ওই সমঝোতায় লেবানন-সংক্রান্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল "অনেক দিন ধরে" হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং এতে "অনেক মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে।"

এসএন/

চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর বাস্তবায়নে তিনি সন্তুষ্ট না হলে আবারও ইরানের ওপর বোমা হামলা চালানো হতে পারে।

সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এটি একটি সমঝোতা স্মারক। যদি আমার পছন্দ না হয়, তাহলে আমরা আবার গুলি চালাবো এবং তাদের ওপর বোমা ফেলবো।"

"তারা যদি ঠিকভাবে আচরণ না করে, তাহলে আবার বোমা হামলা শুরু হবে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, এই সমঝোতা স্মারকে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে তুলে নেওয়ার কোনো বিষয় নেই।

এ বিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফ্রান্সের এভিয়ঁ লে বেঁ শহরে সোমবার শুরু হওয়া জি–৭ শীর্ষ সম্মেলন বুধবার শেষ হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে তাঁরা লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ রুটে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনার কথাও বলেন, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।

এসএন/

জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে মূলত বাঙালি মুসলমানদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, ঠেলে পাঠানো ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে বাংলাদশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)। এতে করে বহু পরিবার দুই দেশের সীমান্তের শূন্য রেখায় (জিরো লাইন) আটকা পড়েছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত পহেলা জুন থেকে বিএসএফের ২১টি পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শিশুসহ ২০০ জনের বেশি মানুষকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ঠেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে যে বিজেপি সরকারের "ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট" নীতির আওতায় শত শত “বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে” আটক করা হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে "ফিরে যেতে" বাধ্য করা হয়েছে।

সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাকশী গাঙ্গুলী বলেন, "মৌলিক মানবাধিকারকে উপেক্ষা করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নির্মমভাবে পরিবারগুলোকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে বা সীমান্তে আটকে রাখছে"।

তিনি আরও বলেন যে ভারত সরকারের উচিত এই জোরপূর্বক বহিষ্কার বন্ধ করা, আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা ও মুসলমানদের প্রতি বৈরিতাপূর্ণ আচরণ বন্ধ করা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরও জানায়, তারা এমন নয়জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা দেখেছেন যে বিএসএফ রাতের অন্ধকারে লোকজনকে সীমান্তে এনে কাঁটাতারের বেড়ার কাটা অংশ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কয়েকটি ঘটনায় বিজিবি প্রবেশে বাধা দিলে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের আবার ফিরিয়ে নেয়।

এসএন/