ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে গতকাল সোমবার চতুর্থ দিনের মতো পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার ভোরে এবং রাতে উভয় দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা করেছে। গত রাতে ইসরায়েলের হামলায় তেহরানে রাষ্ট্রীয় টিভি ভবনে হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে কিছুক্ষণের জন্য সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। একই সময় ইরান ইসরায়েলের হাইফা বন্দরসহ অন্যান্য এলাকায় আঘাত হানে।
গত ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় গত শুক্রবার ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ইরানের পাল্টা হামলায় এখন জ্বলছে ইসরায়েলের একাধিক নগর। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে প্রতিদিন। হাইফা, তেল আবিব, জেরুজালেম, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর, পেতাহ টিকভা, নেভাটিম বিমানঘাঁটি, এমনকি বেসামরিক শহর ব্যাত ইয়াম- কোনোটিই রক্ষা পায়নি ইরানি হামলা থেকে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, মাত্র চার দিনে ইরানের পক্ষ থেকে তাদের ভূখণ্ডে ছোড়া হয়েছে অন্তত ৩৭০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং শত শত বিস্ফোরকবাহী ড্রোন। এসব হামলায় দেশটির অন্তত ৩০টি সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাইফা শহরে সাতজনসহ ইসরায়েলে মোট ২৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭৪ জন।
তেল আবিবের আকাশজুড়ে রাতভর ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। ইসরায়েলের ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা বেশ কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত করেছে। কিন্তু কিছু মিসাইল ঢুকে পড়ায় বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ব্যাত ইয়ামে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭৫টিরও বেশি ভবনের মধ্যে ২২টি এতটাই বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছেছে যে সেগুলো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইরানের পাল্টা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলও থেমে নেই। আইডিএফের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ইরানের মধ্যাঞ্চলে অন্তত ১০০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে ধ্বংস হয়েছে ইরানের ১২০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার, যা দেশটির মোট লঞ্চারের এক-তৃতীয়াংশ। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী এসব হামলায় প্রায় ৫০টি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কাজেমিসহ চার শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তাদের তেহরানে এক গোপন বৈঠকের সময় লক্ষ্যবস্তু করা হয়। আইডিএফ দাবি করেছে, নিহত এসব কর্মকর্তা ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে হামলা
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবিতে গত রাতে বোমা ফেলেছে ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই হামলার ফুটেজও প্রকাশিত হয়েছে। ফুটেজে দেখা গেছে, স্টুডিওতে একজন নারী নিউজ অ্যাঙ্কর সংবাদ পাঠ করার সময় হাঠাৎই বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে স্টুডিওটি এবং সেটির ভেতরে ধুলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ওই নারী নিউজ অ্যাঙ্কর বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আসন ত্যাগ করে পালিয়ে যান। এর আগে তেহরানের যে অঞ্চলে আইআরইবির সদর দপ্তর অবস্থিত, সেখানকার বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছিলেন, ‘ইরানের শাসকগোষ্ঠীর প্রোপাগান্ডা এবং উসকানি ছড়ানোর মাউথপিস শিগগিরই হারিয়ে যাবে।’
ইসরায়েলে গত রাতেও মিসাইল ছুড়ল ইরান
দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে আবারও মিসাইল ছুড়েছে ইরান। গত রাতে মিসাইল ছোড়ে তারা। আইডিএফ জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলের হাইফাসহ বিভিন্ন জায়গায় হামলার আগে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস নিমিৎজ
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রণতরী ও যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ হিসেবে পরিচিত মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার রণতরী ইউএসএস নিমিৎজ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ট্র্যাকিং সংস্থা মেরিন ট্রাফিক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এ তথ্য। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার দক্ষিণ চীন সাগরে যাত্রাপথ পরিবর্তন করে পশ্চিম দিকে রওনা দেয় ইউএসএস নিমিৎজ। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে এই রণতরী মালাক্কা প্রণালিতে অবস্থান করছিল। বর্তমানে মালাক্কা প্রণালি পেরিয়ে ভারত মহাসাগরে রয়েছে ইউএসএস নিমিৎজ।
ইসরায়েলের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত
তেল আবিব ও বন্দরনগরী হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ইসরায়েলের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েল ইলেকট্রিক করপোরেশন (আইইসি)। গত রবিবার দিবাগত রাতের ভয়াবহ হামলার পর স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিভ্রাট সৃষ্টি হয় এবং কিছু এলাকা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সংবাদ সংস্থা সিএনএন জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় হাসপাতাল, কমিউনিকেশন টাওয়ার ও গুরুত্বপূর্ণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জনগণকে খোলা তার বা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছাকাছি না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।
গতকাল ভোররাতে তেল আবিবের আকাশে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের দৃশ্য দেখা যায় এবং জেরুজালেমেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হামলায় পাঁচ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলের জরুরি বিভাগ জানিয়েছে, হাইফায় প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। বন্দরের কাছে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
তেল আবিবের একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এই এলাকার মাত্র কয়েক শ মিটার দূরেই মার্কিন দূতাবাসের একটি শাখা অবস্থিত। দূতাবাস ভবনের কিছু ক্ষতি হলেও কেউ আহত হননি বলে জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
ইরান জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ২২৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ২৭০ জন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও পরমাণু স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশেষ করে কোম শহরের কাছে ফোর্দো পরমাণু কেন্দ্রে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। যদিও এ নিয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেয়নি তেহরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছেন, হামলা বন্ধ না হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য তেহরানের সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতি করা নয়। তবে সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর আশপাশের বাসিন্দারা ঝুঁকির মুখে থাকতে পারেন।
ইসরায়েল এরই মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় আকাশসীমা ও বিমানবন্দর পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের সহায়তা চেয়েছে ইসরায়েল। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস নিমৎজ দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর চায় ইরান!
তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি কার্যকরে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার প্রভাব ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ইরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের তিন দেশ সৌদি আরব, কাতার এবং ওমানের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি তেহরান এই আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল ইরানের অন্তত দুটি ও আঞ্চলিক তিনটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে যুদ্ধবিরতি চেয়ে ওই তিন দেশের কাছে ইরানের দ্বারস্থ হওয়ার তথ্য জানিয়েছে। রয়টার্স বলছে, পারমাণবিক আলোচনায় নমনীয়তার শর্ত দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার প্রভাব ব্যবহার করে ইসরায়েলকে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর অনুরোধ জানিয়েছে ইরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের তিন দেশ কাতার, সৌদি আরব ও ওমানকে ট্রাম্পের ওপর এই বিষয়ে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সিঁদুরে মেঘ?
শান্তি আলোচনার প্রস্তাব উড়িয়ে দুই পক্ষই একে অন্যকে শেষ পর্যন্ত দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের বিদেশমন্ত্রী কাৎজ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘যদি ইরান মিসাইল হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে তেহরানকে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।’ পাল্টা ইসরায়েলকে দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানও। ফলে সংঘাত ক্রমেই আন্তর্জাতিক রূপ নিচ্ছে- যেখানে কেবল ইরান ও ইসরায়েল নয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর সরাসরি জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠছে।
ইরানের সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, সংঘাতের রেশ ধরে কোনো দেশ যদি ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে সেই দেশকেও টার্গেট করবে ইরান। সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে সাহায্য করা দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি, পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে থাকা নৌবাহিনী ছাড় পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কথা বলে আদতে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোকেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ঠিক এই আবহেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররকে সে দেশের বাকিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি গ্লিস বলেছেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ থেকেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে পারে। এর পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, ইরান সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী এবং ইসরায়েলের হামলার দ্রুত জবাব দিয়েছে তারা। হিজবুল্লাহ, হুতি এবং হামাসও রয়েছে তাদের সঙ্গে। এর ফলে এই যুদ্ধ আরও বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের দিকে নজর রাখছে রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং চীন। যদি যুক্তরাষ্ট্র এখন এই যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তাহলে প্রভাব বাড়াতে পারে ওই তিন দেশ। সে ক্ষেত্রে ইউক্রেনে রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর উত্তর কোরিয়া ও তাইওয়ানের ওপর চীন চাপ তৈরির চেষ্টা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে সংঘর্ষের আবহ তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরাকের দূতাবাস থেকে তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে। ইচ্ছা করলে বাহরাইন ও কুয়েত থেকেও দূতাবাসের কর্মীরা চলে যেতে পারেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গোটা পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি ছড়াতে পারে বলে মনে করছে খোদ যুক্তরাষ্ট্র, তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও।
কানাডায় জি-সেভেন সামিটে যাওয়ার আগে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। এই আবহেই পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিমান এবং আরও কিছু ‘অ্যাসেট’ মোতায়েন করেছে ব্রিটেন। যদিও তার সঙ্গেই সংঘর্ষ থামানোর বার্তাও দেওয়া হয়েছে ব্রিটেনের তরফ থেকে।
যুদ্ধে জড়াবে যুক্তরাষ্ট্র?
ইরানের হামলা থেকে ইসরায়েলকে বাঁচানোর জন্য কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রযুক্তি এবং এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণুসংক্রান্ত আলোচনা আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। এর মধ্যে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমেরিকা যদি কোনোভাবে আক্রান্ত হয় তাহলে ইউএস আর্মি তার সম্পূর্ণ ক্ষমতা দেখাবে, যা আগে কখনো দেখায়নি।’
এপি সূত্রের খবর, এই বক্তব্য পেশের এক দিন পর গতকাল ইরানের মিসাইল হানায় সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। এই আবহে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পাশে দাঁড়াবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
যদি দেশটি এই যুদ্ধে অংশ নেয়, তাহলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক এবং কৌশলগতভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে থাকা রাশিয়াও চুপ করে বসে থাকবে না বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া কোনো যুদ্ধে জড়ালে তা আদতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধেরই নামান্তর বলে মনে করছেন তারা।