গাজায় হামলার মাত্রা বৃদ্ধি করেছে ইসরায়েল। স্থল ও আকাশ- দুই দিক থেকেই তারা হামলা চালাচ্ছে। তাদের নির্বিচার হামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকে অন্তত ৫৫ ফিলিস্তিনি মারা গেছেন।
বুধবারও (৯জুলাই) ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। সেদিন মারা গেছেন অন্তত ৭৪ জন। নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন বেসামরিক ও সহায়তাপ্রত্যাশী।
এমন একটি সময় এসব হামলার ঘটনা ঘটলো, যার এক দিন আগেই হামাস জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি আলোচনার অগ্রগতির লক্ষ্যে ১০ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এর অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
গাজার অবরুদ্ধ পরিস্থিতির নিরসন হয়নি। এখনো প্রয়োজনীয় রসদ ও সহায়তার অভাবে ধুঁকছে উপত্যকাটি। গাজার বড় হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট ও ইসরায়েলের চলমান অবরোধের কারণে সময়ের আগে ভূমিষ্ঠ হওয়া একশরও বেশি শিশু এবং সাড়ে তিনশ কিডনি ডায়ালাইসিস করা রোগী ঝুঁকিতে রয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে ইসরায়েলের যুদ্ধে অন্তত ৫৭ হাজার ৫৭৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৭৯ জন। অবরুদ্ধ উপত্যকাটি পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। সেখানে বহু মানুষ একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বর্তমানে তারা তাঁবুতে থাকছেন। তাদের লক্ষ্য করেও নির্বিচারে হামলা হচ্ছে। অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত সহায়তা সংস্থার খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে গিয়েও হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের। মে মাসের শেষ থেকে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন সাতশরও বেশি। সর্বশেষ পাওয়া খবর বলছে, ৭৭০ সহায়তাপ্রত্যাশীকে কোনো কারণ ছাড়াই গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী উত্তর গাজায়ও হামলা চালাচ্ছে। সেখানে অনেক বাসিন্দাকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলছেন, যুদ্ধবিরতি চলতি সপ্তাহ থেকে শুরু করে আগামী সপ্তাহ- এর মধ্যে হয়ে যেতে পারে। তবে হামাস বলছে, কাতারের আলোচনা ইসরায়েলের জেদের কারণে ‘কঠিন’ হয়ে উঠেছে।
১০ জিম্মি মুক্তি দেওয়ার ঘোষণার পাশাপাশি হামাস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির যে আলোচনাটি চলছে, তার মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট রয়েছে। গাজায় সহায়তার অবাধ প্রবেশ, ইসরায়েলি সেনাদের উপত্যকা থেকে সরে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো রয়েছে। এ ছাড়া স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তাও রয়েছে।
হামাস কর্মকর্তা তাহের আল-নুনু বলেন, ‘হামাস সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। তবে তারা যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের জনসাধারণের সুরক্ষা, গণহত্যা থামানো ও সহায়তার অবাধ প্রবেশের লক্ষ্যে কিছু প্রয়োজনীয় নমনীয়তা চাইছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হামাস চাইছে ইসরায়েলি সেনারা প্রথম ধাপের অংশ হিসেবে গাজা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিক এবং এমনভাবে তা করুক, যাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর কোনো চাপ না পড়ে।’
আল-জাজিরার খবর বলছে, হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে দুবার বৈঠক করেছেন ট্রাম্প।
সূত্র: আল-জাজিরা