ইসরায়েলি বাহিনী গাজার স্থলভাগে আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি করেছে। এমন একটি সময় এ হামলাগুলো হচ্ছে, যখন গাজাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে ক্ষুধা। আল-জাজিরার প্রতিবেদকরা গাজা থেকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাস তাদের হাতে থাকা জিম্মি মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করছেন তারা। ধারণা করা হয়েছিল, নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফর থেকেই গাজার যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো ঘোষণা আসবে। কিন্তু তিনি চার দিনের সফর শেষ করে ইসরায়েলের পথে রওনা হয়েছেন কোনো ঘোষণা দেওয়া ছাড়াই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ সফরের সময় নেতানিয়াহু দুবার বৈঠক করেছেন। ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এর মধ্যেই। চলতি সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহের মধ্যে চুক্তি হয়ে যাবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
নেতানিয়াহুর দেওয়া তথ্যানুসারে, হামাসের সঙ্গে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি হতে পারে। এদিকে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে দৃঢ়ভাবে সমালোচনা করার পর জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ফ্রান্সেসকা অ্যালবানিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নেতানিয়াহু ফেরার সময় ইতালি, ফ্রান্স, গ্রিসের মতো দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহার করবেন। অ্যালবানিজ সর্বশেষ এ বিষয়টি নিয়েও সমালোচনা করেছেন।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন নেতানিয়াহুকে নিরাপদে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিচ্ছে দেশগুলো, যেখানে তাদের তাকে গ্রেপ্তার করার কথা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে অন্তত ৫৭ হাজার ৭৬২ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫৬ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে তথ্যটি।
প্রায় ৮০০ সহায়তাপ্রত্যাশীকে হত্যা করেছে ইসরায়েল
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর বলছে, তারা গাজার সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে খাবার আনতে গিয়ে ইসরায়েলি গুলিতে প্রাণ হারানোর অন্তত ৭৯৮টি হত্যাকাণ্ড রেকর্ড করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) থেকে ত্রাণ আনতে গিয়েছিলেন প্রাণ হারানো মানুষগুলো।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, ইসরায়েলি সেনাদের ওপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ থাকে, যাতে তারা সহায়তাপ্রত্যাশীদের ওপর গুলি চালায়। সহায়তা নিতে যাওয়া ওই ব্যক্তিদের খুবই অল্প সময় দেওয়া হয়, সে সময়ের মধ্যে তারা সহায়তা সংগ্রহ করতে না পারলেও শুরু হয় গুলি। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে তারা আশপাশে ছোটাছুটি করতে থাকেন। এভাবে অনেক কিশোর বয়সী ও শিশুও নিহত হয়েছে। অনেক পরিবারে সহায়তা নিতে যাওয়ার মতো প্রাপ্তবয়স্ক কেউ না থাকায় তাদেরই যেতে হয়েছিল খাবার সংগ্রহে।
গাজায় এখন জিএইচএফ ছাড়া আর কোনো সংস্থা খাবার প্রবেশ করাতে পারছে না। জিএইচএফও যেটুকু সহায়তা দিচ্ছে, সেটি পর্যাপ্ত নয়। সব মিলিয়ে গাজাবাসীর দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বহু মানুষ ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার শিকার হওয়ার ভয়ে খাবার আনতে যেতে ভয় পাচ্ছেন, এক বেলা খেয়ে থাকছেন।
গাজার হাসপাতালগুলোতে সহায়তার অভাবে রসদ ফুরিয়ে এসেছে, জ্বালানি শেষ হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে অপুষ্টিতে এরই মধ্যে ৬৬ জন মারা গেছেন। আরও বহু শিশু ও বয়োবৃদ্ধ অপুষ্টির কারণে হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছেন।
ওএইচসিএইচআর-এর মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেছেন, ‘জুলাইয়ের ৭ তারিখের আগ পর্যন্ত আমরা অন্তত ৭৯৮টি মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করেছি। এর মধ্যে ৬১৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে জিএইচএফের সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে। আর ১৮৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে সহায়তা বহর যাওয়ার রাস্তায়। জিএইচএফ খুব বেশি দিন হয়নি গাজায় সহায়তা বিতরণ শুরু করেছে। চলতি বছরের মে মাস থেকে গাজায় কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি।
গাজার তিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসিডেন্টের চিঠি
গাজার তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলছেন, ইসরায়েল অবরুদ্ধ উপত্যকাটির উচ্চশিক্ষা অবকাঠামোর বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত যুদ্ধ চালাচ্ছে। তারা এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষা মহলের সহায়তা ও সমর্থন চেয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স