কলম্বিয়ায় একটি সামরিক কুকুরকে জাতীয় বীর হিসেবে প্রশংসা করা হচ্ছে। একটি সামরিক অভিযানের সময় গেরিলা যোদ্ধাদের পুঁতে রাখা বোমা খুঁজে বের করে কুকুরটি ৩৬ জন সেনাকর্মকর্তা এবং গ্রামের শত শত বাসিন্দার জীবন বাঁচিয়েছে।কিন্তু বিস্ফোরণে কুকুরটি একটি পা হারিয়েছে।
একই এলাকায় একটি গাধার সাথে বেঁধে রাখা বোমা বিস্ফোরণের মাত্র দুই দিন আগেই একজন সেনা নিহত এবং আরও দুজন আহত হন।
শুক্রবার (১১ জুলাই) সেনাবাহিনীর এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলা হয়, স্যানসন নামের বিস্ফোরক খোঁজার কাজে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরটি উত্তর-পশ্চিম কলম্বিয়ার পার্বত্য অঞ্চল অ্যান্টিওকিয়ায় সেনাবাহিনীকে একটি গোয়েন্দা অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করছিল। তখন জঙ্গিদের পুঁতে রাখা একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। বোমাটি জাতীয় মুক্তিবাহিনীর ব্যবহৃত পথে স্থাপন করা হয়, যেটি স্প্যানিশ ভাষার সংক্ষেপে ELN নামে পরিচিত।
এই পোস্টে আরও বলা হয়, বিস্ফোরণে একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর, কুকুরটি নিজেকে তার হ্যান্ডলার সৈনিক কার্লোস এডুয়ার্ডো বেলেনোর কাছে টেনে নিয়ে আসতে সক্ষম হন।
পরে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী আরেকটি বিবৃতিতে জানায়, আমাদের #FourLeggedHero তার একটি অঙ্গ হারিয়েছে কিন্তু ইয়োন্ডো #Antioquia-এর লা রায়া গ্রামের ৩৬ জন সৈন্য এবং শত শত বাসিন্দার জীবন বাঁচিয়েছে। প্রতিদিন তারা বোমা পুঁতে রাখা এই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, অস্ত্রোপচারের পর স্যানসন এখন সুস্থ হয়ে উঠছে যদিও তার পা কেটে ফেলতে হয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে বিস্ফোরণের পর কুকুরটির আঘাতের চিকিৎসা করা হচ্ছে এবং পরে একটি পশু হাসপাতালে তার পরীক্ষা করা হচ্ছে।
কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনী এই বিস্ফোরণের জন্য ইএলএনকে দায়ী করেছে, যা প্রায় ৬,০০০ যোদ্ধার একটি দল। কলম্বিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে দলটি লড়াই করছে। দলটিকে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে তালিকাভুকত করেছে। এর আগে ভেনেজুয়েলার সীমান্তের কাছে অভিযানে কয়েক ডজন মৃত্যুর জন্য ইএলএনকে দায়ী করা হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সেনাদের লক্ষ্য করে করা এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং বেসামরিক জনগণকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
এই মাসের শুরুতে ইতালিতে, একটি বীর স্নিফার কুকুর , যে তার কর্মজীবনে নিখোঁজ নয়জনকে খুঁজে পেতে সাহায্য করেছিলো। তাকে নখে বিষ মেখে খাবার দিয়ে হত্যা করা হলে ঘটনাটি জাতীয়পর্যায়ে ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং পুলিশি তদন্ত শুরু করে।
সুলতানা দিনা/