উত্তর কোরিয়া ঘোষণা করেছে, সদ্য উদ্বোধন করা তাদের সমুদ্রতট রিসোর্ট এখন থেকে বিদেশি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকছে না।
ওনসান কালমা উপকূলীয় পর্যটন অঞ্চলটি পহেলা জুলাই উদ্বোধন করা হয়। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের পর্যটন খাতকে উৎসাহিত করার বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।
রিসোর্টটি চালুর আগেই এটি স্থানীয় এবং বিদেশি উভয় পর্যটকের জন্য একটি আকর্ষণ হিসেবে প্রচারিত হয়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার সরকারি পর্যটন ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিদেশিদের প্রবেশ ‘সাময়িকভাবে’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত সপ্তাহেই রাশিয়া থেকে প্রথম পর্যটক দল রিসোর্টে পৌঁছানোর খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ওনসান শহরে কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
লাভরভ রিসোর্টটির প্রশংসা করে একে ‘চমৎকার পর্যটন আকর্ষণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন এটি রুশ নাগরিকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শেষ নাগাদ মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে।
এর আগে, এক রুশ ট্যুর গাইড জানান, তারা রিসোর্টে আরও বেশ কয়েকটি ট্যুর আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিলেন।
উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলবর্তী শহর ওনসান, যেখানে এ রিসোর্টটি অবস্থিত, সেখানে দেশটির কিছু ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র এবং একটি বৃহৎ সামুদ্রিক কমপ্লেক্স রয়েছে। এখানেই কিম জং উন তার শৈশবের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন, যেখানে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতাদের বিলাসবহুল ছুটি কাটানোর ভিলা অবস্থিত।
নতুন সী-বিচ রিসোর্টটির ৪ কিলোমিটার (২.৫ মাইল) জুড়ে রয়েছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং মল এবং একটি ওয়াটার পার্ক। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, এটি প্রায় ২০ হাজার মানুষের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন।
তবে ২০১৮ সালে এর নির্মাণ শুরু হওয়ার পর থেকেই মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করে আসছে যে, নির্মাণকাজে নিযুক্ত শ্রমিকদের প্রতি অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, কঠিন পরিবেশে অত্যন্ত দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে শ্রমিকদের, যেখানে ক্ষতিপূরণও ছিল অপ্রতুল।
চলতি বছরের ২৪ জুন রিসোর্টটির সমাপ্তি উদ্যাপন অনুষ্ঠানে কিম ও তার পরিবারের সঙ্গে রুশ কূটনীতিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
গত বছর উত্তর কোরিয়া মহামারিকালীন দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার পর রুশ পর্যটকদের ভ্রমণের অনুমতি দেয়।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো পশ্চিমা দেশগুলোর পর্যটকদেরও ঢোকার অনুমতি দেয় উত্তর কোরিয়া। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কোনো কারণ না দেখিয়ে পর্যটন কার্যক্রম হঠাৎ স্থগিত করা হয়। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/