নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র পদপ্রার্থী এবং ডেমোক্র্যাট রাজনীতিবিদ জোহরান মামদানি ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের প্রতিবেদনে বিবিসির ভাষার সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘বিবিসি কখনোই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে উল্লেখ করে না, বা ‘যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)’ বলেও পরিচয় দেয় না। কিন্তু তারা ‘ইরান-সমর্থিত হুথি’ এবং ‘হামাস-পরিচালিত হাসপাতাল’ এর মতো শব্দ ব্যবহার করে। ‘
মামদানি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের একজন সোচ্চার সমালোচক, তাদেরকে ‘গণহত্যাকারী’ বলে অভিহিত করেন।
ইসরাইল-গাজা যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ প্রচারের ধরন নিয়ে যুক্তরাজ্যের পাবলিক ব্রডকাস্টার বিবিসিকে তীব্র সমালোচনা করে টুইটারে (এক্স) শনিবার (১৯ জুলাই) এক পোস্টে মামদানি এসব কথা লেখেন।
ইসরাইলের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত মামদানি গাজার ওপর ইসরাইলের সামরিক অভিযানে গণহত্যার অভিযোগ এনে ইসরাইলি বসতিতে কার্যরত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সিটি প্রশাসনের সম্পর্ক ছিন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি ইসরাইলের রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্বের অধিকারকে সমর্থন করেন এবং সব পক্ষের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সহিংসতাকে নিন্দা জানালেও, হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পর গাজায় ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন।
জেটেওর মেহদি হাসানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, ‘নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কে এলে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় তাকে গ্রেফতার করবেন, কারণ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।’
ইসরাইলের যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে অনেক ডেমোক্র্যাট ভোটার, এমনকি ইহুদিরাও অসন্তুষ্ট। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে ইসরাইলবিরোধী মনোভাবকে আর ‘ইহুদিবিদ্বেষ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
মামদানি বিভিন্ন সময়ে ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেছেন। ‘দ্য লেট শো উইথ স্টিফেন কলবার্ট’ এ উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে ছিলেন নিউ ইয়র্ক সিটির কম্পট্রোলার এবং ইহুদি কর্মকর্তা ব্র্যাড ল্যান্ডার, যিনি মামদানিকে সমর্থন করেন। মামদানি ঘৃণামূলক অপরাধ প্রতিরোধ কর্মসূচির বাজেট ৮০০% বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
সুলতানা দিনা/