গাজায় ক্ষুধার্ত অর্থাৎ অনাহারি মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বিশ্বের দেশগুলোর সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ১০০-এরও বেশি সহায়তা সংস্থা ও অধিকার গোষ্ঠী। তারা এক বিবৃতিতে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চাওয়ার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা সরবরাহের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে।
এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে বিশ্বের ১১১টি সংস্থা। এদের মধ্যে রয়েছে মার্সি কোর, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল ও রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো। তারা সতর্ক করেছে যে গাজায় ব্যাপক আকারে ক্ষুধা ছড়িয়ে পড়ছে। ঠিক উপত্যকার বাইরেই রয়েছে টনকে টন খাবার, সুপেয় পানি, চিকিৎসা সরবরাহ ও অন্যান্য সামগ্রী। সেগুলো ইসরায়েলের বাধার কারণে গাজায় প্রবেশ করানো সম্ভব হচ্ছে না। যাদের প্রয়োজন তাদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না সহায়তাগুলো।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি সরকারের অবরোধে গাজার মানুষ ক্ষুধায় কষ্ট করছেন, এখন সহায়তাকর্মীদেরও খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, পরিবারকে খাওয়ানোর জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। রসদ একেবারে কমে যাওয়ার এ সময়টিতে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো নিজেদের সহকর্মী ও অংশীদারদের নিজ চোখের সামনেই ভুগতে দেখছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েল সরকারের অবরোধের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা, ক্ষুধা ও মৃত্যু। বিশ্বের দেশগুলোর সরকার যাতে সব ধরনের আমলাতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানায় সে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাগুলো। তারা বলেছে, সব সীমান্ত পারাপার খুলে দিতে হবে, গাজার প্রত্যেকের কাছে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে এবং সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত বিতরণ কেন্দ্র বাদ দিতে হবে। তারা জাতিসংঘের নেতৃত্বে নীতিগত সহায়তা কার্যক্রম আবারও শুরু করতে দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে। সহায়তা সংস্থাগুলো বিবৃতিতে বলেছে, বিশ্বের দেশগুলোর অবশ্যই অবরোধ অবসানে দৃঢ় কয়েকটি ব্যবস্থা নিতে হবে, যেমন: অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানো বন্ধ করতে হবে।
এদিকে ইসরায়েল গাজায় খাবারের স্বল্পতা থাকার বিষয়টি স্বীকার করছে না। অথচ তারা পুরো উপত্যকায় কী ঢুকতে পারবে, সে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছে। বিবিসির খবর বলছে, গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর গুলিতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ৮০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জিএইচএফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত সহায়তা সংস্থা। শুধু তারাই গাজায় সহায়তা প্রবেশ করাতে পারছে। কিন্তু সেখান থেকেও যেটুকু সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে, তা মোট চাহিদার তুলনায় নিতান্তই সামান্য।
এরই মধ্যে সংস্থাটির জোরালো সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ থেকে শুরু করে অন্য সংস্থাগুলো। তারা জিএইচএফের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ না থাকার অভিযোগ তুলেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজার যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৬০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাজায় এখন ক্ষুধায়ও মানুষ মারা যেতে শুরু করেছেন। কয়েক ডজন মৃত্যুর খবর জানিয়েছে তারা।
গাজায় অন্যান্য সহায়তা সংস্থার যেটুকু খাবার মজুত ছিল, সেগুলো ফুরিয়ে গেছে। গত মার্চ থেকেই কেউ আর মজুতে নতুন খাবার বা রসদ যোগ করতে পারেনি। ইসরায়েলের দাবি, গাজায় হামাসসহ ও অন্য গোষ্ঠীগুলোর হাতে সহায়তা যাওয়া ঠেকাতেই এ কাজ করছে তারা। সূত্র: রয়টার্স