কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আলভারো উরিবেকে সাক্ষী প্রভাবিতকরণ ও ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ১২ বছরের গৃহবন্দির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ৫ লাখ ৭৮ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা ও আট বছরের বেশি সময়ের জন্য (১০০ মাস ২০ দিন) সরকারি পদে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ছয় মাসের বিচারপ্রক্রিয়া ও প্রায় ১৩ বছরের আইনি জটিলতার পর শুক্রবার (১ আগস্ট) এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক সান্দ্রা লিলিয়ানা হেরেদিয়া।
এ রায়ের মাধ্যমে কলম্বিয়ার ইতিহাসে প্রথমবার কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন। তবে উরিবের আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন।
আলভারো উরিবে ২০০২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাকে আধুনিক কলম্বিয়ান রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী রক্ষণশীল নেতা হিসেবে ধরা হয়।
এদিকে রায় ঘোষণার সময় ‘উরিবে জেলে যাও’ লেখা ব্যানার হাতে অনেকেই বোগোতার রাস্তায় বিক্ষোভ করেন।
উরিবের বিরুদ্ধে মামলাটি ঘিরে রয়েছে কলম্বিয়ার ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধ ও সংঘাত। যেখানে- সরকারি বাহিনী, ডানপন্থি প্যারামিলিটারী, বামপন্থি বিদ্রোহী ও মাদক চক্র একে অপরের সঙ্গে লড়াই করে আসছে।
তার শাসনামলে তিনি সবচেয়ে বড় বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফার্ক-এর বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। তবে এই অভিযানকে ঘিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল, যা উরিবে অস্বীকার করেছেন।
এ ছাড়া তার শাসনামলে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে বিদ্রোহী সাজিয়ে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে, যা "ফলস পজিটিভ" কেলেঙ্কারি নামে পরিচিত। এতে কমপক্ষে ২০০০ নিরীহ মানুষ মারা যান বলে তদন্তে জানা গেছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা ৬,৪০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। উরিবের ডানপন্থি প্যারামিলিটারিদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যদিও তিনিও তা অস্বীকার করেছেন।
২০১২ সালে উরিবে তার কট্টর সমালোচক, বামপন্থি সিনেটর ইভান সেপেদার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।কিন্তু ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট সেই অভিযোগ খারিজ করে উলটো উরিবের বিরুদ্ধে সাক্ষী প্রভাবিতকরণ ও ঘুষের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে।
অভিযোগে বলা হয়, উরিবের আইনজীবী দিয়েগো কাদেনা প্যারামিলিটারিদের কাছ থেকে অনুকূল সাক্ষ্য পেতে তাদের ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ সাক্ষ্য একই সঙ্গে উরিবের ভাই সান্তিয়াগো উরিবের বিরুদ্ধে এক হত্যা মামলাতেও ব্যবহৃত হচ্ছিল। সূত্র: আল-জাজিরা
মেহেদী/