যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় গিফোর্ড অগ্নিকাণ্ড বছরের সবচেয়ে বড় দাবানলে পরিণত হয়েছে। চলমান এই দাবানলে আট শতাধিক ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভস্মীভূত হয়েছে ৯১ হাজার একর বনভূমি।
মধ্য ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারা এবং সান লুইস ওবিস্পো কাউন্টি জুড়ে ১৩১ বর্গমাইলেরও বেশি এলাকার ৮৭০টিরও বেশি বাড়ি পুড়ে গেছে। প্রচণ্ড তাপ এবং কম আর্দ্রতার কারণে আগুনের পরিস্থিতি আরও খারাপ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শেষবারের মতো মাত্র মাত্র ৯ শতাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ২,২০০ জনেরও বেশি কর্মী কাজ করছেন। পাহাড়ি এই এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
এছাড়া, লস পাদ্রেস জাতীয় বনের কাছাকাছি ৮৭০ টিরও বেশি বাড়ি এবং স্থাপনা হুমকির মুখে।
কর্মকর্তারা জানান, গত শুক্রবার স্টেট রুট ১৬৬ বরাবর কমপক্ষে চারটি ছোট অগ্নিকাণ্ডের ফলে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউরোপের আরেক দেশ স্পেনে চলছে দ্বিতীয় দফার দাবানল। উপকূলীয় শহর তারিফায় দেখা গেছে দাবানলের কালো ধোঁয়া। দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। এর মধ্যেই ৪০ ড্রিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় ভুগছে দেশটির বাসিন্দারা। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, একটি ক্যারাভ্যান থেকে আগুনের সূত্রপাত। এরপর দাবানল পাহাড় বেয়ে সমুদ্রসৈকতে ছড়িয়ে পড়ে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ী ও হোটেল খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়।
দাবানলের ভয়াবহতার সাক্ষী হচ্ছে ইউরোপের আরেক দেশ ফ্রান্সও। দেশটির দক্ষিণ অঞ্চলের একটি গ্রামের অন্তত ২৫টি বাড়ি পুড়েছে। ১৩ হাজার হেক্টরের বেশি জায়গাজুড়ে দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে চার হাজারের বেশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মী।
এছাড়া, আড়াই হাজারের বেশি বাড়ীঘর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। নিহত এবং নিখোঁজের খবরও নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্টরা। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
এছাড়াও গ্যালিসিয়া অঞ্চলের পন্তেসেছোতে দাবানল ছড়িয়েছে। এর মধ্যেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থানে দাবানলের কারণে প্রচন্ড গরমের সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
সুলতানা দিনা/