ভারত থেকে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করতে চলেছে ই-কমার্স সাইট অ্যামাজন। এমনকি একই পথে হাঁটতে পারে ওয়ালমার্ট, টার্গেট, গ্যাপের মতো সংস্থাগুলোও।
ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক চাপানোর পর থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ই-কমার্স সংস্থাগুলো। বিশেষকরে, ভারত থেকে রপ্তানি করা বস্ত্রের উপরে এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে সাইটগুলো।
বুধবার (৬ আগস্ট) ভারতের উপর আরও ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার কথায়, রাশিয়া থেকে ভারত এখনও তেল কিনছে এ কারণে শাস্তিস্বরূপ ভারতীয় পণ্যের উপর বাড়তি কর বসানো হচ্ছে। অর্থাৎ এবার ভারতের পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে।
এ সম্পর্কিত একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডার স্বাক্ষর করে ট্রাম্প জানান, ২১ দিন পর থেকে কার্যকর হবে নতুন এই শুল্কহার। সেখানে স্পষ্টকরে লেখা হয়, ‘প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ভারত বর্তমানে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে। তাই আমার মনে হয় ভারতের উপর আরও বেশি শুল্ক চাপানো দরকার।’
ট্রাম্প ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ফলে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেতে চলেছে ভারতের বস্ত্র রপ্তানি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বস্ত্রের অন্যতম প্রধান জোগানদাতা হচ্ছে ভারত। নতুন এই শুল্কহার কার্যকর হলে বিভিন্ন প্রকার বস্ত্রের উপর যথাক্রমে ৬৩.৯ শতাংশ এবং ৬০.৩ শতাংশ কর বসবে।
তারপর থেকেই, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারত থেকে বস্ত্র আমদানি বন্ধ করতে যাচ্ছে এই ই-কমার্স সংস্থাগুলো। কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যে যে বিপুল শুল্ক চাপবে, তার জেরে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
বিপুল অঙ্কের শুল্ক দিয়ে পণ্য রপ্তানি করতে আগ্রহী নন ব্যবসায়ীদের অনেকেই। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করার পরও চড়া শুল্কের কারণে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম বাড়বে। ফলে মার্কিন ক্রেতাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে ভারতীয় পণ্য।
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রভাব পড়বে ভারতের অর্থনীতিতেও। তবে ভারত থেকে অর্ডার বন্ধ করা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুলতানা দিনা/