যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার(৮ আগস্ট) আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের নেতাদের মধ্যে শান্তি স্থাপনে হোয়াইট হাউসে এক সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি এটিকে ঐতিহাসিক শান্তি সম্মেলন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এ সমস্যা নিরসন হতে চলেছে।
দুই সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাত চলছে। এবার সেটিই নিরসনের উদ্যোগ নিলেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার(৭ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান যে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ও আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ তার সঙ্গে হোয়াইট হাউসে আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
দীর্ঘদিন ধরে বৈরিতা চলে আসা ওই দুই দেশের মধ্যে সত্যিই চুক্তি হলে, তা হবে ট্রাম্পের জন্য অন্যতম একটি কূটনৈতিক সাফল্য। নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে মোট দুইবার যুদ্ধে জড়িয়েছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। সর্বশেষ ২০২৩ সালে আজারবাইজান একটি দ্রুত সামরিক অভিযানে অঞ্চলটি আবারও নিজেদের দখলে নেয় এতে ১ লাখেরও বেশি জাতিগত আর্মেনিয়ান জনসাধারণকে দেশত্যাগ করতে হয়েছিল। এর আগেও দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্মেলনে শান্তিচুক্তির আলোচনা হয়েছে। তবে সেগুলোর ফলাফল আশাব্যঞ্জক আসেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই দুই জাতি বহু বছর ধরে যুদ্ধে জড়িত। এতে হাজার হাজার প্রাণহানি হয়েছে। বহু নেতা চেষ্টা করেছেন যুদ্ধ বন্ধ করতে, কিন্তু সফল হননি। আমার প্রশাসনের প্রচেষ্টায় অবশেষে সেই দিন এসেছে।’ ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের সঙ্গেই পৃথক পৃথক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করবে, যার মাধ্যমে দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, চুক্তি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্র একটি করিডর তৈরি করবে। সেটির নাম দেওয়া হচ্ছে ‘ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রোসপারিটি’। ওই করিডর আজারবাইজানকে নাকচিভান অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করবে, যা বাকি দেশের থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ওই করিডরে একপর্যায়ে রেললাইন, তেল ও গ্যাসলাইন, ফাইবার অপটিক লাইন ইত্যাদি যুক্ত করা হবে। শুরুতে পণ্য ও পরে মানুষ যাতায়াত করতে পারবে সে করিডর দিয়ে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান