মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে অন্যতম ভয়ঙ্কর বিপর্যয় থামিয়ে তিনি অ্যাপোলো-থার্টিন মিশন সফল করেছিলেন। নাসার গুরুত্বপূর্ণ সেই চন্দ্র অভিযানের নায়ক জিম লোভেলের জীবনাবসান হয়েছে। শুক্রবার (৮ আগস্ট) ৯৭ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
চাঁদে অবতরণের প্রচেষ্টা চলাকালে মহাকাশযানে বিস্ফোরণের কারণে মিশন বাতিল হলেও লোভেল একটি সম্ভাব্য ট্র্যাজেডিকে সাফল্যে রূপ দিয়েছিলেন। বিস্ফোরণের সময় মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে কয়েক লাখ মাইল দূরে অবস্থান করছিল।
মহাকাশচারী জিম লোভেলের মৃত্যুসংবাদ জানিয়ে নাসা এক বিবৃতিতে লিখেছে, ‘জিমের চরিত্র এবং অটল সাহস আমাদের দেশকে চাঁদে পৌঁছেছিল। শুধু তাই নয়, একটি সম্ভাব্য ট্র্যাজেডিকে সাফল্যে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করেছে, যার থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। তাঁর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।’
১৯৭০-এ চাঁদে পাড়ি দিয়েছিলেন জিম লোভেল। মোট চারবার মহাকাশ মিশনের অংশ ছিলেন তিনি। জেমিনি ৭, জেমিনি ১২, অ্যাপোলো ৮ এবং অ্যাপোলো-থার্টিন-এর ক্রু ছিলেন তিনি। অ্যাপোলো ৮ এবং অ্যাপোলো-থার্টিন-এর মাধ্যমে চাঁদে পাড়ি দেওয়া মানুষকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনেছেন তিনি। তবে দু’বার চাঁদে পাড়ি দিলেও একবারও চাঁদের মাটিতে পা রাখেননি লোভেল।
১৯২৮ সালে ক্লিভল্যান্ডে জন্ম এই মহাকাশচারীর। যদিও ৭০-এর দশকে লোভেলের মহাকাশ যাত্রা সহজ ছিল না। কেরিয়ারের শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিলেন লোভেল। ১৯৫৯ সালে নাসার মার্কারি সেভেন মহাকাশচারী নির্বাচন থেকে সাময়িকভাবে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল কারণ তার শরীরে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেশি ছিল, যা লিভারের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
যদিও ১৯৬২ সালে তার শারীরিক প্যারামিটার বদলায় এবং তিনি জেমিনি ও অ্যাপোলো প্রোগ্রামের জন্য নির্বাচিত হন।
জেমিনি ৭ এবং অ্যাপোলো ৮-এর মতো অভিযানের মাধ্যমে ইতিহাসে নিজের নাম লেখেন লোভেল। চাঁদের কক্ষপথে প্রথম ক্রু ছিলেন তিনি। তবুও, ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো-থার্টিন-কে বিপর্যয় থেকে বাঁচানোর ঘটনাই তাকে কিংবদন্তি করে তুলেছিল।
অ্যাপোলো-থার্টিন মিশনের মাঝপথে এক ভয়াবহ অক্সিজেন ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণ ঘটে মহাকাশযানে। ক্রুরা পৃথিবী থেকে ২০০,০০০ মাইল দূরে আটকা পড়ে। লোভেল এবং তার ক্রু-মেট জ্যাক সুইগার্ট এবং ফ্রেড হাইস প্রায় চার দিন ধরে হিমাঙ্কের তাপমাত্রা, খিদে এবং দ্রুত ক্ষয়ে যাওয়া লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমের সঙ্গে লড়াই করে পৃথিবীতে ফিরেছিলেন।
সুলতানা দিনা/