বিদেশি অপরাধীদের যুক্তরাজ্য থেকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও কঠোর করল ব্রিটেন সরকার। এখন থেকে কিছু নির্ধারিত দেশের অপরাধীদের আপিল শুনানির আগেই দেশে ফেরত পাঠানো যাবে। সম্প্রতি এই তালিকায় নতুন করে ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ মোট ১৫টি দেশকে যুক্ত করা হয়েছে। তবে ওই তালিকায় নেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাম। ফলে ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকরা আপাতত এ নিয়মের আওতায় পড়ছেন না।
গত সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র দপ্তর ‘এখন বহিষ্কার, পরে আপিল’ প্রকল্পে নতুন করে ১৫টি দেশকে যুক্ত করেছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব বিদেশি নাগরিক যুক্তরাজ্যে অপরাধ করে এবং যাদের আশ্রয় বা বসবাসের আবেদন বাতিল হয়ে গেছে, তাদের আপিল শুনানির সুযোগ না দিয়েই নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যাবে। তারা চাইলে নিজ দেশ থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে আপিলে অংশ নিতে পারবেন।
নতুন যুক্ত হওয়া ১৫টি দেশ হলো- ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, অ্যাঙ্গোলা, বতসোয়ানা, ব্রুনেই, বুলগেরিয়া, গায়ানা, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, লাটভিয়া, লেবানন, মালয়েশিয়া, উগান্ডা ও জাম্বিয়া। এর ফলে মোট ২৩টি দেশ এখন এই ‘আগে নির্বাসন, পরে আপিল’ নীতির আওতায় এসেছে।
ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াভেট কুপার বলেন, ‘বিদেশি অপরাধীরা যাতে আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করতে না পারে, সে জন্যই এই পরিবর্তন। অনেকেই বছরের পর বছর আপিলের অজুহাতে যুক্তরাজ্যে থেকে যান, এটা আর চলতে দেওয়া যাবে না।’
বর্তমানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারে ১০ হাজার ৭৭২ বিদেশি বন্দি রয়েছে, যা কারাবন্দিদের মোট ১২.৩ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে আলবেনিয়ার নাগরিক (১ হাজার ১৯৩ জন), তারপর আয়ারল্যান্ড (৭০৭ জন), ভারত (৩২০ জন) ও পাকিস্তান (৩১৭ জন)।
নতুন ১৫ দেশের বন্দিদের সংখ্যা মোট ৭৭৪ জন, যা বিদেশি বন্দিদের মধ্যে প্রায় ৭ শতাংশ। তবে এই তালিকায় বাংলাদেশ নেই। অর্থাৎ, বাংলাদেশি নাগরিকরা এখনো আপিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে থাকতে পারবেন।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, আরও দেশকে তালিকাভুক্ত করতে সরকার কাজ করছে।
এ ছাড়া বিচারমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সম্প্রতি আরও ঘোষণা দিয়েছেন, যেসব বিদেশি নাগরিক আদালত থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত হবেন, তাদের সাজা ঘোষণার পরপরই নির্বাসন দেওয়া হবে এবং তারা আর যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।
বিরোধী দলের নেতা রবার্ট জেনরিক সতর্ক করে বলেন, ‘কিছু দেশ হয়তো তাদের অপরাধী নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে তিনি ভিসা এবং বিদেশি সাহায্য বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন।’
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো ভারতীয় নাগরিক ব্রিটেনে অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে আপিল শুনানির আগেই তাকে প্রথমে নির্বাসিত করা হবে। অর্থাৎ, নির্বাসন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে সেই ব্যক্তি নির্বাসন বিলম্বিত করতে পারবেন না এবং তিনি ব্রিটেনে থাকতে পারবেন না।
সরকার বলছে, প্রতিবছর একেকটি কারাগারে গড়ে ৫৪ হাজার পাউন্ড খরচ হয়। তাই এই নীতির মাধ্যমে কারাগারের খরচ ও জননিরাপত্তা বৃদ্ধি- দুই-ই সম্ভব হবে।