একদিকে,আগামী সপ্তাহে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত আসছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। অপরদিকে, ২৫ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রতিনিধিদলের ভারত সফর করার কথা ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। ফলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা আপাতত স্থগিত। খবর রয়টার্সের।
পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র বনাম ভারতের বাণিজ্যযুদ্ধ একেবারে সরল সমাধানের পথে হাঁটছে না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তি নিয়ে আলোচনার বর্তমান পর্বটি অন্য কোনো সময় হতে পারে। ফলে ২৭ আগস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক স্থগিত বা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা আপাতত ভেস্তে গেল।
চলতি মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। ২৭ আগস্ট থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির শাস্তি হিসেবে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম সর্বোচ্চ হার।
শুল্ক ইস্যুতে টানাপোড়েনের মধ্যেই আলোচনার জন্য চলতি মাসেই মার্কিন এই প্রতিনিধিদের নয়াদিল্লি সফরের কথা ছিল। অবশ্য মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরের জন্য পরে নতুন তারিখ দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে বেশ কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
শনিবার (১৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানায়, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক ইস্যুতে টানাপোড়েনের মধ্যেই ২৫ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক দলের ভারত সফর বাতিল করা হয়েছে। তবে এই বৈঠক পরে নতুন তারিখে আয়োজন করা হতে পারে বলে শনিবার এনডিটিভিকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির একটি বড় বাধা হলো ভারতীয় কৃষি ও দুগ্ধখাতের বাজার যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকারের জোর দাবি। তবে ভারত বলছে, এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। দুধ আমদানির ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার কথাও বিবেচনা করছে ভারত।
ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘স্বদেশি’ পণ্যের ওপর জোর দেন এবং স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে কৃষক ও জেলেদের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের বার্তা দেন।
এদিকে, গত শুক্রবার আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হয়েছে। আশা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কের বরফ গললে ভারতের ওপর বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্কের চাপ কিছুটা হালকা হতে পারে।
তবে এই বৈঠক থেকে তেমন কোনও সমাধান আসেনি। যদিও ট্রাম্প-পুতিন আলোচনা ব্যর্থ হলে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আরও শুল্ক চাপাবে বলে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
গত বুধবার, ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট জানান, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে আমরা ইতোমধ্যেই ভারতের ওপর সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করেছি। যদি আলোচনার ফল ভালো না হয়, তাহলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা শুল্ক আরও বাড়তে পারে।
সুলতানা দিনা/