যুক্তরাষ্ট্রে আটক অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রথম দল বহনকারী বিমানটি ৪ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় ঢাকা পৌঁছাবে। বিমানটি অবতরণের জন্য ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নর্থইস্ট নিউজের খবর।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (CAAB) জারি করা নথি এবং বার্তা থেকে জানা যায়, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনির্দিষ্ট সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিককে বহনকারী একটি বোয়িং B777-200ER বিমান ৪ সেপ্টেম্বর হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।
গত ৩০ আগস্ট CAAB-এর জারি করা একটি পারমিটে (নং HQ2389) বলা হয়, কূটনৈতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নিম্নলিখিত বিবরণ অনুসারে পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বিমানটি অনুমোদিত ATS রুট অনুসরণ করবে। বোয়িং B777-200ER বিমানের একটি নির্দিষ্ট কল সাইন (OAE3602) থাকবে এবং এর টেইল নম্বর হবে N828AX এবং বিকল্প টেইল নম্বর হবে N819AX, N828AX এবং N846AX।
দূরপাল্লার বোয়িং B-777-200ER বিমানগুলো চওড়া আকৃতির এবং দুটি ইঞ্জিন বিশিষ্ট হয়ে থাকে। বোয়িং B777-200ER বিমানে সাধারণত তিন ধরণের আসনবিন্যাস রয়েছে- ৩১৪, ৩৯৬ এবং ৪৪০ জন।
প্রাথমিকভাবে সিএএবি বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ‘বিমানটি ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।’ তবে পরে পরিকল্পনা সংশোধন করে একদিন পর অবতরণের সময়সূচী পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া, বার্তাটিতে একথাও উল্লেখ করা আছে যে, ‘এই বিমানের উদ্দেশ্য হল যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশপ্রাপ্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসন করা।’
ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে এই অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। যদিও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীদের সঠিক সংখ্যা এবং তাদের মধ্যে কতজনকে এই যাত্রায় ফেরত পাঠানো হবে তা প্রকাশ করা হয়নি।
তবে, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই পদক্ষেপ সম্পর্কে অনেক আগেই অবহিত করে।
এছাড়া, বিষয়টি যাতে ওয়াশিংটন ডিসি এবং ঢাকার মধ্যে বিতর্কে পরিণত না হয়, সেজন্য এ বছরের মার্চ মাসে নিরাপত্তা সংস্থা ছাড়াও স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মকর্তাদের এই আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর সময় মার্কিন কর্তৃপক্ষের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ নিশ্চিত করা। এর মধ্যে ছিল, বাংলাদেশের মাটিতে অবতরণের আগে তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মার্কিন প্রশাসনকে এই অভিবাসীদের হাতকড়া পরানোর বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানান। যুক্তরাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয় যেন বাংলাদেশি নাগরিকদের হাতকড়া পরিয়ে ফেরত না পাঠানো হয়।
সুলতানা দিনা/