গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে ফ্রান্স। এই বাহিনী শুধু যুদ্ধকালীন নয়, যুদ্ধ শেষেও গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে। পরিকল্পনা অনুসারে তারা অবস্থান নেওয়ার পরপরই অবরুদ্ধ উপত্যকা থেকে বিদায় নিতে হবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে।
ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিষয়গুলো। প্রতিবেদনটিতে বলা হচ্ছে, বাহিনীটি জাতিসংঘ অনুমোদিত একটি ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা মিশন’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে খসড়া প্রস্তাবে। যুদ্ধবিরতির পর ওই বাহিনী গাজার দায়িত্ব নেবে এবং ধাপে ধাপে নিরাপত্তার দায়িত্ব ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কাছে হস্তান্তর করা হবে।
খসড়ায় মিসর, জর্ডান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারকে বাহিনীর নেতৃত্বে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি অনুকূল হলে দ্রুত একটি আঞ্চলিক নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী মিশন মোতায়েন করা সম্ভব। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজায় যুদ্ধ অবসানের একটি প্রস্তাব নিয়ে আরব নেতাদের সঙ্গে বসার কথা রয়েছে। সেখানেও এ রকম একটি বিষয় উঠে আসবে বলেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ফ্রান্সের এ পরিকল্পনার মূলভিত্তি গত জুলাইয়ে নিউইয়র্ক ঘোষণার মাধ্যমে হয়েছে। পুরোটা তৈরি করা হয়েছিল ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে। কাতার, মিসরসহ একাধিক আরব দেশ সেটিতে সমর্থন জানিয়েছিল।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই স্থিতিশীলতা মিশনের মূল লক্ষ্য হবে ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, ধাপে ধাপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পিএর কাছে হস্তান্তর করা, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র ও তার নিরাপত্তা বাহিনীকে সক্ষম করে তোলা এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ফ্রান্স বলছে, এ বাহিনীর অর্থায়ন আসবে গালফ রাষ্ট্রসহ স্বেচ্ছা দাতাদের কাছ থেকে। জাতিসংঘকে এর ব্যয়ভার টানতে হবে না। তবে প্রস্তাবে একটি সতর্কবার্তাও রয়েছে। বাহিনী যদি শুধু গাজায় সীমিত থাকে, তাহলে পশ্চিম তীর ও গাজার মধ্যে স্থায়ী বিভাজন তৈরি হওয়ার ঝুঁকি আছে। ফলে গোটা ফিলিস্তিনের জন্যই এটি চাইছে তারা। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল