ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন এআই ক্যামেরা বন্ধের পেছেন কি তবে ‘ইঁদুরের হাত’ অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশের’ মৃত্যু টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ৮০তম জন্মদিন ঘিরে ট্রাম্পের ভাগ্যে বড় পরিবর্তনের আভাস জ্যোতিষীদের ৯০ মিনিট খেলতে এখনও প্রস্তুত নন ইয়ামাল ৪৮ লাখ টাকা খরচ করে বিয়ে, ৯ দিন পর বিচ্ছেদ চাইলেন যুবক টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তুরস্কের হারে নকআউটে যুক্তরাষ্ট্র নওগাঁর আম আমদানি করতে চায় জাপান বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিল হাইতি টাঙ্গাইলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৫০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ হাজি দেশে আরও কমল স্বর্ণের দাম প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি আজ ‘লম্বা মেয়েদের’ প্রশংসা পাওয়ার দিন আনচেলত্তির সন্তুষ্টি, স্কটল্যান্ড ম্যাচেই ফিরছেন নেইমার কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁট: মানবিক সংকটে রোহিঙ্গারা রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ স্কটল্যান্ড কোচ ক্লার্ক শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট-শপিংমল বন্ধ

আল জাজিরার বিশ্লেষণ নতুন যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগের আশঙ্কায় ইরান

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:১১ পিএম
নতুন যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগের আশঙ্কায় ইরান
ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি বাজারের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় এক দশক পরে, রাশিয়া ও চীনের বিরোধিতা সত্ত্বেও পশ্চিমারা তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলো আবার কার্যকর করেছে। ২০১৫ সালের ইরানে পারমাণু চুক্তির ইউরোপীয় স্বাক্ষরকারীরা চুক্তিটির ‘‘স্ন্যাপব্যাক’’ প্রক্রিয়াটি সক্রিয় করার পরে রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বহাল হয়।

এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা, যা বিপর্যস্ত ইরানের অর্থনীতির সমস্ত ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে আগামী মাসগুলোতে দেশটির ৯ কোটিরও বেশি মানুষকে এর মূল্য দিতে হবে। এই নিষেধাজ্ঞাগুলি জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক এবং বেসামরিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োগ করা হবে।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ২৪শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে পরমাণু অস্ত্র তৈরির দাবি প্রত্যা্খ্যান করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক উদ্বেগ
অস্থির আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে অনেকের আশঙ্কা যে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র আরও সামরিক হামলা চালাতে পারে। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলো আবার কার্যকর হওয়ার ফলে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে আরও বৈধতা দিতে পারে একারণে যে, দেশ দুটো হামলা করে এমন অজুহাত দিতে পারে যে ইরান পরমাণু অস্ত্র নিয়ে জাতিসংঘের বিধি-নিষেধ মানছে না। এই হামলা যেকোনো সময় হতে পারে। খোদ ইরানিরাও এই হামলার আশঙ্কা করছেন।

গত জুনে এই দুটি দেশ ১২ দিন ধরে ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছিল, যাতে ১ হাজারেরও বেশি ইরানি প্রাণ হারিয়েছিল এবং বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছিল। সঙ্গে ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী, অধ্যাপক ও বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) শীর্ষ জেনারেলদেরকেও হত্যা করে ইসরায়েল। প্রাণে বেঁচে যান ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেসকিয়ান ও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনি।

অনেক ইরানি উদ্বিগ্ন যে ইসরায়েল এই নিষেধাজ্ঞাগুলিকে আবার হামলা করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, যেমনটি তারা জুনে বৈশ্বিক পারমাণবিক নজরদারি সংস্থার জারি করা প্রস্তাবটিকে যুদ্ধের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছিল, যা ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও জনসাধারণের মধ্যে উল্লাস এনেছিল।

নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বাজারে অর্থনৈতিক উদ্বেগ দেখা যায়। নিষেধাজ্ঞায় বিশ্ব থেকে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা ইরানের অর্থনীতিকে পিছিয়ে দিতে পারে, যা ইতোমধ্যেই ভঙ্গুর।

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে তেহরানের খোলা বাজারে প্রতি ইউএস ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়াল প্রায় ১.৩ মিলিয়ন বা ১৩ লাখে লেনদেন হয়।

এই হার রিয়ালের জন্য একটি সর্বকালের সর্বনিম্ন রেকর্ড, যা ইউরোপীয় শক্তিগুলো এক মাস আগে স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া চালু করার সময় প্রতি ডলারের বিপরীতে ১.০৬ মিলিয়ন ছিল।

তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে চীনা আমদানিকৃত বৈদ্যুতিক মোটর বিক্রেতা ৩৫ বছর বয়সী রুজবেহ বলেন, ‘‘পরিস্থিতি মোটেও স্থিতিশীল মনে হচ্ছে না। গত কয়েক বছরের মতোই, ডলার বাড়ার কারণে আমদানিকৃত পণ্য আরও দামি ও দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠবে।’’

তেহরানের কট্টরপন্থীরা জাতিসংঘের এই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে সন্তুষ্ট বলে মনে হচ্ছে, সম্ভবত এর অর্থ হলো সেই পারমাণবিক চুক্তির সমাপ্তি। তারা এক দশক ধরে এই পরমাণু চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে একে ‘‘সম্পূর্ণ ক্ষতি’’ বলে দাবি করেছিল।

গত সপ্তাহে ইরানের কট্টরপন্থী ৭০ জন এমপি অতি দ্রুত পরমাণু অস্ত্র তৈরির দাবি জানিয়ে ন্যাশনাল সুপ্রিম কাউন্সিলে চিঠি দিয়েছে। তারা চান না কোনোভাবে পশ্চিমাদের সঙ্গে পরমাণু বিষয়ে দেন-দরবার করতে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের অতি-রক্ষণশীল সদস্য এবং দীর্ঘদিনের ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সাঈদ জালিলি গত সপ্তাহে দেওয়া একটি বক্তৃতার ভিডিও অনলাইনে পোস্ট করেন, যেখানে তিনি পারমাণবিক চুক্তি এবং পশ্চিমের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের নিন্দা করেন।

তিনি কীভাবে এটি করবেন তা উল্লেখ না করেই বলেন, ‘‘আজ আমাদের শত্রুর অতিরিক্ত দাবিগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে হবে এবং তার আরও হুমকি প্রতিরোধ করতে হবে।’’

ইরানের বিচার বিভাগ শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা স্ন্যাপব্যাকের খবর নিয়ে অনলাইন কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছে এবং মিডিয়া আউটলেটগুলোকে সতর্ক করেছে যে তারা কোনো ধরনের লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তারা বলেছে, বেশ কিছু নাম প্রকাশ না করা ওয়েবসাইট ও টেলিগ্রাম চ্যানেলের বিরুদ্ধে ‘‘দাম বৃদ্ধি নিয়ে উস্কানিমূলক বিষয়বস্তু প্রকাশ করে সমাজের মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তাকে ব্যাহত করার’’ অভিযোগে মামলা শুরু করা হয়েছে।

রবিবার ইরানি সংবাদপত্রগুলিতে জনগণের উদ্বেগ প্রতিফলিত হয়েছে। সংস্কারপন্থী শার্গ (Shargh) দৈনিক পারমাণবিক চুক্তির ‘‘মৃত্যু’’-তে ব্যাঙ্গাত্মক শোক প্রকাশ করেছে এবং দেশের বৃহত্তম অর্থনৈতিক দৈনিক দোনিয়া-এ-একতেসাদ (Donya-e-Eqtesad) উল্লেখ করেছে যে মুদ্রাস্ফীতি ৪০ শতাংশের বেশি হওয়ায় তা ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

কাইহান (Kayhan), যার প্রধান সম্পাদক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কর্তৃক নিযুক্ত, পরিস্থিতিকে হালকা করার চেষ্টা করে দাবি করেছে। খামেনি গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ

যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (JCPOA- Joint Comprehensive Plan of Action) নামে পরিচিত পারমাণবিক চুক্তির একটি অংশ ছিল স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া, যা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখতে কঠোর সীমা লঙ্ঘন করলে শাস্তিস্বরূপ তৈরি করা হয়েছিল।

ইরান, চীন এবং রাশিয়া যুক্তি দিচ্ছে যে পশ্চিমারা এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে—যা ১৮ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা ছিল। কারণ ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প JCPOA থেকে সরে যান এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, যখন ইরান চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল।

তেহরান এর এক বছর পরে ধীরে ধীরে বিধিনিষেধগুলো লঙ্ঘন করতে শুরু করে, তবে দাবি করে যে তারা কখনই পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে চাইবে না।

কয়েক বছর ধরে একাধিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের পরে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৬০ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল—তবে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের হামলার অজুহাতে যেমন দাবি করেছিল, ইরান বোমা তৈরির কোনো চেষ্টা করেনি।

যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-কে বেশিরভাগ সাইটে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, ফলে ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ এবং এর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর সঠিক ক্ষতি এখনও অস্পষ্ট।

তেহরানের ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

সংকট এড়ানোর প্রচেষ্টা
ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় দেখে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহের অভিযোগে, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার তিন ইউরোপীয় মিত্র—ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য (E3)—চাপ প্রয়োগ করেছে এবং ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন বোঝাপড়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

স্ন্যাপব্যাক স্থগিত করার জন্য গত শুক্রবার চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তাদের পক্ষ থেকে আনা শেষ মুহূর্তের ভোট-ও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ জুন মাসে ইসরায়েল যখন ইরানে হামলা চালাচ্ছিল, তখন বলেছিলেন যে ইসরায়েল ইরানকে আক্রমণ করে পশ্চিমের স্বার্থে ‘‘নোংরা কাজ’’ করছে।

পশ্চিমারা একসময় যাকে ইরানের একজন বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকার করেনি, সেই আরাগচি (ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী) রবিবার বলেছেন যে পশ্চিমা দেশগুলো কূটনীতিকে ‘‘কবর দিয়েছে’’ এবং নিপীড়ন বেছে নিয়েছে।

তিনি এক্স-এ জোর দিয়ে বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনরুজ্জীবিত করা যায় না, এবং যোগ করেন যে ইরান মনে করে পারমাণবিক চুক্তির মূল ভিত্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) রেজোলিউশনটি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অক্টোবরে মেয়াদোত্তীর্ণ হবে।

চীন ও রাশিয়াও একই অবস্থানে ছিল বলে মনে হচ্ছে। এই তিনটি দেশ গত মাসে জোর দিয়েছিল যে এই পদক্ষেপের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

মস্কো শুক্রবার নিউ ইয়র্কে UNSC-এর বৈঠকে কঠোর বক্তব্য রেখেছিল, যেখানে তারা জানায় যে নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা ‘‘বাতিল এবং অকার্যকর’’ এবং তারা জাতিসংঘ সচিবালয়ের সঙ্গে ‘‘তাদের সম্পর্ক গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করবে’’ বলেও হুমকি দেয়।

গত বৃহস্পতিবার, রাশিয়া এবং ইরান ইরানে বেশ কয়েকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লি তৈরির জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলারের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন বছরের পর বছর ধরে ইরানি তেলের বৃহত্তম ক্রেতা থেকেছে এবং বিচ্ছিন্ন ইরানের কাছ থেকে বড় ছাড় উপভোগ করছে।

এখন দেখার বিষয়, এই দুটি বিশ্বশক্তি বা ইরানের সীমিত অন্য কোনো মিত্র দেশ ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের লেনদেন করে জাতিসংঘের দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে নিজেদের ফেলবে কি না।

‘যুক্তরাষ্ট্রের নীতি, ইসরায়েলের হাতে অর্পিত’
তেহরান-ভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আলি আকবর দারেইনি বলেছেন যে ইউরোপীয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ‘‘চরম শত্রুতা দেখিয়েছে’’ এবং পারমাণবিক বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT)-কে হত্যা করেছে।

তিনি সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নীতি ইসরায়েলের হাতে অর্পণ করেছে।

আকবর দারেইনি বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে অস্বীকৃতি জানালেও, খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক ও জায়নবাদীরা, যার মধ্যে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতও রয়েছেন, ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আগ্রাসী যুদ্ধে যোগ দিতে রাজি করাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি বলেন, ইরান বছরের পর বছর ধরে যেভাবে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলেছে, সেভাবেই কাজ করবে, তবে ইরানের কাছে অন্যান্য বিকল্পও রয়েছে, যেমন—IAEA-এর পারমাণবিক স্থাপনাগুলির পর্যবেক্ষণ বন্ধ করে দেওয়া, NPT থেকে বেরিয়ে যাওয়া, বা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার না করেই সমস্ত NPT প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন বন্ধ করা।

‘‘আমেরিকার প্রধান অগ্রাধিকার হলো চীনকে মোকাবিলা করা এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা। তা করার আগে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে শীর্ষে রেখে একটি নতুন আঞ্চলিক শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। এর প্রধান বাধা হলো ইরান, তাই তারা তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইরানকে দুর্বল ও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’’ সূত্র: আল জাজিরা

মাহফুজ/

 

অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞানীরা অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো বার্ড ফ্লুর এইচ৫ স্ট্রেইন শনাক্ত করেছেন।

শনিবার (২০ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির কৃষিমন্ত্রী। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসটি এখন বিশ্বের সব মহাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। 

কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি অভিবাসী সামুদ্রিক পাখি—ব্রাউন স্কুয়ার মধ্যে রোগটি পাওয়া গেছে। দেশটির জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা পরীক্ষার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ আরেকটি পাখি জায়ান্ট পেট্রেলের নমুনাতেও সম্ভাব্য সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে।

এর আগে, অস্ট্রেলিয়া ছিল একমাত্র মহাদেশ, যেখানে এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়নি। এই ভাইরাসটি হাঁস-মুরগি ও বন্য পাখির ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম।

কলিন্স বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর বিস্তার বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নয়, যদিও এটি হতাশাজনক। বর্তমানে কোনো ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা বা পোল্ট্রি খামারে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, এ ঘটনাটি উদ্বেগজনক এবং আমার সরকার রোগটির বিস্তার রোধে ব্যবস্থা নেবে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে হওয়া শান্তিচুক্তিটি নস্যাৎ করে দিতে পারেন।

লেবাননে সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হওয়ার খবরের মাঝেই এক নাটকীয় মন্তব্য সামনে এসেছে।

ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে একজন ‘যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ বলে প্রশংসা করেছেন।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কাছে কাতার কর্তৃক উপহার দেওয়া নতুন 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমান উন্মোচনের পর ট্রাম্প বলেন, "ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের দারুণ সম্পর্ক। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একজন যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং তার এই কৃতিত্ব পাওয়া উচিত।"

তবে অন্য এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কিছুটা রসিকতা ও সতর্কতার সুরে বলেন, "নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো, তবে আমাদের তাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তারা আমাকে সম্মান করে এবং আমি যা বলি তা শোনে।"

গত ১ জুন এক ফোনালাপে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং গালমন্দ করেছিলেন।

গোয়েন্দা সতর্কবার্তা ও যুদ্ধবিরতি:

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে যে, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেন। চলতি বছরের শেষে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে চান।

এদিকে, চরম উত্তেজনার মাঝেই গত শুক্রবার আমেরিকা ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধ রাখলেই কেবল তারা এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।

অন্যদিকে, সমস্যা সমাধানে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০০ এএম
কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের উপহার দেওয়া নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উন্মোচন করেছেন, যেটিকে তিনি 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' বলে অভিহিত করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) ওয়াশিংটনের ঠিক বাইরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে হ্যাঙ্গারের ভেতরে বিমানটি উন্মোচনের সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান উপহার পেয়ে উপসাগরীয় আমিরাতের প্রশংসা করেন তিনি।

তবে শত শত মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিমানটি উপহার দেওয়ায় নৈতিক, সাংবিধানিক এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, 'এই উপহার প্রত্যাখ্যান করা বোকামি। এটি যেকোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের চেয়ে বেশি দূরত্বে এবং দ্রুত গতিতে উড়তে পারে। বিমানটি আমার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে দান করা হবে।'

এতে আরও উদ্বেগ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ।

উল্লেখ্য, নতুন বিমানটি ৪ জুলাই ২৫০তম মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি ফ্লাইওভারে অংশ নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার প্রথম মেয়াদ থেকেই ১৯৯০-এর দশক থেকে ব্যবহৃত এই বিমানগুলো প্রতিস্থাপনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০৩ এএম
জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে করে ‘আমি বস’ মন্তব্যটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ মন্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কেবল রসিকতা করেছিলেন। নিজেকে অন্যদের ওপর কর্তৃত্বশীল হিসেবে বুঝাতে চাইনি।

অ্যাক্সিওস শো-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি শুধু মজা করছিলাম। বস হওয়ার চেষ্টা করিনি।’

তিনি জানান, মন্তব্যটি প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে, ফলে বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘সবাই কক্ষে বসে ছিলেন। আমি ঢুকে তাদের দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, ‘আমি বস’। এটি নিছক রসিকতা ছিল। কিন্তু বিষয়টি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমি শুধু মজা করার চেষ্টা করেছিলাম।”

গত বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী জি-৭ সম্মেলনের শেষ দিনের এক বৈঠকে প্রবেশের সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সে সময় অন্যান্য রাষ্ট্রনেতারা নিজ নিজ আসনে বসে ছিলেন। হঠাৎ ট্রাম্পের এ  মন্তব্যে উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারা উচ্চস্বরে হেসে ওঠেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মন্তব্যটিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছিলেন বলে মনে হয়। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্যে করে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কেমন আছেন?’ জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো আছি, ধন্যবাদ।’

এদিকে, ৮০তম জন্মদিন উদযাপনের পর ট্রাম্প ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনে ইরান, ইউক্রেন, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়, যেগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে।

জি-৭ জোটের সদস্য দেশগুলো পর্যায়ক্রমে সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। কানাডার কাছ থেকে এ বছরের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে ফ্রান্স, আর ২০২৭ সালে দায়িত্ব পাবে যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে ফ্রান্সের র‌্যামবুইয়েতে প্রথম জি-৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে সে সময় ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা একত্রিত হন। পরের বছর কানাডা যোগ দিলে জোটটি জি-৭ নামে পরিচিতি পায়। সূত্র: এনডিটিভি

খাদিজা রুমি/অমিয়/

তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৫০ এএম
তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে চরমভাবে ভেঙে পড়ল কূটনৈতিক সৌজন্যতা। সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক উন্মুক্ত শুনানিতে এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। একপর্যায়ে জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তাকে কড়া ভাষায় ‘চুপ থাকার’ নির্দেশ দেন ইসরায়েলি দূত।

বৈঠকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেনের পদত্যাগ দাবি করেন।

উল্লেখ্য, প্রমিলা প্যাটেনের তৈরি করা একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে যৌন সহিংসতার অভিযোগে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ড্যানন এই প্রতিবেদনটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রতি ইঙ্গিত করে ড্যানন বলেন, ‘ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্য মহাসচিবের যে মায়াজাল রয়েছে, আপনি তার কাছে নতি স্বীকার করেছেন।’

ড্যাননের এমন মন্তব্যের পর বৈঠকে উপস্থিত জাতিসংঘের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা ভেনেসা ফ্রেজিয়ার তীব্র আপত্তি জানান। তিনি মূলত সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ের প্রতিনিধি এবং আরেকটি পৃথক প্রতিবেদনের সংকলক (যেখানেও ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে)।

ফ্রেজিয়ার চিৎকার করে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ উত্থাপন করেন এবং ড্যাননকে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তার কাছে এর ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে বলেও দাবি করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইসরায়েলি দূত ড্যানন ফ্রেজিয়ারকে সরাসরি চুপ থাকার কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সদস্য রাষ্ট্র, আর আপনি জাতিসংঘের জন্য কাজ করেন। তাই এখন আপনি চুপ থাকবেন। আপনি এবং আপনার লজ্জাজনক প্রতিবেদন- উভয়ই চুপ থাকবে।’

মাল্টার সাবেক জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ভেনেসা ফ্রেজিয়ার চলতি সপ্তাহে মহাসচিব গুতেরেসের পক্ষে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয় যে, ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকেও বৈশ্বিক কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। ইসরায়েল ইতোমধ্যে এই প্রতিবেদনের তথাকথিত 'লজ্জার তালিকা' অ্যানেক্সে স্থান পেয়েছে।

গত মাসে প্রমিলা প্যাটেনের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ড্যানন এটিকে জাতিসংঘের ‘নতুন পতন’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি বছরের শেষে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের এই উভয় প্রতিবেদনেই ইসরায়েলের পাশাপাশি তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/