ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
৯০ মিনিট খেলতে এখনও প্রস্তুত নন ইয়ামাল ৪৮ লাখ টাকা খরচ করে বিয়ে, ৯ দিন পর বিচ্ছেদ চাইলেন যুবক টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তুরস্কের হারে নকআউটে যুক্তরাষ্ট্র নওগাঁর আম আমদানি করতে চায় জাপান বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিল হাইতি টাঙ্গাইলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৫০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ হাজি দেশে আরও কমল স্বর্ণের দাম প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি আজ ‘লম্বা মেয়েদের’ প্রশংসা পাওয়ার দিন আনচেলত্তির সন্তুষ্টি, স্কটল্যান্ড ম্যাচেই ফিরছেন নেইমার কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁট: মানবিক সংকটে রোহিঙ্গারা রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ স্কটল্যান্ড কোচ ক্লার্ক শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট-শপিংমল বন্ধ জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি বোয়ালমারীতে আলুবোখারা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন হাবিবুর পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানো অন্যতম চ্যালেঞ্জ মুখে হাত দিয়ে কথা বলে প্রথম লাল কার্ড দেখলেন প্যারাগুয়ের আলমিরন অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা জিতলেই নকআউটে জার্মানি গতির রাজা জর্ডান মরোক্কোর রেকর্ড ভেঙে দ্রুততম গোল প্যারাগুয়ের

গাজামুখী নৌবহরে ইসরায়েলি বাধা, যা বললেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪৭ এএম
গাজামুখী নৌবহরে ইসরায়েলি বাধা, যা বললেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজা অভিমুখী আন্তর্জাতিক নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকে দিয়েছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি নিন্দা জানান।

পোস্টে তিনি বলেন, ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরায়েলের বাধা দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানাই। এই জাহাজগুলো নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক এবং গাজার জন্য জীবন রক্ষাকারী মানবিক সরবরাহ বহন করছিল, তবুও তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে এবং জোরপূর্বক নির্যাতন করা হয়েছে।’

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘একটি মানবিক মিশনকে অবরুদ্ধ করে ইসরায়েল কেবল ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতিই নয়, বরং বিশ্বের বিবেকের প্রতিও চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে। এই ফ্লোটিলা অবরুদ্ধ মানুষদের জন্য সংহতি, সহানুভূতি এবং ত্রাণের আশার প্রতীক।’

তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলকে যাতে জবাবদিহির আওতায় আনা যায়, সেজন্য মালয়েশিয়া আইনানুগ উপায় ব্যবহার করবে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে। আমাদের জনগণের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা তাদের দায়মুক্তির সঙ্গে আপস করতে দেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের মৌলিক অধিকার এবং আকাঙ্ক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হবে, ততদিন মালয়েশিয়া তাদের পাশে থাকবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফিলিস্তিনকে জর্জরিত করে আসা অন্যায় ও দখলদারিত্বের অবসানের দাবিতে আমরা পিছপা হব না।’

আন্তর্জাতিক এই বহরটিতে ৪০টির বেশি ছোট-বড় জাহাজ এবং প্রায় ৫০০ অধিকারকর্মী রয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী বহরটিতে থাকা সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ একাধিক অধিকারকর্মীকে আটক করেছে।

এসজি/

ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে হওয়া শান্তিচুক্তিটি নস্যাৎ করে দিতে পারেন।

লেবাননে সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হওয়ার খবরের মাঝেই এক নাটকীয় মন্তব্য সামনে এসেছে।

ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে একজন ‘যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ বলে প্রশংসা করেছেন।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কাছে কাতার কর্তৃক উপহার দেওয়া নতুন 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমান উন্মোচনের পর ট্রাম্প বলেন, "ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের দারুণ সম্পর্ক। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একজন যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং তার এই কৃতিত্ব পাওয়া উচিত।"

তবে অন্য এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কিছুটা রসিকতা ও সতর্কতার সুরে বলেন, "নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো, তবে আমাদের তাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তারা আমাকে সম্মান করে এবং আমি যা বলি তা শোনে।"

গত ১ জুন এক ফোনালাপে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং গালমন্দ করেছিলেন।

গোয়েন্দা সতর্কবার্তা ও যুদ্ধবিরতি:

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে যে, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেন। চলতি বছরের শেষে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে চান।

এদিকে, চরম উত্তেজনার মাঝেই গত শুক্রবার আমেরিকা ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধ রাখলেই কেবল তারা এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।

অন্যদিকে, সমস্যা সমাধানে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০০ এএম
কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের উপহার দেওয়া নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উন্মোচন করেছেন, যেটিকে তিনি 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' বলে অভিহিত করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) ওয়াশিংটনের ঠিক বাইরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে হ্যাঙ্গারের ভেতরে বিমানটি উন্মোচনের সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান উপহার পেয়ে উপসাগরীয় আমিরাতের প্রশংসা করেন তিনি।

তবে শত শত মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিমানটি উপহার দেওয়ায় নৈতিক, সাংবিধানিক এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, 'এই উপহার প্রত্যাখ্যান করা বোকামি। এটি যেকোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের চেয়ে বেশি দূরত্বে এবং দ্রুত গতিতে উড়তে পারে। বিমানটি আমার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে দান করা হবে।'

এতে আরও উদ্বেগ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ।

উল্লেখ্য, নতুন বিমানটি ৪ জুলাই ২৫০তম মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি ফ্লাইওভারে অংশ নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার প্রথম মেয়াদ থেকেই ১৯৯০-এর দশক থেকে ব্যবহৃত এই বিমানগুলো প্রতিস্থাপনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০৩ এএম
জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে করে ‘আমি বস’ মন্তব্যটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ মন্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কেবল রসিকতা করেছিলেন। নিজেকে অন্যদের ওপর কর্তৃত্বশীল হিসেবে বুঝাতে চাইনি।

অ্যাক্সিওস শো-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি শুধু মজা করছিলাম। বস হওয়ার চেষ্টা করিনি।’

তিনি জানান, মন্তব্যটি প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে, ফলে বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘সবাই কক্ষে বসে ছিলেন। আমি ঢুকে তাদের দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, ‘আমি বস’। এটি নিছক রসিকতা ছিল। কিন্তু বিষয়টি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমি শুধু মজা করার চেষ্টা করেছিলাম।”

গত বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী জি-৭ সম্মেলনের শেষ দিনের এক বৈঠকে প্রবেশের সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সে সময় অন্যান্য রাষ্ট্রনেতারা নিজ নিজ আসনে বসে ছিলেন। হঠাৎ ট্রাম্পের এ  মন্তব্যে উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারা উচ্চস্বরে হেসে ওঠেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মন্তব্যটিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছিলেন বলে মনে হয়। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্যে করে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কেমন আছেন?’ জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো আছি, ধন্যবাদ।’

এদিকে, ৮০তম জন্মদিন উদযাপনের পর ট্রাম্প ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনে ইরান, ইউক্রেন, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়, যেগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে।

জি-৭ জোটের সদস্য দেশগুলো পর্যায়ক্রমে সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। কানাডার কাছ থেকে এ বছরের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে ফ্রান্স, আর ২০২৭ সালে দায়িত্ব পাবে যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে ফ্রান্সের র‌্যামবুইয়েতে প্রথম জি-৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে সে সময় ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা একত্রিত হন। পরের বছর কানাডা যোগ দিলে জোটটি জি-৭ নামে পরিচিতি পায়। সূত্র: এনডিটিভি

খাদিজা রুমি/অমিয়/

তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৫০ এএম
তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে চরমভাবে ভেঙে পড়ল কূটনৈতিক সৌজন্যতা। সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক উন্মুক্ত শুনানিতে এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। একপর্যায়ে জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তাকে কড়া ভাষায় ‘চুপ থাকার’ নির্দেশ দেন ইসরায়েলি দূত।

বৈঠকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেনের পদত্যাগ দাবি করেন।

উল্লেখ্য, প্রমিলা প্যাটেনের তৈরি করা একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে যৌন সহিংসতার অভিযোগে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ড্যানন এই প্রতিবেদনটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রতি ইঙ্গিত করে ড্যানন বলেন, ‘ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্য মহাসচিবের যে মায়াজাল রয়েছে, আপনি তার কাছে নতি স্বীকার করেছেন।’

ড্যাননের এমন মন্তব্যের পর বৈঠকে উপস্থিত জাতিসংঘের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা ভেনেসা ফ্রেজিয়ার তীব্র আপত্তি জানান। তিনি মূলত সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ের প্রতিনিধি এবং আরেকটি পৃথক প্রতিবেদনের সংকলক (যেখানেও ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে)।

ফ্রেজিয়ার চিৎকার করে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ উত্থাপন করেন এবং ড্যাননকে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তার কাছে এর ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে বলেও দাবি করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইসরায়েলি দূত ড্যানন ফ্রেজিয়ারকে সরাসরি চুপ থাকার কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সদস্য রাষ্ট্র, আর আপনি জাতিসংঘের জন্য কাজ করেন। তাই এখন আপনি চুপ থাকবেন। আপনি এবং আপনার লজ্জাজনক প্রতিবেদন- উভয়ই চুপ থাকবে।’

মাল্টার সাবেক জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ভেনেসা ফ্রেজিয়ার চলতি সপ্তাহে মহাসচিব গুতেরেসের পক্ষে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয় যে, ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকেও বৈশ্বিক কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। ইসরায়েল ইতোমধ্যে এই প্রতিবেদনের তথাকথিত 'লজ্জার তালিকা' অ্যানেক্সে স্থান পেয়েছে।

গত মাসে প্রমিলা প্যাটেনের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ড্যানন এটিকে জাতিসংঘের ‘নতুন পতন’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি বছরের শেষে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের এই উভয় প্রতিবেদনেই ইসরায়েলের পাশাপাশি তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁট: মানবিক সংকটে রোহিঙ্গারা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁট: মানবিক সংকটে রোহিঙ্গারা
ছবি: সংগৃহীত

জীবন বাঁচাতে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা নতুন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন। রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ইউথ কংগ্রেস রোহিঙ্গা’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নিবন্ধন না হওয়ায় নতুনরা প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য পাচ্ছেন না। ফলে তারা ক্যাম্পে থাকা স্বজনদের ওপর নির্ভর করছেন। তবে আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁটের কারণে সামগ্রিক ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী কমে যাওয়ায় ১০ লাখের বেশি মানুষের এই মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাটি এখন ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
‘ইউথ কংগ্রেস রোহিঙ্গা’ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত একটি রোহিঙ্গা যুব সংগঠন। এই সংস্থাটি মূলত শরণার্থী ক্যাম্পের ভেতরে রোহিঙ্গা তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে। 

গত বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারে ‘ফ্রম অ্যারাইভাল টু সারভাইভাল: কন্ডিশনস অব নিউলি অ্যারাইভাল রোহিঙ্গা রিফিউজিস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘ইউথ কংগ্রেস রোহিঙ্গা’ এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ফরটিফাই রাইটস’-এর সহায়তায় তারা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। সেমিনারে আঞ্চলিক গবেষক, মানবাধিকার কর্মী ও ‘ফর্টিফাই রাইটস’-এর আইনি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে ফর্টিফাই রাইটসের পরিচালক পুত্তানি কাংকুন প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

বিদেশি সংস্থাগুলোর তৈরি করা গতানুগতিক প্রতিবেদনের বাইরে গিয়ে এই প্রতিবেদনে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোর বাস্তব চিত্র এবং সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সবচেয়ে বেশি প্রধান্য দেওয়া হয়েছে।

‘ইউথ কংগ্রেস রোহিঙ্গা’র স্বেচ্ছাসেবী গবেষণা উপদেষ্টা হ্যালি রিটসেমা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সব সময় অন্যরা রোহিঙ্গাদের পক্ষে এবং রোহিঙ্গাদের নিয়ে কথা বলে। কিন্তু প্রায়ই এই আলোচনাগুলো থেকে রোহিঙ্গাদেরই বাদ দেওয়া হয়।’

তিনি জানান, সম্প্রতি আসা নতুন শরণার্থীরা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে তারা জীবনধারণের জন্য পুরোপুরি ক্যাম্পে আগে থেকে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের ব্যক্তিগত সহায়তার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁটের কারণে ক্যাম্পে আগে থেকে থাকা রোহিঙ্গাদের নিজেদেরই রেশন ও চিকিৎসাসামগ্রী কমে গেছে। ফলে নতুনদের সাহায্য করার এই অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটি এখন ভেঙে পড়ার মুখে পড়েছে।

সেমিনারে আলোচকরা সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নতুন শরণার্থীদের নিবন্ধনের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা না থাকায় এই সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে নীতিগত পরিবর্তন না আনলে নতুন আসা এই বিশাল জনগোষ্ঠী চরম দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বে। 

ফর্টিফাই রাইটসের অপর পরিচালক জন কুইনলি বলেন, ‘বাংলাদেশে যে নতুন শরণার্থীরা আসছেন, তাদের সহজে নিবন্ধন করার এবং সেবা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।’ বিশ্বজুড়ে দাতাদের আর্থিক সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ১০ লাখের বেশি মানুষকে টিকিয়ে রাখা মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাটি এখন ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘মানবিক সহায়তা ছাড়া শরণার্থীরা ক্যাম্পে বেঁচে থাকতে পারবে না।’ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠী উভয় পক্ষকেই জরুরি ভিত্তিতে তহবিল বাড়ানোর আহ্বান জানান।

গবেষকদের মতে, এই সংকটকে কেবল সীমান্ত সুরক্ষার একটি সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখলে ভবিষ্যতে আরও বড় মানবিক বিপর্যয় ঘটবে। ‘ইউথ কংগ্রেস রোহিঙ্গা’ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো নতুন আসা পরিবারগুলোর জন্য আইনি সুরক্ষা ও জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সরকার ও আন্তর্জাতিক দাতাদের দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

তারা জোর দিয়ে বলেন, মায়ানমারের ভেতরে রোহিঙ্গাদের ওপর চলা সামরিক সহিংসতা, নাগরিকত্বের অভাব এবং বাস্তুচ্যুতির মতো মূল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান না করা পর্যন্ত এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।

সূত্র: ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মা