রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গতকাল শুক্রবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বড় অংশ অন্ধকারে ডুবে যায়। ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল তারা। হামলার জেরে শহরের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, থেমে যায় দিনিপ্রো নদীর দুই পাড়কে সংযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো লাইনও।
ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার ফলে ৯টি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং প্রায় ছয় লাখ পরিবার সাময়িকভাবে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এক সাত বছরের শিশু নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন।
এ ছাড়া রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। মেট্রো বন্ধ থাকায় বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। পানি না থাকায় অনেকেই বোতল হাতে রাস্তায় থাকা বিভিন্ন বিতরণ কেন্দ্র থেকে পানি সংগ্রহ করেন।
কিয়েভের বাসিন্দা লিউবা বলেন, ‘রাত আড়াইটা থেকেই শুধু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সাড়ে ৩টার দিকে দেখি বিদ্যুৎ, গ্যাস-পানি কিছুই নেই।’ শীত আসার আগে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এখন রাশিয়ার প্রধান লক্ষ্য আমাদের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো। গরমের মৌসুম শুরু হওয়ার আগে তারা আমাদের দুর্বল করে ফেলতে চায়।’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এখন শুধু সমর্থন নয়, প্রয়োজন কার্যকরী পদক্ষেপ। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জরুরি হয়ে পড়েছে।’ এবার প্রথম নয়। এর আগের বছরগুলোতেও শীত আসার আগে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাতে দেখা গেছে রাশিয়াকে।
জেলেনস্কির দাবি, সর্বশেষ হামলায় রাশিয়া ৪৫০টির বেশি ড্রোন ও ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা ৪০৫টি ড্রোন ও ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রুশ বেসামরিক স্থাপনায় যেসব হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলোর জবাব হিসেবেই ওই আক্রমণ চালানো হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স।