দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নিয়েছে। গত সপ্তাহান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার পাশাপাশি দেশটিতে সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পরই এই কূটনৈতিক সংঘাত শুরু হয়।
কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ সোমবার জানিয়েছে, রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল গার্সিয়া-পেনা ইতোমধ্যে রাজধানী বোগোতায় পৌঁছেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। উল্লেখ্য, ট্রাম্প গত রবিবার প্রেসিডেন্ট পেত্রোকে ‘‘অবৈধ মাদক নেতা’’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
দুই দেশের মধ্যে এই ক্রমবর্ধমান বিবাদের কেন্দ্রে রয়েছে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু হামলা। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, এসব জাহাজে ভেনেজুয়েলা থেকে মাদক পরিবহন করা হচ্ছিল। এই হামলায় ডজনখানেক মানুষ নিহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে এই হামলা ব্যাপকভাবে আইন লঙ্ঘন বলে বিবেচিত এবং এ নিয়ে প্রেসিডেন্ট পেত্রো কঠোর সমালোচনা করেছেন।
ট্রাম্পের হুমকি ও কলম্বিয়ার প্রতিক্রিয়া
গতকাল রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে ট্রাম্প হুমকি দেন যে, কলম্বিয়ার প্রতি মার্কিন সাহায্য বন্ধ করা হবে। তিনি আরও বলেন, যদি পেত্রো দেশটিতে মাদক পাচার দমনে আরও পদক্ষেপ না নেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এই কাজ করবে, এবং সেটি ভালোভাবে করা হবে না।
কলম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরমান্দো বেনেদেত্তি সোমবার ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘‘কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে আগ্রাসন বা সামরিক পদক্ষেপের হুমকি’’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি কল্পনাও করতে পারি না যে, মাদক উৎপাদন সাইটের কিছু হেক্টর বন্ধ করে দেওয়া হবে, যদি না সেটা এমনভাবে হয়, যদি না সেটা আগ্রাসনের মাধ্যমে হয়।’’
সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহান্তে আরও ঘোষণা করে যে, তারা শুক্রবার কলম্বিয়ার একটি জাহাজে হামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, এটি মাদক পরিবহনে জড়িত একটি বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি।
প্রেসিডেন্ট পেত্রো একাধিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে এর জবাব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, হামলায় নিহতদের মধ্যে একজন আলেহান্দ্রো ক্যারানজা নামে কলম্বিয়ার একজন জেলে ছিলেন, যার মাদক পাচারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না। পেত্রো লেখেন, ‘‘মার্কিন সরকারি কর্মকর্তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং আমাদের আঞ্চলিক জলসীমায় আমাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে।’’
এই পরিস্থিতিতে কলম্বিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/