ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কাছে মিসাইলের সরঞ্জামসহ অস্ত্র সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত পাকিস্তানি নাগরিক মুহাম্মদ পাহলাওয়ানের নৌকা ধরতে অভিযান চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রথম শ্রেণীর স্পেশাল ওয়ারফেয়ার অপারেটর (বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নৌকমান্ডো) নাথান গেজ ইনগ্রাম এবং প্রধান স্পেশাল ওয়ারফেয়ার অপারেটর ক্রিস্টোফার চেম্বারস নিহত হন।
আরব সাগরের সোমালিয়ার উপকূলে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এই ঘটনা ঘটে। এদিন মার্কিন সামরিক বাহিনীর এ অভিযানে পালোয়ানকে তার ‘ইউনুস’ নামের মাছ ধরার নৌকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নৌকাটিতে ইরান-নির্মিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ, যুদ্ধজাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের উপাদান এবং একটি ওয়ারহেড পাওয়া যায়। মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানান, এগুলো ‘ইরান অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে সরবরাহ করা সবচেয়ে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার মধ্যে কয়েকটি।’
এ অভিযান পরিচালনার সময় দুই মার্কিন নেভি সিল অফিসার ক্রিস্টোফার চেম্বারস এবং নাথান গেজ ইনগ্রাম পানিতে পড়ে যান। এদিন মার্কিন নেভির বিশেষ যুদ্ধ কমান্ডের উচ্চতর প্রশিক্ষিত এই দুই সামরিক অপারেটর হেলিকপ্টার এবং ড্রোনের নজরদারির মধ্যেই সমুদ্রে ডুবে যান। ১০ দিন পর তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
পরে মাছ ধরার জাহাজের ক্যাপ্টেন পাকিস্তানি নাগরিক মুহাম্মদ পাহলাওয়ানকে ৪০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সেদিন সোমালিয়ার উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনী ৩৭ বছর বয়সী প্রধান বিশেষ যুদ্ধ অপারেটর ক্রিস্টোফার চেম্বারসকে প্রথমে জাহাজে ওঠার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে, বিশেষ এ অভিযান পরিচালনার সময় তিনি পা পিছলে সমুদ্রে পড়ে যান।
নিজেকে বাঁচাতে খুব বেশি কিছু করতে পারবেন না তা বুঝতে পেরেও, ২৭ বছর বয়সী স্পেশাল ওয়ারফেয়ার অপারেটর প্রথম শ্রেণীর নাথান গেজ ইনগ্রাম স্বেচ্ছায় তাকে উদ্ধার করতে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
অভিযান পরিচালনারা সময় এই কমান্ডোদের পরিহিত পোশাক এবং সঙ্গে থাকা অস্ত্রসহ ভারী সরঞ্জামের ওজনের কারণে তাদের কেউই জীবিত ফিরে আসতে পারেননি এবং তাদের মরদেহ কখনও উদ্ধার করা যায়নি।
এরপরই বাকি নেভি সিল সদস্যরা পাহলাওয়ানের নৌকায় ওঠেন, তখন তারা জাহাজে একটি যুদ্ধাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের উপাদান খুঁজে পান।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাপ্টেনের সাথে আরও ১৩ জন পাকিস্তানি ছিলেন যাদের তিনি অস্ত্র চোরাচালানের চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য ভাড়া করেছিলেন। তাদের দাবি, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) তাদের অস্ত্র পাচারের জন্য ২৫,০০০ পাউন্ড প্রদান করেছিল।
পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হওয়ার আগে বেঁচে থাকা সিল সদস্যরা তাদের সবাইকে USS লুইস বি. পুলারে নিয়ে যায়।
পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, মুহাম্মদ পাহলাওয়ান একজন অভিজ্ঞ চোরাচালানকারী এবং হুথিদের জন্য এর আগে দুবার এই ধরনের অস্ত্র চালানো সম্পন্ন করেছেন।
সুলতানা দিনা/