তুরস্কের জনপ্রিয় রিসোর্ট শহর বদরুমের কাছে এজিয়ান সাগরে একটি রাবার ডিঙি নৌকাডুবিতে কমপক্ষে ১৪ জন শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তুরস্কের প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মুগলা প্রদেশের গভর্নর কার্যালয় আজ শুক্রবার এক্স-এ জানিয়েছে, এই বিপর্যয়ের পর বেঁচে যাওয়া একজন আফগান ব্যক্তি সাঁতরে মূল ভূখণ্ডে ফিরে এসে গতকাল রাত ১টার কিছু পরে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন।
গভর্নরের কার্যালয় অনুসারে, ওই আফগান নাগরিক জরুরি পরিষেবাগুলোকে জানান যে রাবার বোটে করে ১৮ জন যাত্রা শুরু করেছিল, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই বোটটিতে জল ঢুকতে শুরু করে এবং তা ডুবে যায়।
তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল দ্বিতীয় একজন জীবিত ব্যক্তিকে খুঁজে পেয়েছে, যিনি সাঁতরে বদরুমের কাছে অবস্থিত কেলেবি দ্বীপে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
কার্যালয়টি আরও জানিয়েছে যে একটি হেলিকপ্টার ও একটি বিশেষজ্ঞ ডুবুরি দলের সহায়তায় চারটি কোস্টগার্ড বোট নিখোঁজ বাকি শরণার্থীদের সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।
সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য তুরস্কের উপকূল এবং নিকটবর্তী গ্রিক দ্বীপপুঞ্জ—সামোস, রোডস, ও লেসবস—এর মধ্যবর্তী পথটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দেশগুলোতে প্রবেশের অন্যতম পথ হিসেবে কাজ করে। এই পথটি সংক্ষিপ্ত হলেও অত্যন্ত বিপজ্জনক, যেখানে প্রায়শই শরণার্থী ও অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে যায় এবং বহু যাত্রী প্রাণ হারান।
গত এপ্রিলেও তুরস্ক ও লেসবসের মধ্যবর্তী সরু সমুদ্রপথটিতে দুটি নৌকাডুবিতে কমপক্ষে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর আগের বছর, তুরস্কের গোকচেয়াদা দ্বীপের কাছে একটি রাবার ডিঙি ডুবে শিশুসহ কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়েছিল।
অনিয়মিত অভিবাসন ন্যাটো সদস্য তুরস্ক ও গ্রিসের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি জটিল সমস্যা। গ্রিস প্রায়ই তুরস্কের বিরুদ্ধে যৌথ সীমান্ত এবং সমুদ্রে অভিবাসীদের অবাধে প্রবেশ করতে দেওয়ার অভিযোগ করে।
অন্যদিকে, তুরস্কও আথেন্সের (গ্রিস) বিরুদ্ধে শরণার্থী নৌকাগুলোকে অবৈধভাবে ‘পুশব্যাক’ (ঠেলে ফেরত পাঠানো) করার অভিযোগ করে আসছে। ২০১৬ সালে, আর্থিক সহায়তা এবং অন্যান্য সুবিধার বিনিময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন কমাতে আঙ্কারা (তুরস্ক) ইইউ-এর সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিল।সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/