মার্কিন সামরিক চাপের প্রেক্ষিতে রাশিয়া, চীন ও ইরানের কাছে সহায়তা চেয়েছে ভেনেজুয়েলা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এই তথ্য জানিয়েছে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নির্দিষ্ট কিছু অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী রামন ভেলাসকেজ গত অক্টোবরের শুরুতে মস্কো সফরকালে ওই চিঠিটি রুশ নেতৃত্বের হাতে তুলে দেন বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদুরো রাশিয়ার কাছে ভেনেজুয়েলার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, মস্কো থেকে কেনা বিমান সরঞ্জাম মেরামত ও ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্র সংগ্রহে সহায়তা চেয়েছেন।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট আরও জানায়, ভেলাসকেজ রাশিয়ার প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ডেনিস মানতুরভের কাছেও অনুরূপ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।
এছাড়া ভেনেজুয়েলা চীনের কাছেও ‘বিস্তৃত সামরিক সহযোগিতা’ চেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু রাডার ট্র্যাকিং সিস্টেমের উৎপাদন দ্রুততর করার বিষয়ও রয়েছে, যা পরে ক্রয় করার পরিকল্পনা করেছে দেশটি। একই সঙ্গে ভেলাসকেজ সম্প্রতি ইরান থেকে সামরিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে ড্রোন সরবরাহের বিষয়টি সমন্বয় করেছেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
এর আগে দ্য মায়ামি হেরাল্ড জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ভেনেজুয়েলার সামরিক স্থাপনায় হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পত্রিকাটি জানায়, এই হামলা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই, এমনকি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেও চালানো হতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ভেনেজুয়েলায় হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্তের কথা অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্প গত ৭ অক্টোবর ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের সব প্রচেষ্টা বন্ধের নির্দেশ দেন এবং সিআইএকে দেশটিতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করার অনুমোদন দেন। পরে ১৫ অক্টোবর তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, সিআইএকে ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে হত্যার চেষ্টা করার অনুমতি তিনি দিয়েছেন কি না—সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট মাদুরো একাধিকবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের ফলে তার দেশ গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে বড় আক্রমণের হুমকির মুখে পড়েছে। ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছে যে, ভেনেজুয়েলা সরকার মাদক পাচার রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এই অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে বড় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে।
এ অবস্থায় গত ২১ অক্টোবর রাশিয়ার সংসদের নিম্নকক্ষ ডুমা রাশিয়া-ভেনেজুয়েলা কৌশলগত অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি অনুমোদন করেছে। রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন সামরিক চাপের মধ্যে এই চুক্তি অনুমোদন ভেনেজুয়েলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
মাহফুজ/