ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সেনা পাঠাবে না সংযুক্ত আরব আমিরাত।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত এই শান্তি বাহিনীর গঠনতন্ত্র এবং আইনি কাঠামো এখনও স্পষ্ট নয় বলে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ। এএফপির খবর।
আবুধাবিতে আয়োজিত এক সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ এই কর্মকর্তা বলেন, “প্রস্তাবিত বাহিনীর কোনও স্পষ্ট কাঠামো দেখতে পাচ্ছে না সংযুক্ত আরব আমিরাত। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের এখানে যোগদানের সম্ভাবনা খুবই কম।”
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত সামগ্রিক যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজার নিরাপত্তায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে স্থিতিশীল বাহিনীর ম্যান্ডেট, যার মধ্যে এর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, বহু দেশ ইতোমধ্যেই প্রস্তাবিত বাহিনীতে সেনা পাঠাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যারা প্রয়োজনে হামাসের মোকাবিলা করবে।
তবে একান্ত বৈঠকে আরব কূটনীতিকদের বক্তব্য বিপরীত চিত্র তুলে ধরে। তারা বলছেন, বাস্তবে অনেক দেশই ওই বাহিনীতে যোগদানে অনিচ্ছুক। কারণ এতে অংশ নিলে হামাসের সঙ্গে তাদের সংঘাতে জড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, তুরস্ক এই বাহিনীতে যোগদানের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে এবং জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ জানিয়েছেন যে, জর্ডানের সেনারাও যোগ দেবে না।
তাছাড়া, একসময় অবদানকারী হিসেবে প্রস্তাবিত আজারবাইজান গত সপ্তাহে তুরস্কে একটি পরিকল্পনা সভায় যোগ দেয়নি এবং জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি না হলে তারা সেখানে অবদান রাখবে না।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী হামাসের অস্ত্রত্যাগের শর্ত থাকলেও নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে গোষ্ঠীটি।
সুলতানা দিনা/