ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন জোট দরিদ্র ও জনবহুল বিহার রাজ্যে সহজেই ক্ষমতা ধরে রাখতে যাচ্ছে—আজ শুক্রবারের ভোট গণনায় এমনটাই দেখা গেছে। গত বছরের জাতীয় নির্বাচনে হতাশাজনক ফলের পর এই জয় মোদির জন্য বড় ধরনের প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিহার ভারতের তৃতীয় সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য, যেখানে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের বসবাস। পাশাপাশি, এ রাজ্য থেকে লোকসভায় পঞ্চম সর্বোচ্চসংখ্যক সাংসদ নির্বাচিত হন। ফলে এই পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটির নিয়ন্ত্রণ কোনো দলের জন্যই হিন্দি বেল্টে শক্তি বাড়ায় এবং জাতীয় রাজনীতির ধারা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোদির ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) জোট ১২২টি আসনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা সহজেই পেরিয়ে ১৭০টির বেশি আসনে এগিয়ে ছিল।
এনডিটিভির সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জোটটি ২০৩টি আসনে এগিয়ে। অন্যদিকে কংগ্রেস জোটের ‘মহাগঠবন্ধন’ পেয়েছে মাত্র ৩৪টি আসন। অন্য স্বতন্ত্র ও স্বাধীন প্রার্থীরা পেয়েছেন মাত্র ৬টি আসন।
“বিহারের রায় স্পষ্ট!”—এক্স প্ল্যাটফর্মে লিখেছে মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। “মানুষ জানিয়ে দিয়েছেন—এখন উন্নয়নই পরিচয়। জঙ্গল রাজ নয়, প্রয়োজন সুশাসনের!”
গত বছরে জাতীয় নির্বাচনে সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো মোদি এবার বিহারের ফলাফলের মাধ্যমে বড় ধরনের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত পেলেন। সে সময় ক্ষমতায় থাকতে তাকে সহযোগী দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। এরপর থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচনে জিতে বিজেপি ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান পুনরুদ্ধার করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিহার ভোটে মোদির পক্ষে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ ছিল গত সেপ্টেম্বরে একটি কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় তিনি রাজ্যের লাখো নারীর কাছে ৭৫ বিলিয়ন রুপি (৮৫৩ মিলিয়ন ডলার) স্থানান্তর করা।
গত এক দশকে ভারতজুড়ে নারী ভোটারের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, আর রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের আকৃষ্ট করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আগে ভোটকেন্দ্রে পুরুষ ভোটাররা সংখ্যায় স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকতেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমিতাভ তিওয়ারি, যিনি ৬ ও ১১ নভেম্বর দু’দফায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের সময় বিহারজুড়ে ভ্রমণ করেছেন, বলেছেন যে এ বার “শুধু নারীরাই” মোদিকে গতবারের তুলনায় ভালো ফল এনে দিচ্ছেন।
তিওয়ারির সংস্থা ‘ভোটভাইব’-এর সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, নারী ভোটের ৪৮.৫ শতাংশই পেয়েছে মোদির জোট—প্রধান বিরোধী জোটের তুলনায় যা ১০ শতাংশেরও বেশি।
আগামী বছর আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাডুতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে শুধু আসামেই বর্তমানে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি
মাহফুজ/