ইসরায়েলের টানা দুই বছরের হামলায় গাজার ইতিহাস-ঐতিহ্যের বড় অংশই বিলীন হতে বসেছে। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে অটোমান আমল পর্যন্ত বিস্তৃত ২০ হাজারের বেশি বিরল প্রত্নবস্তু নিখোঁজ বা লুট হয়ে গেছে। ধ্বংস হয়েছে ৩১৬টিরও বেশি প্রত্নস্থল ও ঐতিহাসিক স্থাপনা।
গাজার সরকারী মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতেহ জানান, গাজার প্রত্নস্থল ধ্বংস করা, ফিলিস্তিনি পরিচয় মুছে ফেলার প্রচেষ্টা ইসরায়েলের সুস্পষ্ট নীতি।
৭০ শতাংশ ধ্বংস কাসর আল-বাশা
মামলুক আমলের ঐতিহাসিক প্রাসাদ কাসর আল-বাশা, যা ইউনেস্কোর ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত স্থাপনার অংশ, হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর একটি। গাজা সিটির পুরান এলাকায় অবস্থিত প্রাসাদটির প্রায় ৭০ শতাংশ অংশ এখন ধ্বংসস্তূপ।
ফিলিস্তিনি ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞ হামুদা আল-দাহদার জানান, ইসরায়েলি হামলার পর কর্মীরা এখনো ধ্বংসস্তূপ ঘেঁটে ছড়ানো প্রত্নবস্তু খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
আল-থাওয়াবতেহের অভিযোগ, এটা শুধু ধ্বংস নয়, ছিল পরিকল্পিত লুটপাট— যা আন্তর্জাতিক আইনে গুরুতর অপরাধ।
জাদুঘরে থাকা হাজার হাজার দুষ্প্রাপ্য নিদর্শন হামলার পর উধাও হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিটি নিদর্শনই ফিলিস্তিনের দীর্ঘ সভ্যতার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
১৯৯৪ সালে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা ছাড়ার পর প্রাসাদটি সংস্কার করে জাদুঘর হিসেবে খুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সর্বশেষ হামলায় আবারও প্রাসাদ ধ্বংস এবং প্রত্নবস্তু লুট হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ। পুরো উপত্যকাই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু
মেহেদী/