ইউক্রেনের দুটি বন্দরে রাশিয়ার হামলায় তুরস্কের তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাশিয়া ইউক্রেনের এই দুটি বন্দরে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা। রয়টার্সের খবর।
একজন জাহাজ মালিক জানান, এতে তুরস্কের মালিকানাধীন তিনটি জাহাজ বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি খাদ্য সরবরাহকারী জাহাজও রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ছবি পোস্ট করেছেন যাতে ওডেসা অঞ্চলের চোরনোমোর্স্ক বন্দরে একটি জাহাজে একটি বিশাল আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছে, যেখানে অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা আগুন নেভাচ্ছেন।
তিনি বলেন ‘এটি আবারও প্রমাণ করে যে রাশিয়ানরা কেবল কূটনীতির বর্তমান সুযোগটিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে নিতে ব্যর্থ হয়েছে, বরং ইউক্রেনের স্বাভাবিক জীবন ধ্বংস করার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।’
মস্কো ‘ইউক্রেনকে সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন করার’ হুমকি দেওয়ার কয়েকদিন পরেই রাশিয়া এ হামলা চালিয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।
গত সপ্তাহে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোতে ইউক্রেনের সামুদ্রিক ড্রোন হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিয়েভের দাবি, এগুলো রাশিয়ার প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের জন্য অর্থায়নের প্রধান উৎস।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগান পুতিনকে জানিয়েছিলেন যে, জ্বালানি সুবিধা এবং বন্দরগুলোর জন্য সীমিত যুদ্ধবিরতি লাভজনক হতে পারে। তার কয়েক ঘন্টা পর গত শুক্রবার এই হামলা চালানো হয়।
জাহাজটির মালিক, সেনক শিপিং, জানিয়েছে যে সেনক টি জাহাজটি ইউক্রেন সময় দুপুর ২টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) এর কাছাকাছি সময়ে আক্রমণের শিকার হয়েছিল। ক্রুদের মধ্যে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং ক্ষয়ক্ষতিও সীমিত ছিল।
ইউক্রেনের নৌবাহিনীর মুখপাত্র রয়টার্সকে জানান যে, মোট তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার সবকটিই তুরস্কের মালিকানাধীন। তবে মুখপাত্র অতিরিক্ত বিবরণ দেননি।
এছাড়া, তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চোরনোমোর্স্ক বন্দরে ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, এবং আরও জানিয়েছে যে, তুরস্কের কোনও নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
সুলতানা দিনা/