ইরান ২০২৫ সালে রেকর্ডসংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। এ সংখ্যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, এ বছর অন্তত ১ হাজার ৯২২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান সরকার, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর এই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।
ইরানের বিচার বিভাগীয় প্রধান গোলাম-হোসেন মোহসেনি-এজেই ঘোষণা করেছিলেন যে, সন্দেহভাজন গুপ্তচরদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পর পরই ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করার অভিযোগে একের পর এক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতে থাকে। গত ২০ ডিসেম্বর আঘিল কেশভারজ নামে ২৭ বছর বয়সী এক স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষার্থীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বাহ্যিক যুদ্ধের দুর্বলতা ঢাকতে এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমাতে ইরান সরকার মৃত্যুদণ্ডকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। ন্যাশনাল কাউন্সিল অব রেজিস্ট্যান্স অব ইরানের মুখপাত্র কামরান দালির দেশটিকে একটি ‘বারুদের স্তূপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী ও আন্দোলনকারীদের মনে ভয় ধরাতেই মূলত এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মৃত্যুদণ্ড বৃদ্ধির এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ইরান চরম অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত। মার্কিন ও ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে ইরানি রিয়ালের মান রেকর্ড নিচে নেমে গেছে। পাশাপাশি তীব্র খরা, পানীয় জলের অভাব এবং ভয়াবহ বায়ুদূষণের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফ।
তবে এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, দেশটিতে ইসরায়েলের হয়ে একটি শক্তিশালী চক্র গোয়েন্দাবৃত্তি করছে। ফলে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের কয়েক ডজন শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী, অধ্যাপক, সামরিক কর্মকর্তাকে নিখুঁতভাবে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে ইসরায়েল। হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়াকেও তেহরানের একটি হোটেলে হামলা করে হত্যা করেছে মোসাদ। এমনকি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও ব্যক্তিবর্গের ঠিকানাও এই চক্র ইসরায়েলের হাতে সরবরাহ করছে।