ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিসহ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে চলমান সহিংস বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন জায়গায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের মোটরসাইকেল, রাষ্ট্রীয় টিভি ভবন, গভর্নর অফিস ও সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবিতে আগুন ধরিয়ে দেন।
জানা গেছে, এই বিক্ষোভ দমন করতে ইরানে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। যদিও পেজেশকিয়ান সরকার এখন পর্যন্ত এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি।
রেজা পাহলভির আহ্বানে গত বৃহস্পতিবার রাস্তায় নেমে আসেন মানুষ। এ সময় তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
রেজা পাহলভি ক্ষমতাচ্যুত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির জ্যেষ্ঠ পুত্র। যিনি দেশটির ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে তার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের বেশিরভাগ সময় ওয়াশিংটন ডিসিতে নির্বাসনে কাটিয়েছেন।
সেখানে তিনি ইরানের জন্য ইরানে উদার গণতন্ত্রকে সমর্থন করে আরও ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের পক্ষে কথা বলছেন। তিনি তার দেশে ভবিষ্যতের সরকারের প্রকৃতি নির্ধারণের জন্য ইরানে একটি অবাধ গণভোটের পক্ষে কথা বলেন।
পাহলভি এর আগেও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং এর অপসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইরানকে পশ্চিমা বিশ্ব এবং ইউরোপের মিত্র হওয়ার পক্ষেও কথা বলে আসছেন।
এদিকে, ইরানের বিরোধী দলীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
রাজধানী তেহরানে পুলিশের মোটরসাইকেল ছাড়াও ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলায় নিহত হওয়া ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির ছবি সম্বলিত বিশাল একটি বিলবোর্ডে আগুন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবিতেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে প্রথমে আন্দোলন শুরু করেন। যা টানা ১২দিন ধরে চলছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সহিংস বিক্ষোভ তীব্র হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিক্ষোভের সহিংসতায় অন্তত ৪০ জন নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছে।
সুলতানা দিনা/