দ্য জেরুজালেম পোস্টসহ ইসরায়েলের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কট্টরপন্থী এক রিপাবলিকান সিনেটরের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী হস্তক্ষেপের তালিকায় ছিল ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন এই তথ্য জানা গেছে।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানজুড়ে চলা বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ‘কিছু হস্তক্ষেপের’ কথা বিবেচনা করছে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েল বিশ্বাস করে, কিছুদিন আগে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অপহরণ করার ঘটনাটি সম্ভবত এটিই নির্দেশ করে যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ঝুঁকির মাত্রা এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এছাড়া, রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ফক্স নিউজে ‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন’ লেখা বেসবল হ্যাট পরে উপস্থিত হওয়ার পর এই প্রতিবেদনটি সামনে আসে। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি প্রার্থনা ও আশা করি ২০২৬ সাল হবে সেই বছর, যখন আমরা ইরানকে আবার মহান করে তুলব।’
দক্ষিণ আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ঠিক আগে,চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘ইরানে বিক্ষোভ চলাকালীন সরকার যদি কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়ে যায়, তবে ইরানিদের ‘উদ্ধার’ করতে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে।’
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘ইরান যদি তাদের চিরচেনা প্রথা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। আমরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এবং প্রস্তুত। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ!’
ট্রাম্পের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক মাইক পম্পেও গত সপ্তাহে মাদুরোর পতন এবং ইরানের মধ্যে তুলনা টেনেছেন।
মাইক পম্পে এক্সে লিখেছেন, ‘মাদুরো যখন নিউইয়র্কের পথে, ভেনিজুয়েলার জনগণের এখন স্বাধীনতার এক বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এখন এমন এক ব্যক্তির বিচার করতে পারবে যে আমাদের মারার জন্য মাদক পাচার করত। আমি প্রার্থনা করি ইরানি নেতারা—যারা মাদুরোকে সমর্থন দিয়ে আসছিল—তারাও যেন শীঘ্রই মহান ইরানি জনগণের ক্ষতি করতে অক্ষম হয়ে পড়ে।’
ভেনিজুয়েলায় বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের এই মানসিকতা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আতঙ্কিত করেছে। এই মার্কিন নেতা কিউবা, কলম্বিয়া এবং মেক্সিকো তার পরবর্তী তালিকায় থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আরেকদিকে, ইসারায়েলের প্রাধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ’ইসরায়েল সরকার, ইসরায়েল রাষ্ট্র এবং আমার নিজস্ব নীতি—আমরা ইরানি জনগণের সংগ্রাম এবং তাদের মুক্তি, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি। এটি বেশ সম্ভব যে আমরা এমন এক মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে আছি যখন ইরানি জনগণ তাদের ভাগ্য নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছেন।’
সুলতানা দিনা/