চীন তাদের ভিসা-মুক্ত ভ্রমণনীতির তালিকায় যুক্তরাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে এখন থেকে ব্রিটিশ নাগরিকরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মতোই ভিসা ছাড়াই চীন ভ্রমণের সুবিধা পাবেন।
নতুন এই নীতির আওতায় যুক্তরাজ্য থেকে চীনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সফরের মেয়াদ ৩০ দিনের কম হলে ভিসার প্রয়োজন হবে না। ২০১৮ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র পর প্রথমবারের মতো কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্যার কিয়ার স্টারমারের চীন সফরের সময়ই এই ঘোষণা দেওয়া হলো।
বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কিয়ার স্টারমার বলেন, “বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে চীনে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ খুঁজে আসছিলেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা। আমরা সেই পথ সহজ করে দিচ্ছি, যার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য শিথিল ভিসা নীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি আমাদের ব্যবসায়ীদের বিদেশে কার্যক্রম বাড়াতে সহায়তা করবে এবং দেশে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।”
বর্তমানে ব্রিটিশ নাগরিকদের গণপ্রজাতন্ত্রী চীনে প্রবেশের জন্য ভিসার প্রয়োজন হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন তাদের ভিসা-মুক্ত তালিকায় প্রায় ৫০টি দেশকে যুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া, সৌদি আরব ও ওমান।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও ব্যবসার সুযোগ
নতুন নীতির আওতায় পর্যটন ও ব্যবসা উভয় উদ্দেশ্যেই সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত বিনা ভিসায় চীনে অবস্থান করা যাবে। যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উভয় দেশ একটি ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’ বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে একমত হয়েছে, যার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সেবা চুক্তি করা সম্ভব কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।
ভিসা সংক্রান্ত এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে এইচএসবিসি, কেপিএমজি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মতো বড় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য সচিব পিটার কাইল বলেন, “আইন, অর্থায়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের মতো সেবাক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির বিশাল সুযোগ রয়েছে, যেখানে বর্তমানে চীনের সঙ্গে আমাদের রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম। সে কারণেই এই সফরে শীর্ষস্থানীয় ব্রিটিশ কোম্পানির পাশাপাশি উদীয়মান উদ্যোক্তা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরাও আমাদের সঙ্গে রয়েছেন, যাতে ব্রিটেনের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করা যায়।”
শি জিনপিং ও কিয়ার স্টারমারের বৈঠকের পর চীনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে—উভয় দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজ করা উচিত। ব্রিটিশ সরকার, সংসদ সদস্য ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি, যাতে তারা দেশটি সম্পর্কে ‘নির্ভুল ও বাস্তবসম্মত ধারণা’ নিতে পারেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের জন্য একতরফা ভিসা-মুক্ত প্রবেশের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় নিতে আগ্রহী চীন।
ইতিবাচক আলোচনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী স্টারমার হংকংয়ে ব্রিটিশ নাগরিক জিমি লাইয়ের আটকাদেশ এবং উইঘুর মুসলিমদের প্রতি চীনের আচরণের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোও প্রেসিডেন্ট শির সামনে তুলে ধরেছেন বলে নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সরকার। সূত্র: স্কাই নিউজ, বিবিসি
মাহফুজ/