মধ্য সুদানের একটি জনাকীর্ণ বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) একটি মানবাধিকার গোষ্ঠী জানায়, সেনাবাহিনী এবং তাদের আধাসামরিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ভূখণ্ড দখলকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘর্ষের মধ্যেই এই বিমান হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলাটি সুদানের কর্দোফান অঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় সংঘটিত হয়, যা বর্তমানে সেনাবাহিনী এবং র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস-এর (আরএসএফ) মধ্যে তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধের অন্যতম ভয়াবহ সম্মুখভাগ হিসেবে পরিচিত।
সংঘাতে নৃশংসতা পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন ইমার্জেন্সি লয়ার্স জানিয়েছে, রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) উত্তর কর্দোফানের সোদারি শহরের বাইরে আল-সাফিয়া বাজারে একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়।
সংগঠনটি জানায়, হামলার সময় বাজারটি নারী, শিশু ও বয়স্কসহ বেসামরিক লোকজনের ভিড়ে পরিপূর্ণ ছিল। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে সে বিষয়ে কোনো পক্ষকে দায়ী করা হয়নি।
সোদারি একটি প্রত্যন্ত শহর, যেখানে মরুভূমির বাণিজ্য পথগুলো মিলিত হয়েছে। এটি উত্তর কর্দোফান রাজ্যের রাজধানী এল-ওবেইদ থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। শহরটি কয়েক মাস ধরে আরএসএফ-এর অবরোধ প্রচেষ্টার মুখে রয়েছে।
দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম যোগাযোগ করিডোরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই চলায় কর্দোফান অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে মারাত্মক ড্রোন হামলার ঘটনা বেড়েছে। এই করিডোর পশ্চিমের আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত দারফুর অঞ্চলকে এল-ওবেইদের মাধ্যমে সেনা-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী খার্তুম এবং দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যুক্ত করে।
অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় উভয় পক্ষের হামলায় বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত শহর ও গ্রামগুলোতে।
গত বুধবার একটি স্কুলে হামলায় দুই শিশু নিহত এবং অন্তত এক ডজন আহত হয়। একই সময়ে দুর্ভিক্ষ-ত্রাণ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত জাতিসংঘের একটি গুদামও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত বছর দারফুরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার পর আরএসএফ তেল ও সোনাসমৃদ্ধ কর্দোফান অঞ্চল হয়ে পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে, যার লক্ষ্য সুদানের কেন্দ্রীয় করিডোর দখল করা।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে সংঘাত কার্যত দেশটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। সেনাবাহিনী কেন্দ্র, উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, আর আরএসএফ পশ্চিমাঞ্চল এবং তাদের মিত্রদের সঙ্গে দক্ষিণের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। - আরব নিউজ
অমিয়/