ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা: সংসদে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ ‘লেগাসি’ ব্যাজ পরে মাঠে নামলেন রোনালদো, মেসি ও মদ্রিচ গ্রুপসেরার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সিন্ডিকেট বিলুপ্তিসহ ৭ দাবি চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে পুলিশ দম্পতির নির্যাতন আমানত ফিরে পাওয়ার দাবিতে চট্টগ্রামে ‘রোডমার্চ’ ময়মনসিংহ বিভাগ: নীরবে বাড়ছে এইচআইভির বিস্তার বরিশালে ভুয়া ভাড়ার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক নীলিমাইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ নদী খননের মাটির নিচে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পশুর শিংয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম কসাইয়ের ‘এইভাবে পইড়া থাকলে বাচ্চা দুইডা মইরা যাইব’ ছড়িয়ে পড়ছে এইডস: আক্রান্ত তরুণ ও শিক্ষার্থীরা কালীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু আছে, তবু খেয়া পারাপার ১৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৮ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রথম জয়ের খোঁজে… বসনিয়া চ্যালেঞ্জ সুইসদের ১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি কানাডার সামনে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো
Nagad desktop

ইসরায়েলের সঙ্গে ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে ভারত

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
ইসরায়েলের সঙ্গে ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে ভারত
জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জেরুজালেম সফরকে ঘিরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলোর আর্থিক পরিমাণ চোখধাঁধানো হতে পারে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব চুক্তির পরিমাণ ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। 

২০২৩ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই আলোচনা এগোচ্ছে, যেখানে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। একইসঙ্গে মে ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাত নয়াদিল্লির ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সাইবার যুদ্ধ সক্ষমতার দুর্বলতা স্পষ্ট করে তোলে।

ইসরায়েলের বহুস্তরবিশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চারটি প্রধান উপাদান নিয়েই সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনা চলছে। এগুলো হলো—ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ-এর অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাফায়েলের ডেভিড’স স্লিং ও আয়রন ডোম, এবং রাফায়েল ও এলবিটের যৌথ আয়রন বিম। বিশেষ করে আয়রন ডোম ও আয়রন বিম নিয়ে ভারতের বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি নিশ্চিত করেনি বা ঘোষণা দেয়নি।

বর্তমানে ভারত রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইসরায়েলের সহযোগিতায় তৈরি আকাশ ও বারাকভিত্তিক সিস্টেম এবং কিউআরএসএএম ব্যবহার করছে। ইসরায়েল শুধু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ নয়, বরং হুমকি শনাক্তকরণ ও বহুমাত্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয় উন্নত করতেও সহায়তা করতে পারে।

এসব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারত দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, মাঝারি পাল্লার রকেট ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, এবং স্বল্পপাল্লার রকেট মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন করবে।

ড্রোন যুদ্ধের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—দুই ক্ষেত্রেই চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন ইসরায়েলি কোম্পানি এ খাতে উচ্চপর্যায়ে প্রতিযোগিতা করছে এবং নানা ধরনের সমাধান প্রস্তাব দিচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানি এলবিট সিস্টেমের হারমেস ৯০০ ড্রোন নিয়ে বড় একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ক্ষেত্রেও একাধিক সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে চুক্তি হয়েছে বলেও জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাফায়েলের স্পাইস গাইডেন্স কিটসহ ১০০০ বোমা, এলবিটের র‍্যাম্পেজ আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, আইস ব্রেকার নৌ-ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং আইএআই-এর সুপারসনিক এয়ার লোরা ক্ষেপণাস্ত্র।

আরও পড়ুন: ৮.৭ বিলিয়ন ডলারে ইসরায়েলের কাছ থেকে ১ হাজার ‘স্পাইস বোমা’ কিনছে ভারত

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাগালের বাইরে থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে চান মোদি।

ইসরায়েলি অস্ত্রের ৩৪ শতাংশ ক্রেতা ভারত

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২০২৪ সময়ে ইসরায়েলের মোট অস্ত্র বিক্রয়ের ৩৪ শতাংশই কিনেছে ভারত। বহু বছর ধরেই ভারত ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ক্রেতা।

একই সময়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারতে মোট অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ২০১২-২০১৭ সময়কালে দুই দেশের প্রতিরক্ষা বিক্রি বহুগুণে বেড়ে যায় এবং ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে, যখন জেরুজালেম নয়াদিল্লির কাছে নৌবাহিনীর জন্য বারাক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রি করে।

২০১৭-২০২৩ সময়ে বাজার শক্তিশালী থাকলেও মোদির ‘মেইড ইন ইন্ডিয়া’ নীতির কারণে কিছুটা শীতলতা দেখা দেয়।

তবে ২০২৪ সাল নাগাদ ইসরায়েল ভারতে সরাসরি বিনিয়োগ বাড়াতে শুরু করে এবং অনেক প্রতিরক্ষা কোম্পানি সেখানে সহায়ক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে।

ক্রয় ও যৌথ শিল্প অংশীদারত্বের মিশ্র মডেলে প্রতিরক্ষা উৎপাদন এগিয়ে নেওয়া, ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংঘাত —এসব কারণে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবারও উল্লম্ফন দেখা গেছে এবং ২০২৬ সালে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোদির সফরের অংশ হিসেবে সাইবার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও এমনকি কোয়ান্টাম প্রযুক্তি নিয়ে একাধিক যৌথ উদ্যোগ শুরুর সম্ভাবনাও রয়েছে।

জেরুজালেমে নতুন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চুক্তি ঘোষণা

আজ বৃহস্পতিবার জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৬টি অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর তদারকি করেন।

কৃষি, ভূ-ভৌতিক অনুসন্ধান, ঐতিহ্য, বিজ্ঞান, শিক্ষা, অর্থনীতি, সাইবার, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিনিধিরা এবং ইসরায়েলে ভারতের রাষ্ট্রদূত জে.পি. সিং।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে ৫০ হাজার ভারতীয় কর্মী নিয়োগের বিষয়টিও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, “আমাদের চিন্তা ও হৃদয়ের যে মিলন এখানে হয়েছে, তা সরকার-টু-সরকার সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে। এটি দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ছিল এবং উভয় দেশের পাশাপাশি মানবজাতিরও উপকার বয়ে আনবে।”

মোদি জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত রূপ শিগগিরই দেওয়া হবে। প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উন্নয়ন, উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরেও দুই দেশ কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বৈঠকের আগে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ জেরুজালেমে মোদিকে স্বাগত জানান এবং প্রেসিডেন্টের বাসভবনে বন্ধুত্ব, বিকাশ ও যৌথ ভবিষ্যতের প্রতীক হিসেবে একটি ওক গাছ রোপণ করেন।

ইসরায়েলি পার্লামেন্টে ভাষণ দেন নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

দুই নেতা একান্ত বৈঠকও করেন, যেখানে হারজগ ইসরায়েলের প্রতি মোদির সমর্থন ও বন্ধুত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

বৃহস্পতিবারের শুরুতে নেতানিয়াহু ও মোদি জেরুজালেমের ইয়াদ ভাশেম হলোকাস্ট জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং ‘হল অব নেমস’ থেকে সফর শুরু করেন।

পরিদর্শন শেষে এক স্মরণানুষ্ঠান হয়, যেখানে মোদি হলোকাস্টে নিহতদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও স্মৃতিস্তম্ভে একটি পাথর স্থাপন করেন।

এক্স-এ দেওয়া পোস্টে মোদি লিখেছেন, “হলোকাস্ট মানবজাতির ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর একটি। এটি মানবতা, মর্যাদা ও শান্তি রক্ষার চিরন্তন প্রয়োজনীয়তার স্মারক।”

নেসেটে ভাষণ দেওয়া প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদি

গতকাল বুধবার ইসরায়েলে পৌঁছান মোদি এবং ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি অনিশ্চিত বিশ্বে ভারত-ইসরায়েল বন্ধুত্বকে শক্তির উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন এবং উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে একসঙ্গে কাজ করে সম্পর্ক আরও জোরদারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “অনিশ্চিত বিশ্বে ইসরায়েল ও ভারতের বন্ধুত্ব শক্তির উৎস হয়ে আছে।”

এই ভাষণের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলের পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখলেন। রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে দেশটিতে অবতরণের কিছুক্ষণ পরই ভাষণটি অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

মাহফুজ/

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্য নিয়ে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রস্তুত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন এই খসড়া চুক্তির একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছে।

ফ্রান্সে চলমান জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া একজন কূটনীতিক এবং আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আরও দুটি কূটনৈতিক সূত্র এই খসড়া দলিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই খসড়াটি চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকের প্রকৃত রূপ নয়। অন্যদিকে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এই ফাঁসের ঘটনাকে ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

এই খসড়া চুক্তি অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত নথিতে স্বাক্ষর করবেন। তার আগে গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটালভাবে এই খসড়া চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এই স্মারককে একটি ‘রাজনৈতিক দলিল’ হিসেবে অভিহিত করে এর গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্দার আড়ালে যে মূল প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা এই নথিতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

খসড়া চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে দুই দেশ এবং তাদের মিত্রদের মধ্যকার যুদ্ধ অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে শেষ হবে। দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবে।

চুক্তির আওতায় স্বাক্ষর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান মাইন অপসারণসহ সব প্রযুক্তিগত বাধা দূর করবে। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চল থেকে তার সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। এ ছাড়া ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সহযোগীরা অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল নিশ্চিত করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের ওপর থাকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ে ইরান যাতে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানি করতে পারে, সে জন্য মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র বা ওয়েভার ইস্যু করবে। একই সঙ্গে ইরানের ফ্রিজ বা আটকে থাকা সব তহবিল ও সম্পদ অবমুক্ত করা হবে এবং ইরানের সেন্ট্রাল ব্যাংক তা ব্যবহার করতে পারবে।

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে ইরানের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এই খসড়ায় সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশই বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে। অর্থাৎ ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বাড়াবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না বা ওই অঞ্চলে সেনা বাড়াবে না। এই ঐতিহাসিক চুক্তি বাস্তবায়নের পর পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করার জন্য একটি যৌথ বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হবে। আগামীকাল এই স্মারক স্বাক্ষরের পর চূড়ান্ত চুক্তি নির্ধারণের জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হবে।

 সূত্র: সিএনএন

ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও লেবাননে আবারও মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন।

বুধবার (১৭ জুন) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “ইরান সংঘাত এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট মানবিক সংকটে তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। ‘বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় চীন ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে সেখানে পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়নে সহায়তা করা যায়।”

এটি চলমান সংঘাত শুরুর পর দ্বিতীয়বারের মতো ইরানে চীনের মানবিক সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ। এর আগে মার্চ মাসেও বেইজিং তেহরানে সহায়তা পাঠিয়েছিল।

চীনের সহয়তা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩,৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে চীনের এমন পদক্ষেপ ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমান/

ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনাকে উপক্ষা করেই লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

বুধবার (১৭ জুন) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা এবং পাশের কফর তেবনিতের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

তবে এর আগে তারা বলেছিল, তাদের লক্ষ্য ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য হওয়া চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান বলেছে, ওই সমঝোতায় লেবানন-সংক্রান্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল "অনেক দিন ধরে" হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং এতে "অনেক মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে।"

এসএন/

চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর বাস্তবায়নে তিনি সন্তুষ্ট না হলে আবারও ইরানের ওপর বোমা হামলা চালানো হতে পারে।

সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এটি একটি সমঝোতা স্মারক। যদি আমার পছন্দ না হয়, তাহলে আমরা আবার গুলি চালাবো এবং তাদের ওপর বোমা ফেলবো।"

"তারা যদি ঠিকভাবে আচরণ না করে, তাহলে আবার বোমা হামলা শুরু হবে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, এই সমঝোতা স্মারকে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে তুলে নেওয়ার কোনো বিষয় নেই।

এ বিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফ্রান্সের এভিয়ঁ লে বেঁ শহরে সোমবার শুরু হওয়া জি–৭ শীর্ষ সম্মেলন বুধবার শেষ হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে তাঁরা লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ রুটে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনার কথাও বলেন, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।

এসএন/

জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে মূলত বাঙালি মুসলমানদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, ঠেলে পাঠানো ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে বাংলাদশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)। এতে করে বহু পরিবার দুই দেশের সীমান্তের শূন্য রেখায় (জিরো লাইন) আটকা পড়েছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত পহেলা জুন থেকে বিএসএফের ২১টি পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শিশুসহ ২০০ জনের বেশি মানুষকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ঠেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে যে বিজেপি সরকারের "ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট" নীতির আওতায় শত শত “বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে” আটক করা হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে "ফিরে যেতে" বাধ্য করা হয়েছে।

সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাকশী গাঙ্গুলী বলেন, "মৌলিক মানবাধিকারকে উপেক্ষা করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নির্মমভাবে পরিবারগুলোকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে বা সীমান্তে আটকে রাখছে"।

তিনি আরও বলেন যে ভারত সরকারের উচিত এই জোরপূর্বক বহিষ্কার বন্ধ করা, আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা ও মুসলমানদের প্রতি বৈরিতাপূর্ণ আচরণ বন্ধ করা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরও জানায়, তারা এমন নয়জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা দেখেছেন যে বিএসএফ রাতের অন্ধকারে লোকজনকে সীমান্তে এনে কাঁটাতারের বেড়ার কাটা অংশ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কয়েকটি ঘটনায় বিজিবি প্রবেশে বাধা দিলে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের আবার ফিরিয়ে নেয়।

এসএন/