ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নওগাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের খাঁচায় ৩ ডাকাত আইওএস ২৭-এ আসছে নতুন ফিচার কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক রাঙামাটিতে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে শিক্ষিকার মৃত্যু ব্রাজিলের কাছে হেরেও ফুটবলারদের নিয়ে গর্বিত হাইতির কোচ বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ এআই ক্যামেরা বন্ধের পেছেন কি তবে ‘ইঁদুরের হাত’ অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশের’ মৃত্যু টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ৮০তম জন্মদিন ঘিরে ট্রাম্পের ভাগ্যে বড় পরিবর্তনের আভাস জ্যোতিষীদের ৯০ মিনিট খেলতে এখনও প্রস্তুত নন ইয়ামাল ৪৮ লাখ টাকা খরচ করে বিয়ে, ৯ দিন পর বিচ্ছেদ চাইলেন যুবক টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তুরস্কের হারে নকআউটে যুক্তরাষ্ট্র নওগাঁর আম আমদানি করতে চায় জাপান বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিল হাইতি টাঙ্গাইলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৫০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ হাজি দেশে আরও কমল স্বর্ণের দাম প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি আজ ‘লম্বা মেয়েদের’ প্রশংসা পাওয়ার দিন সাড়ে তিন ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের পথে মেঘনা এক্সপ্রেস

ইরানি ড্রোনের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫১ এএম
ইরানি ড্রোনের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা
ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের বিমানটি জ্বালানি সরবরাহ করতে ব্যবহার করা হয়।

সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স আক্রোতিরি স্টেশন থেকে রাতের আকাশে উড়ন্ত টাইফুন এবং এফ-৩৫ বিমানের গর্জন স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল। এর কিছুক্ষণ পরেই ইরানি ড্রোন ধ্বংস করার একটি অভিযানে যোগ দিতে যাওয়া একটি বড় জ্বালানিবাহী বিমানের গর্জন শোনা গেল।
রয়্যাল এয়ার ফোর্সের এই বিমানটি (ভয়েজার) আকাশে একটি বিশাল পেট্রল স্টেশনের মতো, যা টাইফুন এবং এফ-৩৫ জেটগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ করে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই বিমানগুলো সাইপ্রাস এবং জর্ডানের আকাশে টহল দিয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই বিবিসি এই ধরনের প্রতিরক্ষামূলক অভিযানগুলো পর্যবেক্ষণ করে আসছে।
ভয়েজারের ককপিটের ভেতর থেকে আমরা সাইপ্রাসের মিটমিটে আলো মিলিয়ে যেতে দেখছিলাম। আমরা ইসরায়েল ও লেবাননের উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম।

‘আমরা প্রায়ই এখানে ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র অথবা তার জবাবে ইসরায়েলিদের ছোড়া প্রতিরোধক বিমান দেখতে পাই,’ একজন কর্মী উল্লেখ করেন। ঠিক পরের বাক্যেই তিনি বললেন, ‘এটা ইসরায়েলের লৌহ গম্বুজও হতে পারে।’ ৯ ঘণ্টার এই অভিযান চলাকালে টাইফুন ও এফ-৩৫ বিমানগুলো ভয়েজারকে সাতবার জ্বালানি সরবরাহ করে, যার মোট পরিমাণ ছিল ৩০ টন।

জ্বালানি স্টেশনে থাকাকালীন আমরা দেখলাম, তারা অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসছে এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক ও সূক্ষ্ম একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আকাশেই তাদের ট্যাংকভর্তি করছে। যে সময় যুদ্ধবিমানগুলো একটি বড় ট্যাংকের থেকে ঝুলে থাকা পাইপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।

যুদ্ধবিমানের পাইলটদের জন্য মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরা একটি নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। তবে এই মুহূর্তে আসল চ্যালেঞ্জ হলো ইরানি ড্রোনগুলোকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করা। গত এক মাসে সাইপ্রাস ও কাতার থেকে পরিচালিত ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলো বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তারা তাদের আধুনিক এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল উন্নত স্বল্প পাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কতবার ব্যবহার করেছে, তা তারা জানায়নি।

এই দামি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সোনালি বুলেটের মতো দেখতে এবং এগুলো ফাইবার গ্লাস দিয়ে তৈরি অপেক্ষাকৃত কম দামি একটি ড্রোনকে ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত হয়। আরএএফের এফ-৩৫ বিমানের পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার বেইলি মিশনটির জটিলতা বর্ণনা করেন। ‘একটি দ্রুতগতির জেটে কাজ করা এমনিতেই বিপজ্জনক, বিশেষ করে যখন আকাশে এবং মাটির কাছাকাছি কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চেষ্টা করা হয়’ তিনি বলেন।

তিনি বলেন, যেহেতু ড্রোনগুলো নিচু উচ্চতায় এবং তুলনামূলকভাবে ধীরগতিতে ওড়ে, তাই সেগুলোর মাটিতে আছড়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
তার মতে, হুমকি শুধু শত্রুপক্ষের কার্যকলাপই নয়, বরং ওই এলাকায় অন্য বিমানের একে অপরের খুব কাছাকাছি ওড়াও বটে।
এই অভিযানে তারা কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। কিন্তু যুদ্ধের শুরু থেকেই তারা ‘অপারেশন লুমিনোস’ নামে অভিযান চালিয়ে আসছে।

সমালোচনা সত্ত্বেও ব্রিটিশ সরকারের মন্ত্রীরা বারবার বলেছেন, সংঘাতের আগে তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই সাইপ্রাসে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও জনবল পাঠানো হয়েছিল।

সাইপ্রাসে ব্রিটিশ বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল টম বেউইক বলেছেন, যুদ্ধের আগে ‘সতর্ক পরিকল্পনা’ করা হয়। সেখানে ছিল অতিরিক্ত ভূমিভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু যুদ্ধের দ্বিতীয় রাতে সাইপ্রাসের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। সম্ভবত লেবানন থেকে উৎক্ষেপিত ছোট ড্রোনটি ঘাঁটির যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত একটি হ্যাঙ্গারে আঘাত হানে।

এটা সর্বজনবিদিত যে যুক্তরাষ্ট্র আরএএফ আক্রোতিরি থেকে নিয়মিতভাবে ইউ-২ গুপ্তচর বিমান ওড়ায়, যদিও এই বিষয়টি জনসমক্ষে স্বীকার করা হয় না। বিবিসি জানতে পেরেছে, দুই মিটার ডানাবিশিষ্ট একটি ড্রোনকে ঘাঁটিটির দিকে এগিয়ে আসতে রাডারে শনাক্ত করা হয়েছিল। তখন বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারি করা হয় এবং লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। জেনারেল টম বুইকের মতে, ক্ষতিটা সামান্যই ছিল।

তিনি বলেন, তাদের প্রচেষ্টায় তেমন কোনো লাভ হয়নি এবং তিনি সন্দেহ করেন, যে বা যারা ড্রোনটি চালিয়েছে, তারা ‘তার উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে।’ জেনারেল টম বুইকের মতে, এই ঘটনার পর আক্রোতিরি ঘাঁটির বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।’ বর্তমানে ঘাঁটিটিতে আটটি টাইফুন এবং আটটি এফ-৩৫ বিমান রয়েছে।

সম্প্রতি ঘাঁটিতে আসা ‘ওয়াইল্ডক্যাট’ হেলিকপ্টারগুলো স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত। এখানে রয়েছে আগাম সতর্কীকরণ রাডারযুক্ত ‘মার্লিন’ হেলিকপ্টার। ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির ডেস্ট্রয়ার এইচ এম এস ড্রাগন এখন সাইপ্রাসের উপকূলের কাছে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা দিচ্ছে।

জেনারেল টম বুইক বলেছেন, এই অঞ্চলে একটি অত্যন্ত আধুনিক যুদ্ধজাহাজ পেয়ে তিনি খুব খুশি। যেহেতু ইরান খোলাখুলিভাবে বলেছে যে আরএএফ আক্রোতিরিকে তারা লক্ষ্যবস্তু করেছে, তাই জেনারেল বুইক বলেছেন, ‘ইরানিদের গুরুত্ব সহকারে না নেওয়াটা বোকামি হবে।’
তারা স্বীকার করেন, ঘাঁটিটি ‘সহজেই আবার আক্রান্ত হতে পারে, কিন্তু তারা এও বলেন যে এটি এখন ‘যতটা সম্ভব সুরক্ষিত’।

ঘাঁটির পরিবেশ শান্ত। হামলার পর বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অধিকাংশ সামরিক পরিবার এখন ফিরে এসেছেন। উন্নত গোয়েন্দা তথ্য ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থার কারণে বিমান হামলার সতর্কতা কমে গেছে। ব্রিটেনও সাইপ্রাসকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। জেনারেল টম বেউইক বলেছেন, তিনি এখন সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ঘাঁটিটির ওপর ব্রিটেনের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ‘কোনো বিতর্ক হবে না’।

এই যুদ্ধ কতদিন চলবে, কখন বা কীভাবে এর সমাপ্তি ঘটবে, তা কেউ জানেন না। আরএএফ আক্রোতিরিতে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইতোমধ্যেই চাপের মধ্যে থাকা ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। বর্তমানে আরএএফ আক্রোতিরিতে অবস্থিত রয়্যাল নেভির কিছু হেলিকপ্টারের মূলত বিমানবাহী রণতরি এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলসের সঙ্গে উত্তর আটলান্টিক যাত্রায় যাওয়ার কথা ছিল।

রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ভয়েজার বিমানবাহী রণতরি সাইপ্রাসের প্রতিরক্ষায় মনোনিবেশ করার জন্য তার দশকব্যাপী ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযান ‘অপারেশন শেডার’ স্থগিত করেছে। আক্রোতিরি ঘাঁটির স্টেশন কমান্ডার গ্রুপ ক্যাপ্টেন অ্যাডাম স্মোলাকও শিগগিরই এই যুদ্ধের সমাপ্তি আশা করেন না। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, তাদের ‘বেশ দীর্ঘ সময়’ ধরে ঘাঁটিটি রক্ষা করে যেতে হবে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই অস্থিতিশীল অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ খুব কমই দ্রুত বা সহজে শেষ হয়।

 

অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞানীরা অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো বার্ড ফ্লুর এইচ৫ স্ট্রেইন শনাক্ত করেছেন।

শনিবার (২০ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির কৃষিমন্ত্রী। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসটি এখন বিশ্বের সব মহাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। 

কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি অভিবাসী সামুদ্রিক পাখি—ব্রাউন স্কুয়ার মধ্যে রোগটি পাওয়া গেছে। দেশটির জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা পরীক্ষার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ আরেকটি পাখি জায়ান্ট পেট্রেলের নমুনাতেও সম্ভাব্য সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে।

এর আগে, অস্ট্রেলিয়া ছিল একমাত্র মহাদেশ, যেখানে এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়নি। এই ভাইরাসটি হাঁস-মুরগি ও বন্য পাখির ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম।

কলিন্স বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর বিস্তার বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নয়, যদিও এটি হতাশাজনক। বর্তমানে কোনো ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা বা পোল্ট্রি খামারে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, এ ঘটনাটি উদ্বেগজনক এবং আমার সরকার রোগটির বিস্তার রোধে ব্যবস্থা নেবে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে হওয়া শান্তিচুক্তিটি নস্যাৎ করে দিতে পারেন।

লেবাননে সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হওয়ার খবরের মাঝেই এক নাটকীয় মন্তব্য সামনে এসেছে।

ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে একজন ‘যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ বলে প্রশংসা করেছেন।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কাছে কাতার কর্তৃক উপহার দেওয়া নতুন 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমান উন্মোচনের পর ট্রাম্প বলেন, "ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের দারুণ সম্পর্ক। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একজন যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং তার এই কৃতিত্ব পাওয়া উচিত।"

তবে অন্য এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কিছুটা রসিকতা ও সতর্কতার সুরে বলেন, "নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো, তবে আমাদের তাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তারা আমাকে সম্মান করে এবং আমি যা বলি তা শোনে।"

গত ১ জুন এক ফোনালাপে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং গালমন্দ করেছিলেন।

গোয়েন্দা সতর্কবার্তা ও যুদ্ধবিরতি:

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে যে, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেন। চলতি বছরের শেষে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে চান।

এদিকে, চরম উত্তেজনার মাঝেই গত শুক্রবার আমেরিকা ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধ রাখলেই কেবল তারা এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।

অন্যদিকে, সমস্যা সমাধানে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০০ এএম
কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের উপহার দেওয়া নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উন্মোচন করেছেন, যেটিকে তিনি 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' বলে অভিহিত করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) ওয়াশিংটনের ঠিক বাইরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে হ্যাঙ্গারের ভেতরে বিমানটি উন্মোচনের সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান উপহার পেয়ে উপসাগরীয় আমিরাতের প্রশংসা করেন তিনি।

তবে শত শত মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিমানটি উপহার দেওয়ায় নৈতিক, সাংবিধানিক এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, 'এই উপহার প্রত্যাখ্যান করা বোকামি। এটি যেকোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের চেয়ে বেশি দূরত্বে এবং দ্রুত গতিতে উড়তে পারে। বিমানটি আমার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে দান করা হবে।'

এতে আরও উদ্বেগ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ।

উল্লেখ্য, নতুন বিমানটি ৪ জুলাই ২৫০তম মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি ফ্লাইওভারে অংশ নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার প্রথম মেয়াদ থেকেই ১৯৯০-এর দশক থেকে ব্যবহৃত এই বিমানগুলো প্রতিস্থাপনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০৩ এএম
জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে করে ‘আমি বস’ মন্তব্যটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ মন্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কেবল রসিকতা করেছিলেন। নিজেকে অন্যদের ওপর কর্তৃত্বশীল হিসেবে বুঝাতে চাইনি।

অ্যাক্সিওস শো-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি শুধু মজা করছিলাম। বস হওয়ার চেষ্টা করিনি।’

তিনি জানান, মন্তব্যটি প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে, ফলে বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘সবাই কক্ষে বসে ছিলেন। আমি ঢুকে তাদের দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, ‘আমি বস’। এটি নিছক রসিকতা ছিল। কিন্তু বিষয়টি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমি শুধু মজা করার চেষ্টা করেছিলাম।”

গত বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী জি-৭ সম্মেলনের শেষ দিনের এক বৈঠকে প্রবেশের সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সে সময় অন্যান্য রাষ্ট্রনেতারা নিজ নিজ আসনে বসে ছিলেন। হঠাৎ ট্রাম্পের এ  মন্তব্যে উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারা উচ্চস্বরে হেসে ওঠেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মন্তব্যটিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছিলেন বলে মনে হয়। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্যে করে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কেমন আছেন?’ জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো আছি, ধন্যবাদ।’

এদিকে, ৮০তম জন্মদিন উদযাপনের পর ট্রাম্প ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনে ইরান, ইউক্রেন, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়, যেগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে।

জি-৭ জোটের সদস্য দেশগুলো পর্যায়ক্রমে সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। কানাডার কাছ থেকে এ বছরের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে ফ্রান্স, আর ২০২৭ সালে দায়িত্ব পাবে যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে ফ্রান্সের র‌্যামবুইয়েতে প্রথম জি-৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে সে সময় ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা একত্রিত হন। পরের বছর কানাডা যোগ দিলে জোটটি জি-৭ নামে পরিচিতি পায়। সূত্র: এনডিটিভি

খাদিজা রুমি/অমিয়/

তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৫০ এএম
তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে চরমভাবে ভেঙে পড়ল কূটনৈতিক সৌজন্যতা। সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক উন্মুক্ত শুনানিতে এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। একপর্যায়ে জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তাকে কড়া ভাষায় ‘চুপ থাকার’ নির্দেশ দেন ইসরায়েলি দূত।

বৈঠকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেনের পদত্যাগ দাবি করেন।

উল্লেখ্য, প্রমিলা প্যাটেনের তৈরি করা একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে যৌন সহিংসতার অভিযোগে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ড্যানন এই প্রতিবেদনটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রতি ইঙ্গিত করে ড্যানন বলেন, ‘ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্য মহাসচিবের যে মায়াজাল রয়েছে, আপনি তার কাছে নতি স্বীকার করেছেন।’

ড্যাননের এমন মন্তব্যের পর বৈঠকে উপস্থিত জাতিসংঘের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা ভেনেসা ফ্রেজিয়ার তীব্র আপত্তি জানান। তিনি মূলত সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ের প্রতিনিধি এবং আরেকটি পৃথক প্রতিবেদনের সংকলক (যেখানেও ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে)।

ফ্রেজিয়ার চিৎকার করে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ উত্থাপন করেন এবং ড্যাননকে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তার কাছে এর ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে বলেও দাবি করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইসরায়েলি দূত ড্যানন ফ্রেজিয়ারকে সরাসরি চুপ থাকার কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সদস্য রাষ্ট্র, আর আপনি জাতিসংঘের জন্য কাজ করেন। তাই এখন আপনি চুপ থাকবেন। আপনি এবং আপনার লজ্জাজনক প্রতিবেদন- উভয়ই চুপ থাকবে।’

মাল্টার সাবেক জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ভেনেসা ফ্রেজিয়ার চলতি সপ্তাহে মহাসচিব গুতেরেসের পক্ষে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয় যে, ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকেও বৈশ্বিক কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। ইসরায়েল ইতোমধ্যে এই প্রতিবেদনের তথাকথিত 'লজ্জার তালিকা' অ্যানেক্সে স্থান পেয়েছে।

গত মাসে প্রমিলা প্যাটেনের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ড্যানন এটিকে জাতিসংঘের ‘নতুন পতন’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি বছরের শেষে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের এই উভয় প্রতিবেদনেই ইসরায়েলের পাশাপাশি তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/