হিজবুল্লাহ-সংযুক্ত একটি সেলকে গ্রেপ্তার করেছে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী অভিযোগটিকে ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত মঙ্গলবার গভীর রাতে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা দামেস্কের আশপাশের এলাকা ছাড়াও আলেপ্পো, হোমস, তারতুস এবং লাতাকিয়া প্রদেশে ‘সমন্বিত একাধিক নিরাপত্তা অভিযান’ পরিচালনা করেছে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে ‘হিজবুল্লাহ-সম্পৃক্ত একটি সংগঠিত সেল ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যার সদস্যরা লেবাননে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে সিরিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিল।’ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের অপসারণের পর থেকে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ বারবার এমন ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার দাবি করেছে এবং সেগুলোর জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছে, যা গোষ্ঠীটি ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সেলটি ‘উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা করছিল।’ অভিযানে বিস্ফোরক এবং আরপিজি লঞ্চারসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১১ জন সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে, যদিও তাদের জাতীয়তা জানানো হয়নি। তাদের মধ্যে হামলার পরিকল্পনা ও তদারকির দায়িত্বে থাকা একজনও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে ‘সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মিথ্যা অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।
গোষ্ঠীটি বলেছে, ‘আমরা বারবার বলেছি যে সিরিয়ার ভেতরে আমাদের কোনো উপস্থিতি নেই। তবুও সিরিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে একই অভিযোগ বারবার তোলা হচ্ছে, যা বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করে।’ তাদের দাবি, ‘এতে মনে হচ্ছে কেউ কেউ সিরিয়া ও লেবাননের জনগণের মধ্যে উত্তেজনা ও বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়।’
উল্লেখ্য, হিজবুল্লাহ ছিল বাশার আল-আসাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং তার পক্ষে সিরিয়ার যুদ্ধে গোষ্ঠীটির হস্তক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এর আগে সিরিয়া ছিল ইরান থেকে হিজবুল্লাহর কাছে অস্ত্র সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডর। সূত্র: আল-জাজিরা