ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের সঙ্গে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশের বেশি সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’ স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরে স্যামসাংয়ের নতুন ল্যাপটপ
Nagad desktop

নির্ধারিত হতে পারে দুই পরাশক্তির সম্পর্ক

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
নির্ধারিত হতে পারে দুই পরাশক্তির সম্পর্ক
ট্রাম্প-শি জিনপিং

চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক তিয়ানআনমেন স্কয়ারের নিরাপত্তা কয়েক দিন ধরেই জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ কুচকাওয়াজ বা বড় ধরনের কোনো পরিকল্পিত অনুষ্ঠানের গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছে। সবকিছু শুরু হয়েছিল ফিসফাস দিয়ে, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে বড় আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে চীন। এই সফরে বৈঠক, নৈশভোজ এবং টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি সম্রাটদের প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত ঐতিহাসিক মন্দির কমপ্লেক্স, যেখানে ভালো ফসলের আশায় প্রার্থনা করা হতো।

ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুজনই আশা করছেন, এই সফর ফলপ্রসূ হবে। বিশ্বের দুই পরাশক্তি নেতার এই বৈঠককে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাক্ষাৎগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক অগ্রাধিকার পায়নি। তাদের মূল মনোযোগ ছিল ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, পশ্চিম গোলার্ধে সামরিক অভিযান এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে। তবে এই সপ্তাহে সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ, তাইওয়ানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং উন্নত প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা, সবই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ এবং ইরান সংঘাত শি জিনপিংয়ের জন্য নেতিবাচক হলেও আদর্শিক ও রাজনৈতিকভাবে তা তার জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। ফলে তিনি আলোচনায় নিজেকে শক্ত অবস্থানে মনে করছেন। এই সফর ভবিষ্যতের সহযোগিতা কিংবা সংঘাত–দুই সম্ভাবনারই ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

ইরান যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী?
ইরান যুদ্ধ তৃতীয় মাসে গড়ানোর পর চীন নীরবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় আসার চেষ্টা করছে। বেইজিং পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ঘিরে চলা সংঘাতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে।

মার্চ মাসে বেইজিং ও ইসলামাবাদ যৌথভাবে পাঁচ দফা পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা। একই সঙ্গে চীনা কর্মকর্তারা নেপথ্যে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছেন।

চীন প্রকাশ্যে শক্ত অবস্থান দেখালেও যুদ্ধ দ্রুত শেষ হোক এমন আগ্রহ তাদের রয়েছে। চীনের অর্থনীতি ইতোমধ্যেই ধীরগতির প্রবৃদ্ধি ও বাড়তি বেকারত্বের চাপে রয়েছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পেট্রোকেমিক্যালভিত্তিক পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। বস্ত্র থেকে প্লাস্টিক, বিভিন্ন শিল্পে খরচ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

যদিও চীনের বড় তেল মজুত রয়েছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক গাড়িতে তাদের অগ্রগতি জ্বালানি সংকটের প্রভাব কিছুটা কমিয়েছে, তবু যুদ্ধ রপ্তানিনির্ভর চীনা অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে হলে চীনও বিনিময়ে কিছু চাইবে।

গত সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বেইজিং সফরকে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের প্রভাব প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমি আশা করি চীন তাকে সঠিক বার্তা দেবে, হরমুজ প্রণালিতে যা করছে, তার কারণে ইরান আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।’

হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নতুন প্রস্তাব আনার ক্ষেত্রেও চীনকে বাধা না দিতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে চীন ও রাশিয়া একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছিল।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা আলি ওয়াইন বলেন, ‘ইরানকে দীর্ঘমেয়াদে আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে হলে চীনের কোনো না কোনো ভূমিকা থাকবে, এটা যুক্তরাষ্ট্রও বুঝতে পারছে।’ ট্রাম্প অবশ্য ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে খুব একটা উদ্বেগ দেখাননি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেল পরিবহনের অভিযোগে চীনভিত্তিক একটি রিফাইনারির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও ট্রাম্প বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটাই বাস্তবতা। আমরা যেমন তাদের বিরুদ্ধে কিছু করি, তারাও করে।’

তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ
তাইওয়ান প্রশ্নে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে অনেকেই দ্বিধান্বিত বলে মনে করছেন। গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সঙ্গে ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা করে, যা চীনকে ক্ষুব্ধ করে। তবে ট্রাম্প পরে তাইওয়ানকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনেকটা নরম অবস্থান নেন।

শি জিনপিং সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি তাইওয়ানকে চীনের অংশ মনে করেন, আর সেটা তার ব্যাপার।’ ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তার যথেষ্ট মূল্য দেয় না তাইওয়ান। গত বছর তিনি তাইওয়ানের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন এবং অভিযোগ করেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ‘ছিনিয়ে নিয়েছে’।

গত সপ্তাহে রুবিও জানান, ট্রাম্পের সফরে তাইওয়ান অবশ্যই আলোচনার বিষয় হবে। তবে উদ্দেশ্য হবে, যাতে এটি দুই পরাশক্তির মধ্যে নতুন উত্তেজনার কারণ না হয়। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়্যাং ই সম্প্রতি রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপে বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নেবে বলে তিনি আশা করছেন।

এদিকে চীন প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের চারপাশে যুদ্ধবিমান ও নৌযান পাঠিয়ে সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ১৯৮২ সালে নির্ধারিত তাইওয়ান নীতির ভাষা পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারে বেইজিং। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হলো, তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। তবে চীন হয়তো আরও কঠোর ভাষা চাইতে পারে, যেমন ‘যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে’।

এশিয়া সোসাইটির জন ডেলুরি বলেন, ‘শি জিনপিং খুব দ্রুত এমন বিষয়ে ভরসা করবেন বলে মনে হয় না। ট্রাম্প হঠাৎ কিছু বলে ফেললেও পরে আবার তা বদলে দিতে পারেন।’

বাণিজ্য আলোচনা
২০২৫ সালের বেশির ভাগ সময়জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নতুন বাণিজ্যযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল। ট্রাম্প বারবার চীনাপণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছেন ও কমিয়েছেন, যা কখনো কখনো ১০০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। এর জবাবে চীন যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ রপ্তানি সীমিত করে এবং মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানি কমিয়ে দেয়। এতে ট্রাম্পের সমর্থনভিত্তিক অঙ্গরাজ্যগুলোর কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও শির বৈঠকের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের একতরফা শুল্ক আরোপ ক্ষমতা সীমিত করায় উত্তেজনা আরও কমে। তবু বেইজিং বৈঠকে দুই নেতার আলোচনার বিষয়ের অভাব হবে না। ট্রাম্প চাইবেন চীন আরও বেশি মার্কিন কৃষিপণ্য কিনুক। অন্যদিকে চীন চাপ দেবে, যেন যুক্তরাষ্ট্র চীনের ‘অন্যায্য ব্যবসায়িক আচরণ’ নিয়ে সাম্প্রতিক তদন্ত প্রত্যাহার করে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মাইকেল ও’হ্যানলন বলেন, ‘চীনের বিস্তৃত ও বাজারবিকৃতকারী বাণিজ্যনীতির তদন্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসা কঠিন হবে।’ রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এনভিডিয়া, অ্যাপল, এক্সন ও বোয়িংসহ বড় বড় কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদেরও সফরে সঙ্গে নিতে চায়।

প্রথম মেয়াদের তুলনায় এখন চীন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কম নির্ভরশীল হলেও বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য শি জিনপিং এই বৈঠক সফল করতে চাইবেন। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের রায়ান হাস বলেন, ‘সফর যদি ভালোভাবে শেষ হয় এবং ট্রাম্প সম্মানিত বোধ করেন, তা হলে দুই দেশের অস্বস্তিকর স্থিতাবস্থা বজায় থাকবে। কিন্তু তিনি যদি অসম্মানিত মনে করেন, তা হলে তার মনোভাব দ্রুত বদলে যেতে পারে।’

এআই ও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ
চীন এখন ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির দৌড়ে এগিয়ে যেতে চায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মানবসদৃশ রোবটে তারা ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। শি জিনপিং এগুলোকে ‘নতুন উৎপাদনশীল শক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন।

তবে অনেক মার্কিন নীতিনির্ধারকের অভিযোগ, চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি দখল বা চুরি করে নিজেদের শিল্পকে এগিয়ে নিচ্ছে। এ কারণে অত্যাধুনিক মাইক্রোপ্রসেসর রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। টিকটকের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে জটিল বিরোধের সমাধান যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি সম্পর্কের বিরল ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই ধরনের প্রতিযোগিতা এখন এআই প্রযুক্তিতেও চলছে। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করছে, ডিপসিকের মতো চীনা কোম্পানিগুলো মার্কিন এআই প্রযুক্তি চুরি করছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের ইংই মা বলেন, ‘এআইকে ঘিরে এক নতুন শীতল যুদ্ধের সূচনা হচ্ছে। তবে মূল লড়াই কার মডেল কে নকল করছে তা নয়, বরং ভবিষ্যতের এআই তৈরি করতে সক্ষম মেধাবীদের দখল নিয়ে।’

চীনের তৈরি রোবট ইতোমধ্যে কুংফু নাচ করতে পারে, এমনকি ম্যারাথনে মানুষের চেয়েও দ্রুত দৌড়াতে পারে। তবে রোবটের দেহ তৈরিতে দক্ষ হলেও অনেক চীনা কোম্পানি এখনো তাদের ‘মস্তিষ্ক’ বা সফটওয়্যার উন্নয়নের চ্যালেঞ্জে আছে। এর জন্য দরকার উন্নত কম্পিউটার চিপ, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকেই আসে।

এখানেই বিরল খনিজ নিয়ে চীনের শক্ত অবস্থান কাজে লাগতে পারে। স্মার্টফোন থেকে যুদ্ধবিমান– সব আধুনিক প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় বিরল খনিজের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করে চীন। ফলে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। চীন দিতে পারে বিরল খনিজ, আর যুক্তরাষ্ট্র দিতে পারে উন্নত চিপ প্রযুক্তি। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এটি যেন চীনের নিজস্ব ‘হরমুজ প্রণালি’; চাইলে যেকোনো সময় তারা সরবরাহ বন্ধ করতে পারে।

গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার নির্ধারিত এই সফরে আলোচনার জন্য সময় খুব বেশি থাকবে না। তবে অল্প সময়ের এই বৈঠকই আগামী কয়েক বছরের জন্য দুই পরাশক্তির সম্পর্ক ও আলোচনার দিক নির্ধারণ করে দিতে পারে। সূত্র: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্য নিয়ে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রস্তুত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন এই খসড়া চুক্তির একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছে।

ফ্রান্সে চলমান জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া একজন কূটনীতিক এবং আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আরও দুটি কূটনৈতিক সূত্র এই খসড়া দলিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই খসড়াটি চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকের প্রকৃত রূপ নয়। অন্যদিকে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এই ফাঁসের ঘটনাকে ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

এই খসড়া চুক্তি অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত নথিতে স্বাক্ষর করবেন। তার আগে গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটালভাবে এই খসড়া চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এই স্মারককে একটি ‘রাজনৈতিক দলিল’ হিসেবে অভিহিত করে এর গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্দার আড়ালে যে মূল প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা এই নথিতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

খসড়া চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে দুই দেশ এবং তাদের মিত্রদের মধ্যকার যুদ্ধ অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে শেষ হবে। দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবে।

চুক্তির আওতায় স্বাক্ষর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান মাইন অপসারণসহ সব প্রযুক্তিগত বাধা দূর করবে। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চল থেকে তার সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। এ ছাড়া ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সহযোগীরা অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল নিশ্চিত করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের ওপর থাকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ে ইরান যাতে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানি করতে পারে, সে জন্য মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র বা ওয়েভার ইস্যু করবে। একই সঙ্গে ইরানের ফ্রিজ বা আটকে থাকা সব তহবিল ও সম্পদ অবমুক্ত করা হবে এবং ইরানের সেন্ট্রাল ব্যাংক তা ব্যবহার করতে পারবে।

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে ইরানের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এই খসড়ায় সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশই বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে। অর্থাৎ ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বাড়াবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না বা ওই অঞ্চলে সেনা বাড়াবে না। এই ঐতিহাসিক চুক্তি বাস্তবায়নের পর পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করার জন্য একটি যৌথ বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হবে। আগামীকাল এই স্মারক স্বাক্ষরের পর চূড়ান্ত চুক্তি নির্ধারণের জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হবে।

 সূত্র: সিএনএন

ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও লেবাননে আবারও মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন।

বুধবার (১৭ জুন) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “ইরান সংঘাত এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট মানবিক সংকটে তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। ‘বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় চীন ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে সেখানে পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়নে সহায়তা করা যায়।”

এটি চলমান সংঘাত শুরুর পর দ্বিতীয়বারের মতো ইরানে চীনের মানবিক সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ। এর আগে মার্চ মাসেও বেইজিং তেহরানে সহায়তা পাঠিয়েছিল।

চীনের সহয়তা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩,৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে চীনের এমন পদক্ষেপ ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমান/

ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনাকে উপক্ষা করেই লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

বুধবার (১৭ জুন) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা এবং পাশের কফর তেবনিতের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

তবে এর আগে তারা বলেছিল, তাদের লক্ষ্য ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য হওয়া চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান বলেছে, ওই সমঝোতায় লেবানন-সংক্রান্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল "অনেক দিন ধরে" হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং এতে "অনেক মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে।"

এসএন/

চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর বাস্তবায়নে তিনি সন্তুষ্ট না হলে আবারও ইরানের ওপর বোমা হামলা চালানো হতে পারে।

সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এটি একটি সমঝোতা স্মারক। যদি আমার পছন্দ না হয়, তাহলে আমরা আবার গুলি চালাবো এবং তাদের ওপর বোমা ফেলবো।"

"তারা যদি ঠিকভাবে আচরণ না করে, তাহলে আবার বোমা হামলা শুরু হবে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, এই সমঝোতা স্মারকে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে তুলে নেওয়ার কোনো বিষয় নেই।

এ বিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফ্রান্সের এভিয়ঁ লে বেঁ শহরে সোমবার শুরু হওয়া জি–৭ শীর্ষ সম্মেলন বুধবার শেষ হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে তাঁরা লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ রুটে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনার কথাও বলেন, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।

এসএন/

জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে মূলত বাঙালি মুসলমানদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, ঠেলে পাঠানো ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে বাংলাদশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)। এতে করে বহু পরিবার দুই দেশের সীমান্তের শূন্য রেখায় (জিরো লাইন) আটকা পড়েছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত পহেলা জুন থেকে বিএসএফের ২১টি পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শিশুসহ ২০০ জনের বেশি মানুষকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ঠেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে যে বিজেপি সরকারের "ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট" নীতির আওতায় শত শত “বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে” আটক করা হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে "ফিরে যেতে" বাধ্য করা হয়েছে।

সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাকশী গাঙ্গুলী বলেন, "মৌলিক মানবাধিকারকে উপেক্ষা করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নির্মমভাবে পরিবারগুলোকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে বা সীমান্তে আটকে রাখছে"।

তিনি আরও বলেন যে ভারত সরকারের উচিত এই জোরপূর্বক বহিষ্কার বন্ধ করা, আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা ও মুসলমানদের প্রতি বৈরিতাপূর্ণ আচরণ বন্ধ করা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরও জানায়, তারা এমন নয়জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা দেখেছেন যে বিএসএফ রাতের অন্ধকারে লোকজনকে সীমান্তে এনে কাঁটাতারের বেড়ার কাটা অংশ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কয়েকটি ঘটনায় বিজিবি প্রবেশে বাধা দিলে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের আবার ফিরিয়ে নেয়।

এসএন/