ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ডিজিটাল রূপান্তরের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকায় ১২তম ডিজিটাল সামিট অনুষ্ঠিত আমরা শুধু কেপ ভার্দে নই, পুরো আফ্রিকার জন্য খেলছি: বুবিস্তা বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা দোকানের তালা ভেঙে ১ হাজার ৪৪০ ক্যান বাংলাদেশি বিয়ার জব্দ আজ বিশ্ব সংগীত দিবস সৃজনশীল অর্থনীতি: বাংলাদেশের নতুন প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ইতিহাসের পাতায় তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচ: ফুটবল বিশ্বকাপের ১০০০তম লড়াই ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা উত্তরের ৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা, আগামী ৭২ ঘণ্টায় বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে : ডা. শফিকুর রহমান স্পেনের ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন এলোয় রুম: কুরাসাও গোলরক্ষকের বিশ্বরেকর্ড ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে জাকার্তা টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত উখ্যাইংওয়ংয়ের সাম্বা সাম্বা সাম্বা, ফিরে এল সাম্বা নৃত্য ২১ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ড্রাগন-মাল্টার বাগান গড়ে সফল প্রবাসফেরত সাদেক ২১ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় কারাবন্দি এক ম্যাজিস্ট্রেট যশোরে জাপার ২৫ নেতার পদত্যাগ বগুড়ার প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি শতাধিক লেবার এমপি-মন্ত্রীর ইসলামী ব্যাংক দখলের চেষ্টা হলে সরকারবিরোধী আন্দোলন হবে: জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি উত্তেজনা ট্রাম্পের মন্তব্যে চটেছেন মেলোনি প্লেগের জীবাণু আবিষ্কার ইকুয়েডরকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করল কুরাসাও এক যুগ পেরোলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি আয়াজ হত্যা মামলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় চাঁদাবাজদের আস্তানা!

ইউক্রেনে রাতভর ড্রোন হামলা, যুদ্ধ থামার আশা ক্ষীণ

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আপডেট: ১৩ মে ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
ইউক্রেনে রাতভর ড্রোন হামলা, যুদ্ধ থামার আশা ক্ষীণ
ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় একটি কিন্ডারগার্টেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।মঙ্গলবার সেখানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীকে আগুন নেভাতে দেখা যায়। সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার (১১ মে) রাতে ইউক্রেনের ওপর ২০০টির বেশি ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এ তথ্য। এতে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বৃদ্ধির যে আশা ছিল, তা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ের বার্ষিকী উপলক্ষে ৯ থেকে ১১ মে পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ইউক্রেন ও রাশিয়া। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি উদ্যোগের অংশ ছিল এই সমঝোতা। গত শুক্রবার ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছিলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে।

যদিও যুদ্ধবিরতির সময় কোনো পক্ষই বড় ধরনের বিমান হামলার খবর দেয়নি। তার পরও সীমান্তরেখায় লড়াই চলেছে বলে অভিযোগ করেছে দুই দেশই। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে ড্রোন ও গোলাবর্ষণের অভিযোগ তুলেছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, কিয়েভ যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু মস্কো তার বদলে হামলা বাড়িয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমরা মস্কোকে ১১ মের পরও আংশিক যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু এর বদলে গত রাতে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ২০০টির বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় একটি কিন্ডারগার্টেনসহ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এতে অন্তত ছয়জন আহত এবং একজন নিহত হয়েছেন।’

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, স্থানীয় সময় গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাশিয়া মোট ২১৬টি ড্রোন ছোড়ে, যার মধ্যে ১৯২টি ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘কয়েক দিন ধরে চলা আংশিক নীরবতা শেষ করার সিদ্ধান্ত রাশিয়াই নিয়েছে।’

তিনি জানান, বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন প্রতিহত করা হলেও জ্বালানি স্থাপনা, আবাসিক ভবন, একটি কিন্ডারগার্টেন ও একটি বেসামরিক লোকোমোটিভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎশ্চিকো জানান, রাজধানীর উত্তরের ওবোলন জেলায় ভূপাতিত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ১৬ তলা একটি আবাসিক ভবনের ছাদে পড়ে আগুন ধরে যায়।

কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর মাইকোলা কালাশনিক জানান, রাতের ড্রোন হামলায় একটি কিন্ডারগার্টেনের ছাদে আগুন লাগে এবং কাছের চারতলা আবাসিক ভবনের জানালা ভেঙে যায়। মধ্যাঞ্চলীয় চেরকাসি অঞ্চলে দুইজন আহত হন। পশ্চিমাঞ্চলীয় ঝিটোমির অঞ্চলে আবাসিক ভবন ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ অঞ্চলও হামলার মুখে পড়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোতে হামলায় পরিবহন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসনে গোলাবর্ষণে এক নারী আহত হন। মাইকোলাইভ অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েকটি এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বলে জানান আঞ্চলিক গভর্নর ভিতালিই কিম।

পুতিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইউরোপের সরকারের
এদিকে, ইউরোপীয় সরকারগুলো গত সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে তিনি ভবিষ্যতে ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে মস্কোর সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোয়েডারকে ইউরোপের প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন।

গত শনিবার পুতিন বলেছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের দিকে যাচ্ছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন এবং ইউরোপের নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় তিনি আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে তার পছন্দের আলোচক হচ্ছেন শ্রোয়েডার। তবে ব্রাসেলসে বৈঠকে অংশ নেওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মনে করেন, রাশিয়া এখনো আন্তরিকভাবে যুদ্ধ শেষ করতে বা শান্তি ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত নয়।

তারা শ্রোয়েডারের সম্ভাব্য ভূমিকাও নাকচ করে দেন। কারণ তিনি রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করেছেন এবং পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিপ্রধান কাজা কাল্লাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুতিন কেন তাকে চাইছেন তা স্পষ্ট। তা হলে কার্যত তিনি আলোচনার দুই পাশেই বসবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে কে আলোচক হবেন, সেই অধিকার যদি রাশিয়াকে দিই, তা হলে সেটা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।’ এস্তোনিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাল্লাস বলেন, রাশিয়া এখনো সৎভাবে আলোচনায় আগ্রহী এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তার মতে, আগে ইউরোপীয় দেশগুলোর নিজেদের অবস্থান ঠিক করতে হবে।

জার্মানির ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী গুন্থার ক্রিশবাউম বলেন, ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর থাকা শ্রোয়েডারের নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হওয়ার মতো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তিনি বলেন, ‘তিনি এখনো এবং অতীতেও পুতিনের প্রবল প্রভাবে ছিলেন।’ ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহাও শ্রোয়েডারের ভূমিকার বিরোধিতা করেন। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনার পরিপূরক হিসেবে ইউরোপও আলোচনায় যুক্ত হতে পারে। তিনি বিস্তারিত কিছু না বললেও জানান, এসব আলোচনা ‘নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান’ নিয়ে হতে পারে।

আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানায়, সিবিহা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদের কাছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের বিমানবন্দরগুলোর ওপর হামলা বন্ধে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। সূত্রটি জানায়, পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির পরিবর্তে অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নিয়ে এগোনোর চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ।

২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার নীতি অনুসরণ করছে। তারা মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগও সীমিত রেখেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনা খুব বেশি অগ্রগতি না হওয়ায় এবং ওয়াশিংটন ইরান সংকটে বেশি মনোযোগ দেওয়ায়, কিছু ইউরোপীয় কর্মকর্তা এখন মস্কোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পক্ষে মত দিচ্ছেন। এ ধরনের আলোচনায় বিশেষ দূত নিয়োগের কথাও উঠেছে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্টা গত সপ্তাহে বলেন, ‘সঠিক সময় এলে’ রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার জন্য কী প্রয়োজন এবং কীভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়, তা নিয়ে তিনি অন্যান্য ইউরোপীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা করছেন। তবে কাল্লাসসহ কয়েকজন মন্ত্রী বলেছেন, আলোচনায় যাওয়ার আগে রাশিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়ানো উচিত।

লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্তুতিস বুদরিস বলেন, ‘এটা কাউকে বেছে নেওয়ার বিষয় নয়। প্রথমে আমাদের মূল বিষয়ে যেতে হবে, আর সেটি হলো রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য আমাদের উপায়গুলো প্রস্তুত করা।’ অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিয়াতে মাইনল-রাইসিঙ্গার বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার সময় এসেছে এবং এ জন্য একটি আলোচক দল গঠন করা উচিত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘সেই সিদ্ধান্ত আমরা নেব, রাশিয়া নয়।’ সূত্র: রয়টার্স

বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে এস্তাদো মেয়র সদর দপ্তরের বাইরে একজন সৈনিক এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকেন

টানা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা অবরোধ এবং পদত্যাগের দাবিতে লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ।

শনিবার (২০ জুন) তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্ট জানান, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার সব পথ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দেশের প্রধান শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশনের নাম সিওবি। জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এই আলোচনার মূল লক্ষ্যই ছিল বিক্ষোভ বন্ধ করা। প্রেসিডেন্টের নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতিবাদে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। আলোচনার মাধ্যমে বড় একটি অংশের বিক্ষোভ শেষ হলেও একটি মহল এখনো অবরোধ কর্মসূচি বজায় রেখেছে।

প্রেসিডেন্ট পাজ টেলিভিশনে একটি ভাষণ দিয়ে বলেন, ‘আমরা আলোচনার সব পথ ব্যবহার করে যাদের দাবি যৌক্তিক ছিল, তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি। কিন্তু কিছু মহল বলিভিয়াকে অস্থিতিশীল করতে চায় এবং সহিংসতা বাড়াতে চায়। আমরা তাদের চিহ্নিত করার পরই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

বলিভিয়ায় গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট চলছে। পাজ একজন মার্কিন-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট। এই সংকট মোকাবিলায় তিনি কিছু পরিকল্পনা করেছিলেন। এর বিরুদ্ধে গত মে মাসের শুরুতে আন্দোলন শুরু করে সিওবি। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সাধারণ শ্রমিক, কৃষক ও খনিশ্রমিক, ট্রাকচালক এবং শিক্ষকরাও ছিলেন। তারা এই মধ্য-ডানপন্থি প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক সংস্কার বাতিলসহ তার পদত্যাগ দাবি করেন। পাজ মাত্র সাত মাস আগে ক্ষমতায় এসেছেন। তার এই জয়ের মাধ্যমে দেশটিতে টানা ২০ বছরের সমাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটেছিল।

দেশজুড়ে চলা এই অবরোধের কারণে রাজধানী লা পাজসহ প্রধান প্রধান শহরে জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া খাদ্য এবং ওষুধেরও তীব্র অভাব তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।

এরপর গত শুক্রবার সিওবির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছায় সরকার। সিওবির নেতা মারিও আরগোলো ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘এখন থেকে দেশব্যাপী সব ধরনের অবরোধ প্রত্যাহার করা হলো।’ চুক্তিটিকে সমর্থন করে প্রেসিডেন্ট পাজ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘শক্তির চেয়ে আলোচনাই বেশি শক্তিশালী।’

কিন্তু সিওবির একটি পক্ষ চুক্তি মেনে নিলেও আরেকটি পক্ষ এটিকে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলিভিয়াকে অস্থিতিশীল করতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। তার পরিপ্রেক্ষিতেই প্রেসিডেন্ট দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি শতাধিক লেবার এমপি-মন্ত্রীর

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি শতাধিক লেবার এমপি-মন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের ওপর লেবার পার্টির এমপি ও মন্ত্রীদের চাপ বাড়ছে। তাকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলেছেন দলটির মোট ১০৪ জন সংসদ সদস্য। গত বৃহস্পতিবার মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের জয়ের পর নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হয়। 

স্টারমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সর্বশেষ এমপিদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র এমপি ফ্যাবিয়ান হ্যামিল্টন, যিনি গত মাসের স্থানীয় নির্বাচনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরেও তার প্রতি অনুগত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা জানাতে হবে এবং অ্যান্ডি বার্নহামকে সেই পরিবর্তন আনার সুযোগ দিতে হবে, যার জন্য আমরা নির্বাচিত হয়েছি।’ লেবার এমপিদের ‘রেড ওয়াল গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান জো হোয়াইট এবং বার্নহামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লুক চার্টার্সও গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলত্যাগ করে স্টারমারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

লেবার পার্টির বেশির ভাগ এমপি চান, সম্ভাব্য বিভক্তিকর নেতৃত্ব নির্বাচনের পরিবর্তে স্টারমার স্বেচ্ছায় ক্ষমতা বার্নহামের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ঘোষণা করুক। তবে স্টারমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন এবং ‘ছেড়ে যাবেন না’। বার্নহামের ঘনিষ্ঠরা স্টারমারকে ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার এবং মন্ত্রিসভা, এমপি ও পরিবারের মতামত শোনার আহ্বান জানিয়েছেন।

বার্নহামের শিবির এবং সম্ভাব্য আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, তারা এই সপ্তাহে কোনো গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেবেন না। প্রধানমন্ত্রীকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সময় দেওয়া হবে।

সাবেক ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও ভবিষ্যতের যেকোনো প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরাও স্টারমারকে বলছেন, ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়রের জন্য তাকে অবশ্যই পথ ছেড়ে দিতে হবে। পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডারসহ অনেকেই ‘দায়িত্ব হস্তান্তরের’ দাবি করছেন।

গত মাসে স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের খারাপ ফলাফলের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ও জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডসহ কয়েকজন মন্ত্রী স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। জানা গেছে, বার্নহামের জয়ের পর থেকে শাবানা মাহমুদ ও স্টারমারের মধ্যে আর কোনো কথা হয়নি। আগামী মঙ্গলবার সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা একত্রিত হলে সেটি স্টারমারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: বিবিসি ও দ্য টেলিগ্রাফ

যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি উত্তেজনা ট্রাম্পের মন্তব্যে চটেছেন মেলোনি

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি উত্তেজনা ট্রাম্পের মন্তব্যে চটেছেন মেলোনি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা সেভেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন,  ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ‘অনুরোধ’ করেছিলেন। এদিকে মেলোনি বলেছেন, ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুই নেতার মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়েছে। ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লাসহ দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। গতকাল শনিবার ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি এ খবর জানায়।

মেলোনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে পুরোপুরি ‘মনগড়া’ বলে অভিহিত করেছেন। এ ঘটনার জেরে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তায়ানি আগামী সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তের পর থেকেই দুই নেতার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অবনতি হয়। সাম্প্রতিক এই বাগযুদ্ধ সেই দূরত্বকেই স্পষ্ট করেছে।

এ সপ্তাহে পূর্ব ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে ঘনিষ্ঠভাবে আলাপ করতে দেখা যায়। পরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাদের সম্পর্ক আগের মতোই রয়েছে। কোনো ধরনের মনোমালিন্য হয়নি।

কিন্তু এরপর লা সেভেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘তিনি (মেলোনি) আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। আমি তার জন্য দুঃখবোধ করেছিলাম।’

জি৭ সম্মেলনের সময় কয়েকবার দুই নেতাকে একসঙ্গে দেখা যায়। একটি ছোট সোফায় বসে তাদের আলোচনা করতে দেখা যায়, যেখানে মেলোনিকে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা গেছে। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সম্ভবত আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি বলেই তিনি খুশি। তবে লা সেভেন ট্রাম্পের মূল ইংরেজি বক্তব্য প্রচার না করে ইতালীয় ভাষায় ডাবিং করে তা সম্প্রচার করে।’

ট্রাম্পের মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে মেলোনি ইনস্টাগ্রামে বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি স্তম্ভিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন মিত্রদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করেন, তা আমি জানি না। আর এটিই প্রথম নয়। দুঃখজনক বিষয় হলো, পশ্চিমা বিশ্বের শত্রু কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষদের ক্ষেত্রে তিনি একই ধরনের কঠোর অবস্থান দেখান না। বরং তাদের নেতাদের প্রতি তাকে অনেক বেশি নমনীয় মনে হয়।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘তবে একটি বিষয় তার মনে রাখা উচিত, আমি কিংবা ইতালি কখনো কারও কাছে অনুরোধ করে কিছু আদায় করি না।’ 

২০২২ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর মেলোনি ইউরোপের একমাত্র নেতা হিসেবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা তাকে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সম্ভাব্য সেতুবন্ধনকারী হিসেবেও দেখতেন। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের বিরোধিতায় মেলোনি সরব ছিলেন। এর জবাবে গত এপ্রিলে ইতালির দৈনিক কোরিয়েরে দেলা সেরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।’

ট্রাম্প যখন পোপ লিও চতুর্দশকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ এবং ‘পররাষ্ট্রনীতিতে ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেন, তখন মেলোনি সেই মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছিলেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ইতালির প্রেসিডেন্ট সের্জিও মাত্তারেল্লা দ্রুত মেলোনির সঙ্গে ফোনে কথা বলে সমর্থন জানান। ইতালির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ফিলিপ্পো সেনসি বলেন, ‘কোনো বিদেশি নেতারই ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় কথা বলার অধিকার নেই।’

ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা জিউসেপ্পে কন্তে বলেন, ‘ইতালি এমন অপমানের যোগ্য নয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের নামে কখনো জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।’

মেলোনির দল ব্রাদার্স অব ইতালির সিনেট নেতা লুসিও মালান বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য ইউরোপীয় নেতাদের বিরুদ্ধে তার ধারাবাহিক আপত্তিকর মন্তব্যেরই অংশ এবং এতে মূলত ট্রাম্পের নিজের ভাবমূর্তি ও কর্তৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, জি৭ সম্মেলনের ভিডিও ফুটেজে বাস্তব পরিস্থিতি ট্রাম্পের বর্ণনার সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। তার মতে, প্রয়োজনে ওয়াশিংটনকে ‘না’ বলতে দ্বিধা না করাই সম্ভবত ট্রাম্পকে বিরক্ত করেছে। সূত্র: বিবিসি

ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে গোপনে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে গোপনে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে গত বুধবার নৈশভোজে বসার ঠিক আগমুহূর্তে এক নাটকীয় কাণ্ড ঘটিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তার স্বাগতিক ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও নিজের উপদেষ্টাদের চমকে দিয়ে একটি আকস্মিক দাবি তোলেন। ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিটি তিনি এখনই এবং এই স্থানেই সই করতে চান।

প্রাসাদে আসার পথেই ট্রাম্পের শীর্ষ কূটনীতিক খবর পেয়েছিলেন যে চুক্তির নথিটি চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এই চুক্তি সইয়ের জন্য দুই দিন পর সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নের একটি পাহাড় চূড়ার রিসোর্টে জমকালো অনুষ্ঠানের কথা ছিল। আমেরিকার প্রধান আলোচক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সেখানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প চুক্তিটি অবিলম্বে কার্যকর করতে অনড় ছিলেন। ম্যাখোঁ তখন দ্রুত এর ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

ভার্সাইয়ের হল অব মিররসে দুই প্রেসিডেন্ট যখন হাঁটছিলেন, তখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মিলে চুক্তির খসড়া প্রিন্ট করার জন্য একটি প্রিন্টার খুঁজছিলেন। পরবর্তী সময়ে গত শুক্রবারের সেই লুসার্ন অনুষ্ঠানটি আর আলোর মুখ দেখেনি। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরু হলে ইরান আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ায়। ফলে জেডি ভ্যান্স তার সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেন। যদিও শুক্রবার সকাল থেকে নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে সই হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এই চুক্তি এখন বেশ ভঙ্গুর অবস্থায় পড়েছে।

সমালোচনার মুখে ট্রাম্প
এই চুক্তির পরবর্তী ধাপ শুরু করতে ট্রাম্প ও ভ্যান্স মরিয়া হয়ে রয়েছেন। এই ধাপে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি নেওয়া হবে। তবে এই চুক্তির কারণে ট্রাম্প নিজের সমর্থকদের কাছ থেকেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। অনেকেই একে ইরানের কাছে মার্কিন আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছেন।

সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার গত বৃহস্পতিবার বলেন, এই চুক্তির ছয় নম্বর অনুচ্ছেদে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি ওবামা আমলের ইরান পারমাণবিক চুক্তির চেয়েও অনেক বড় অঙ্কের অর্থ।

সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা মরিয়া হয়ে বৈঠক করিনি, ইরান করেছে। ওরা শেষ! আমরা ৬০ দিনের প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যাব। তারা কোনো টাকা পাচ্ছে না, ১০ সেন্টও না!’

যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিয়ে ভয়
কয়েক মাসের যুদ্ধ শেষে এই ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক ট্রাম্পের জন্য একটি বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। উপদেষ্টারা সতর্ক করেছিলেন যে, বিশ্বের তেলের মজুত কমছে। এ ছাড়া সামনে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, অর্থনৈতিক কারণেই তিনি এই চুক্তিতে সই করেছেন। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুভারের মতো হতে চাননি, যার আমলে গ্রেট ডিপ্রেশন বা মহামন্দা শুরু হয়েছিল।

গ্রুপ অব সেভেন (জি-৭) সম্মেলন শেষে বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখতে চাইনি।’

সেই রাতেই রাত ১১টার পর ভার্সাইয়ের লোয়ার গ্যালারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প শার্পি কলম দিয়ে চুক্তিতে সই করেন। টেবিলের চারপাশে তখন গ্লাস ও প্লেটের আওয়াজ হচ্ছিল। ট্রাম্প তার ডিনার সঙ্গীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে পারি, এটি মোটেও সহজ ছিল না।’

ম্যাখোঁ তখন ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘ব্রাভো’। এরপর সেই নথির একটি ছবি তুলে ইরানে পাঠানো হয়।

নাটকীয়তায় ভরা এক প্রক্রিয়া
এই চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ বিশৃঙ্খল এবং নাটকীয়তায় ভরা। ট্রাম্প নিজেই অনেক সময় এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছেন। কখনো তিনি চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন, আবার কখনো ইরানকে লাল রেখা পার না করার জন্য হামলার হুমকি দিয়েছেন।

চুক্তি সইয়ের পরও এর মূল পাঠ কয়েক দিন গোপন রাখা হয়েছিল। ভ্যান্স জানান, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা মার্কিন কর্মকর্তাদের বলেছিলেন যে, ইরানিরা তাদের অভ্যন্তরীণ কারণে কিছুটা সময় চায়। পরবর্তী সময়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের কাছে এটি পড়ে শোনান। কর্মকর্তারা জানান, মূল নথির বাইরেও কিছু ‘ভদ্রলোকের চুক্তি’ বা অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়েছে, যা তাদের আস্থা জুগিয়েছে। 

জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, সমঝোতা স্মারক, ভদ্রলোকের চুক্তি কিংবা চূড়ান্ত চুক্তি—লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান, মুখের কথার কোনো মূল্য নেই। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো যাচাইকরণ।

যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার ব্যাকুলতা
হোয়াইট হাউজের উপদেষ্টারা আগে ভেবেছিলেন গ্রীষ্মের বড় ইভেন্ট যেমন—বিশ্বকাপ, ট্রাম্পের জন্মদিনে হোয়াইট হাউজের সাউথ লনে ইউএফসি ফাইট ও আমেরিকার ২৫০তম জন্মদিনের আগেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের বিমান হামলার সিদ্ধান্ত তার প্রেসিডেন্সির ওপর বড় ছায়া ফেলেছিল।

হোয়াইট হাউজের রাজনৈতিক দল, ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট সবাই যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। জুনের শুরুতে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের রূপরেখা নিয়ে একটি সাধারণ চুক্তির সিদ্ধান্ত নেন।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা দল প্রতিদিন বৈঠকে বসত। সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সন্দিহান ছিলেন। রুবিও, ভ্যান্স, উইটকফ ও কুশনারের মনেও সন্দেহ ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের তাড়াহুড়োর কারণে সবাই একমত হন। একজন কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা এই বিষয়টির অবসান ঘটাতে চাই।’

ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা ও ইরানের শর্ত

ইরানের সঙ্গে আলোচনা ছিল অত্যন্ত ধীরগতির। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছ থেকে বার্তা পেতে দীর্ঘ সময় লাগত। কারণ তিনি নিজের অবস্থান লুকাতে বার্তাবাহক ব্যবহার করতেন।

এরই মধ্যে ৮ জুন একটি মার্কিন অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের সঙ্গে ইরানি ড্রোনের সংঘর্ষ হয়। ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে পাল্টা হামলার নির্দেশ দেন। পরে কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা জানান, ইরান আলোচনা করতে আগ্রহী। ট্রাম্প হামলা বন্ধ করেন।

এরপর ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে (১৪ জুন) বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় আবারও সংকট তৈরি হয়। ট্রাম্প একে নেতানিয়াহুর চুক্তি ভণ্ডুল করার চেষ্টা হিসেবে দেখেন ও ফোনে নেতানিয়াহুকে তীব্র ভাষায় গালমন্দ করেন। কাতারিদের ১৭ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পর ইরান ইসরায়েলের দিকে তাক করা ব্যালেস্টিক মিসাইল সরিয়ে নেয়।

তবে ইরান একটি শর্তে অনড় ছিল। তারা ট্রাম্পের জন্মদিনের দিন এই চুক্তির ঘোষণা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে মধ্যস্থতাকারীরা একটি অভিনব উপায় বের করেন। তেহরান সময় রাত ১২টার পর এই চুক্তি ঘোষণা করা হয়, যখন ওয়াশিংটনে ট্রাম্প তার জন্মদিনের কেজ ফাইটের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সূত্র: সিএনএন

লেবাননে হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা তেহরানের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
লেবাননে হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা তেহরানের
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের দক্ষিণ লেবাননে চালানো প্রাণঘাতী হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড বলেছে, এ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা লঙ্ঘনের শামিল।

শনিবার (২০ জুন) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে এটি আমাদের প্রথম পদক্ষেপ। আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তাদের বাধ্যবাধকতা পালনে বাধ্য করতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ফলে এ প্রণালি বন্ধের ঘোষণায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে।

তবে ইরানের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহনে তাৎক্ষণিক কী প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এসএন/