ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রামু বৌদ্ধ বিহারে একদিন দ্রুত বিদায়ে হতাশ তুরস্ক কোচ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বাবা রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের আহ্বান বারভিডার আ. লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর লজ্জিত আরদা গুলের বেনজিরকে শিগগিরই ফেরত আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী ২৮ জন টিনএজ থেকে গ্লোবাল সুপারস্টার চকরিয়ায় শ্রীরামকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ রূপগঞ্জে  ব্যবসায়ীর বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন নওগাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের খাঁচায় ৩ ডাকাত আইওএস ২৭-এ আসছে নতুন ফিচার কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক রাঙামাটিতে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে শিক্ষিকার মৃত্যু ব্রাজিলের কাছে হেরেও ফুটবলারদের নিয়ে গর্বিত হাইতির কোচ বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে চুক্তি হতে পারে ১৫-১৭টি : পররাষ্ট্র সচিব চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ এআই ক্যামেরা বন্ধের পেছেন কি তবে ‘ইঁদুরের হাত’ অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশের’ মৃত্যু টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ৮০তম জন্মদিন ঘিরে ট্রাম্পের ভাগ্যে বড় পরিবর্তনের আভাস জ্যোতিষীদের ৯০ মিনিট খেলতে এখনও প্রস্তুত নন ইয়ামাল ৪৮ লাখ টাকা খরচ করে বিয়ে, ৯ দিন পর বিচ্ছেদ চাইলেন যুবক টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই

সম্পাদকদের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় স্বাধীন সাংবাদিকতা জরুরি

প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৪ এএম
স্বাধীন সাংবাদিকতা জরুরি
ছবি: খবরের কাগজ

স্বাধীন সাংবাদিকতা শুধু সাংবাদিকতার জন্য না, সুষ্ঠু ও কার্যকর সরকারের জন্য জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোর সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক এবং টেলিভিশন ও অনলাইন পোর্টালের প্রধানরা।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বিএনপির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তারা এ মন্তব্য করেন। 

আগামীতে রাষ্ট্রের ক্ষমতায় এলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা বিএনপির দায়িত্ব বলে মত দিয়ে তারা বলেছেন, গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে হলে গণমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। আমরা কোনো এজেন্সির টেলিফোন চাই না। আগামী দিনে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও বিএনপির ৩১ দফায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন সাংবাদিকরা। 

এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের দমন-পীড়নের কথা মাথায় রেখে গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।
রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজপোর্টালের সম্পাদক, রেডিও ও টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভা করে বিএনপি।

মতবিনিময় সভার শুরুতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকা অফিস ভাঙচুর ও জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এ দৃশ্য সারা বিশ্ব দেখেছে। এটা জাতির জন্য লজ্জার। আমরা শুধুমাত্র দুঃখ প্রকাশ করে এটা সমাপ্ত করতে পারব না। এখানে সরকারের দায়িত্ব ছিল সবচেয়ে বেশি। আমরা জেনেছি, হামলার বিষয়ে ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট ছিল। কিন্তু সেটা আমলে নেওয়া হলো না কেন?’ 
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলার পরও শুনেছি এক-দুই ঘণ্টা পরে তারা সাড়া দিয়েছে। সেটা কেন? কাদের হাতে আমরা এই রাষ্ট্রব্যবস্থা দেব? নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যারা দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম ডেমোক্রেসি, কিন্তু কেন হয়ে যাবে মবোক্রেসি? তাকে কেন লালন করতে দেওয়া হবে। সরকারের দুর্বলতার কারণেই এসব প্রশ্রয় পাচ্ছে। এগুলো আরও কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।’ 

গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পত্রিকা হচ্ছে সমাজের দর্পণ। এই মুহূর্তে সমাজের সেই দর্পণ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকদের দর্পণ যেন চূর্ণ না হয়। জনগণ যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তাহলে গণমাধ্যমের জন্য আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।’ 

এ সময় দেশের স্বার্থ বিবেচনায় দেশের পক্ষে ও নিরপেক্ষ থাকার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শফিক রেহমানের মতো বর্ষীয়ান সাংবাদিকদের যেভাবে জেলে নিয়ে যে আচরণ করা হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে ফ্যাসিবাদের আমলে একটা ঘন কালো অন্ধকারের সময় পার করেছি। প্রত্যেকেই কমবেশি আক্রান্ত হয়েছি। এখনো যেসব বিষয় আমাদের সামনে আসছে, তা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদির এমন মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাই। তাকে কথার কারণে জীবন দিতে হবে, এটা মেনে নেওয়ার মতো না।’ 

মতবিনিময় সভায় যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, ‘সাংবাদিকদের দায়িত্ব সমালোচনা করা, আবার প্রশংসা করাও তাদের দায়িত্ব। ওয়ান-ইলেভেনে কয়েকজন সাংবাদিক প্রচণ্ড ভুল করেছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে তারা আমার কাছে স্বীকার করেছিলেন। তারা ভুল করেছিলেন। এই ভুল যেন আর না হয়।’ 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফেরার দিন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতেও পারে। এ বিষয়ে বিএনপিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। 

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, দেশে একটা রাজনৈতিক শূন্যতা চলছে। এটা বিএনপির জন্যও বিপজ্জনক। তারেক রহমান যদি আরও কিছুদিন আগে আসতেন তাহলে হয়তো বিএনপির আরও সুযোগ তৈরি হতে পারত। তবে এখনো ভালো করার সম্ভাবনা আছে।

তিনি বলেন, ‘প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের ওপরে হামলা-আক্রমণ নিয়ে আপনারা সবাই বলেছেন- এর জন্য সবার প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। কোনো সরকারের আমলে সংবাদপত্র শিল্প নানা কারণে খুব ভালো থাকতে পারেনি। নানা রকম সমস্যার মধ্য দিয়ে গেছে। তার মধ্যে গত ১৫-১৬ বছরে স্বৈরাচারী সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি ভয়, চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বিএনপির শাসন আমলে খুব স্বস্তিতে ছিলাম তা না। যদি পার্থক্য করি দুই সরকারের মধ্যে, তাহলে বিএনপির সময়ে গণমাধ্যমের পরিবেশ অধিকতর স্বস্তিদায়ক ছিল।’ 

এ সময় দুই-তিন মাস পরপর গণমাধ্যমের সঙ্গে বিএনপিকে বসার পরামর্শ দেন প্রথম আলোর সম্পাদক।
 
ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বাংলাদেশ এই মূহূর্তে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ৫৩ বছরে কোনো মিডিয়া অফিসে আগুন দেওয়া হয়নি। প্রথমবারের মতো প্রথম আলো, ডেইলি স্টার অফিসে আগুন দেওয়া হলো। কেন? আমরা কী অপরাধ করলাম? তবে আমি ভবিষ্যতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই। নতুন যে বাংলাদেশ আমরা চাচ্ছি, সেখানে যেন ক্রিটিক্যাল জার্নালিজম, স্বাধীন গণমাধ্যমের সুযোগ থাকে।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশে কোনো সরকারই ক্রিটিক্যাল জার্নালিজম গ্রহণ করেনি। স্বাধীন স্বাংবাদিকতা শুধু সাংবাদিকতার জন্য না, সুষ্ঠু সরকারের জন্য জরুরি। আপনাদের যেমন গুড গভর্ন্যান্স দরকার, আমাদের নৈতিক সাংবাদিকতা দরকার। আমাদের ভুল হতে পারে, আপনারা বলবেন। যদি আপনি দেখাতে পারেন আমার রিপোর্ট ফ্যাক্ট বেইজড না, নিউজের তথ্য বিকৃতি ঘটেছে, তখন আমি ক্ষমা চাইব।’

মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘অস্থির সময়ে আমরা সবাই অস্থির। মিডিয়া পলিসি যেটা বলা হয়েছে, সেটা বাস্তবায়ন হলেই মিডিয়া এগিয়ে যাবে। ডেইলি স্টার, প্রথম আলোর ওপরে হামলা হয়েছে। এরপর কী হবে আমরা জানি না। আমরা সবাই নিরাপদ থাকতে চাই, লিখতে চাই। আপনারা আমাদের কথা বলতে দিলে সাধুবাদ জানাব, নয়তো সমালোচনা করব। তবে আগামী দিনে যে চ্যালেঞ্জ আসছে তা মোকাবিলা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ 

সংবাদপত্র মালিক সমিতির (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি। নির্বাচনটা যদি দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা না পায় তাহলে আমাদের বিশাল বিপদ। বিদেশিরা উদগ্রীব হয়ে আছে আমাদের নির্বাচন নিয়ে।’ ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে ছয় মাস পরপর কথা বলার আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি। 

কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, ‘একটা বিষাক্ত পরিস্থিতির মধ্যে আমরা আছি। এই বিষবৃক্ষ স্বাধীনতার পর থেকেই শুরু হয়েছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ না হলে এই সংকট কাটাতে পারব না। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ 

ডেইলি স্টারের উপদেষ্টা সম্পাদক কামাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা আর কোনো নিরাপত্তা সংস্থার টেলিফোন চাই না। আমরা সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব জমা দিয়েছি। তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন সরকারের। বিএনপি ৩১ দফায় বলেছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য যা যা করা দরকার তা করবে। আমরা আশা করি, বিএনপি সরকারে এলে সংস্কার কমিশনের সব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে।’ 

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক আবু তাহের, ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, দেশ রূপান্তরের সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, আজকের পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল হাসান, ইউএনবির সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহ উদ্দিন বাবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান, বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন, সমকালের সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী, যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন, আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক খোরশীদ আলম, যমুনা টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ, ডিবিসির সম্পাদক লোটন ইকরাম, বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী, এসএ টিভির মাহমুদ আল ফয়সাল, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম প্রমুখ। 

মতবিনিময় সভায় বিএনপির নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান ইসমাইল জবিহউল্লাহ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জিয়া উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় নেতা মাহাদী আমীন, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আতিকুর রহমান রুমন, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, মোর্শেদ হাসান খান, শাম্মী আখতার প্রমুখ।

রামিসাসহ সব শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচারের দাবি বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
রামিসাসহ সব শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচারের দাবি বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের
ছবি: খবরের কাগজ

দেশে একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র। একই সঙ্গে রামিসাসহ এ পর্যন্ত সংঘটিত সব শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। 

রবিবার (২৪ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র (বিএনএসকে) আয়োজিত প্রতিবাদী মানববন্ধন থেকে তারা এসব দাবি জানান। কর্মসূচির স্লোগান ছিল-'কোনো প্রতিশ্রুতি চাই না, WE WANT JUSTICE'।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু।

এ সময় তিনি বলেন, গত ৫ মাসে দেশে ১১৮ শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ১৭ শিশু। এসব ঘটনায় শিশুদের নিয়ে তাদের মা-বাবা ও অভিভাবকরা উদ্বিঘ্ন। এমন পরিস্থিতিতে রামিসা, ইরাসহ সব শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত বিচার আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

নাঈম/

ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল আর নেই

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল আর নেই
ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল

ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক, এনটিভি ও দৈনিক জনকণ্ঠের সাবেক জেলা প্রতিনিধি ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।  

মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরে ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দুরারোগ্য ক্যানসার আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজ বাদ জোহর ফেনীর ঐতিহাসিক মিজান ময়দানে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। 

ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে ফেনীর জনপদে সাংবাদিকতা করেছেন। তার মৃত্যুতে জেলার সাংবাদিক, রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন। 

তোফায়েল আহাম্মদ/খাদিজা রুমি/

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ সাংবাদিক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:০৩ এএম
বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ সাংবাদিক
পুরস্কারপ্রাপ্ত সাত সাংবাদিক। ছবি: বিজ্ঞপ্তি
দেশের কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পখাতের ওপর বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ পেয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাত সাংবাদিক।
 
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর গুলশানে এমসিসিআই কনফারেন্সরুমে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
 
প্রিন্ট বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের সুকান্ত হালদার, দ্য ডেইলি সানের রফিকুল ইসলাম ও এম মুনির হোসেন। 
 
টেলিভিশন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন চ্যানেল ২৪-এর দেলাওয়ার হোসেন দোলন ও একাত্তর টিভির রাকিব হোসেন।
 
অনলাইন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন জাগো নিউজ ২৪-এর নাজমুল হোসেন ও একুশে পত্রিকা ডটকমের শরিফুল রুকন।
 
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
 
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।
 
প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
 
দেশের কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতে অবদান রাখা সাংবাদিকদের সম্মাননা জানাতে প্রথমবারের মতো ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ প্রবর্তন করেছে দেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপ।
 
এ উদ্যোগের মাধ্যমে ২০২৫ সালে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পখাতের ওপর প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন বিভাগে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিন সদস্যের জুরিবোর্ডের মূল্যায়নের মাধ্যমে সেরা সাত সাংবাদিককে নির্বাচিত করা হয়।
 
জুরিবোর্ডের সদস্য ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, বম্বে সুইটস এন্ড কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার খুরশিদ আহমেদ ফরহাদ এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আউটরিচ ও কমিউনিকেশন পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
 
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি ও কৃষি-শিল্পের উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণ গ্রুপকে ধন্যবাদ এ উদ্যোগের জন্য। এ ধরনের আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত ও সুদূরপ্রসারী চিন্তা। দেশের জিডিপি, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে কৃষির অবদান উল্লেখযোগ্য”।
 
পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি অন্যান্য সাংবাদিকদেরও কৃষি অর্থনীতি ও কৃষি-শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আরও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার আহ্বান জানান। তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব প্রতিবেদন সংকলন করে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে সুপারিশ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সাংবাদিকদের নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও প্রণোদনা হিসেবে কাজ করে।
 
অনুষ্ঠানে ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। কৃষি নির্ভরশীল দেশে এ খাত সঠিক দিক নির্দেশনা পেলে দেশের অথনৈতিক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে ও পোশাক শিল্পের পর রপ্তানিতে বড় খাত হয়ে উঠতে পারে।
 
বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রদানের লক্ষ্য সাংবাদিকদের বাংলাদেশের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো অন্বেষণে অনুপ্রাণিত করা। আমাদের আসিয়ানভুক্ত দেশ থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়ার মতো কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি নিয়ে কাজের দারুণ সুযোগ রয়েছে।”
 
তিনি আরও বলেন, “কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতের সাংবাদিকদের সম্মানিত করতে পেরে আমরা আজ অত্যন্ত আনন্দিত। সাংবাদিকরা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার। তাদের লেখনি সবসময় আমাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতের উপর প্রতিবেদনে যেমন কৃষক উপকৃত হন, তেমনি দেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতের ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হন, পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যেতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। বাজারজাতকরণে ও রপ্তানির ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন করা হলে এ খাত উপকৃত হবে।” ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।
 
আমান/

ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আত্মপ্রকাশ

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:১০ এএম
আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আত্মপ্রকাশ
সম্পাদক শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমান

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং সম্পাদকদের পেশাগত স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল বা এনইসি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২জুন) দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন দৈনিকের সম্পাদকরা এই কাউন্সিল গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বৈঠকে যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমানকে আহ্বায়ক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন– নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, সংগ্রাম সম্পাদক আযম মীর শাহীদুল আহসান, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, লোকসমাজ সম্পাদক শান্তনু ইসলাম সুমিত, ডেইলি পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর ও জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর।

বৈঠকে সংগঠনের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকের সম্পাদকদের নিয়ে জাতীয় কনভেনশন আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে ১০ দফা সুপারিশ সিপিজের

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে ১০ দফা সুপারিশ সিপিজের
ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকদের ওপর দলীয় নিপীড়নের চক্র ভেঙে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। 

গতকাল মঙ্গলবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই আহ্বান জানিয়ে ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর এ সুপারিশ জানালো সংগঠনটি। 

সিপিজে এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী কুনাল মজুমদার বলেন, বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে প্রায়শই প্রতিটি নতুন সরকারের জন্য পূর্ববর্তী প্রশাসনের অনুসারী হিসেবে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনকে ব্যবহার করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ভিন্ন হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু ১০০ দিন পরও অর্থপূর্ণ অগ্রগতি সীমিত। 

তিনি আরও বলেন, ‘কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে সরকার কাজ শুরু করতে পারে। 

সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করা, সাংবাদিকদের মব ভায়োলেন্স থেকে রক্ষা করা, কুৎসা রটানো বন্ধ করা এবং যে আইনগুলোর কারণে এসব সম্ভব হচ্ছে তা সংশোধন করা প্রয়োজন।’

সিপিজে বলেছে, প্রত্যেকবার ক্ষমতার পরিবর্তনের সময় সাংবাদিকদের আটক, বিচার, নজরদারি, আক্রমণ এবং হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে, যার বড় কারণ ছিল সদ্য পতন হওয়া সরকারের প্রতি তাদের কথিত আনুগত্য। 

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সিপিজে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে ১০টি প্রধান পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছে। 

এগুলোর মধ্যে রয়েছে- সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার ব্যবহার বন্ধ করা, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ব্যবহার বন্ধ করা, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, মব ভায়োলেন্স থেকে সাংবাদিক ও নিউজরুম রক্ষা করা, সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাইবার ক্রাইম মামলা খারিজ করা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ সংস্কার করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এর ব্যবহার বন্ধ করা, খসড়া গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ প্রত্যাহার এবং মিডিয়া সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, সাংবাদিকদের নীরব করতে ব্যবহৃত পুরোনো আইন এবং নজরদারি কাঠামো বাতিল বা সংশোধন, অ্যাক্রিডিটেশন ব্যবস্থার সংস্কার এবং হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো এবং হেয়প্রতিপন্ন করা বন্ধ করা।

তামান্না রুপা/