বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণত্রাণ কর্মসূচির গত ১৪ দিনে নগদ ও ব্যাংকিং মাধ্যমে ১১ কোটি ১০ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৯ টাকা অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত এই অর্থের ১ কোটি ৭৫ লাখ ১২ হাজার ৭৯৪ টাকা বিভিন্ন খাতে ব্যয় হিসাবে দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে ফান্ডে রয়েছে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৭৭৫ টাকা। ফান্ডের এই অর্থ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও গণত্রাণ কার্মসূচির সঙ্গে যুক্ত রেজওয়ান আহমেদ রিফাত বলেন, ‘গত ২২ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নগদ অর্থ, মোবাইল ব্যাংকিং এবং ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১১ কোটি ১০ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৯ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি অর্থ আমাদের সমন্বয়ক এবং ঢাবির একজন শিক্ষকের দ্বারা পরিচালিত জনতা এবং সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছে। জমাকৃত অর্থ আমরা আগামীতে বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছি।’
সংগৃহীত অর্থ থেকে ১ কোটি ৭৫ লাখ ১২ হাজার ৭৯৪ টাকা বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে। যেখানে ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৮০০ টাকার চিনি, ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকার চিড়া, ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকার পানি, ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার কয়েল, ১ হাজার ৬২০ টাকার কাটার, ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার ডাল, ২৪ লাখ ৭২০ টাকার ড্রাই কেক, ১ লাখ ১ হাজার ২৩০ টাকার ফিটকিরি এবং অন্যান্য, ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৪২০ টাকার গণ রান্না প্রথম ব্যাচ, ৯ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৫ টাকার সাবান, শ্যাম্পু, শিশুখাদ্য এবং অন্যান্য, ৮০ হাজার ৮৬০ টাকার ব্যাগ, ২ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮০ টাকার বস্তা, ক্যারারেট এবং মোমবাতি, ৮ লাখ ৯৬ হাজার টাকার নগদ সহায়তা, ১ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টাকার চাল, ১২ লাখ ১৩ হাজার ৩০ টাকার খাবার, ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৯২৮ টাকার গুড়, ১৪ লাখ ১১ হাজার ৫০৪ টাকার মুড়ি, ৮৭ হাজার টাকার তেল, ৫০ হাজার ৬০২ টাকার পেঁয়াজ, ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৮০০ টাকার প্যাকেট বিস্কুট।
এ ছাড়া ২ লাখ ৪৪ হাজার ২৫৫ টাকার পলি, ৩ লাখ ৪ হাজার ৭৮৪ টাকার বস্তা, দড়ি এবং স্টেশনারি, ৯ হাজার ৭৫১ টাকার সুতলি ও স্টেশনারি, ৩৯ লাখ ২৯ হাজার ৩১০ টাকার খেজুর, ৪৪ হাজার টাকার শ্রমিক ও স্টেশনারি, ৬৪ হাজার ৭৭০ টাকার স্টেশনারি, ৭৭ হাজার ৬০০ টাকার পরিবহন ও শ্রম এবং ৩৯ হাজার ৬২০ টাকার হাতুড়ি, হ্যান্ড মাইক, আইডি কার্ড, ১ লাখ ১২ হাজার টাকার টর্চ এবং লাইটার এবং ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মেডিকেল ক্যাম্প।
গত সোমবার বন্ধ হয় নগদ অর্থ সংগ্রহ। তবে ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এখনো অর্থ সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আরিফ জাওয়াদ/এমএ/