শিক্ষার জন্য একটি স্থায়ী কমিশন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘কোন পথে শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাক্রম সংস্কার’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ফাউন্ডেশন অব এডুকেশনাল ট্রান্সপারেন্সি (এফইটি) ও এডুকেশন টাইমস।
এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার এখনো শিক্ষা কমিশন গঠন করেনি। আমি আশা করেছিলাম, একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন হবে। দেশে পাঁচ কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে ও শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। পৃথিবীর অনেক দেশে নাগরিক সংখ্যা পাঁচ কোটি নেই। কিন্তু আমাদের দেশে এত শিক্ষার্থীর জন্য একটি স্থায়ী কমিশন প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সময়ে আমরা বিভিন্ন শিক্ষা কমিশনের কার্যক্রম দেখেছি। যেমন বিএনপির সময়েও একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল। গত সরকার কাজী খলিকুজ্জমান কমিশন গঠন করেছিল। কিন্তু সেটিও ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পর কুদরত-ই-খুদা কমিশনও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি। তাই আমি প্রস্তাব করছি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করে শিক্ষার পরিবর্তন ও উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বয় করবে।’ এ সময় তিনি নিউজিল্যান্ডের উদাহরণ দেন।
শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি আমরা শিক্ষাকে গুরুত্ব না দিই, তাহলে কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করতে ব্যর্থ হব। দেশের জনসংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। যদি আমরা শিক্ষাকে গুরুত্ব দিই, তবে কর্মসংস্থানের জন্য মানবসম্পদ তৈরি করতে পারব এবং বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে একটি বিশেষ অবস্থান অর্জন করতে পারবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাজেটের স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা কোনো স্থানীয় কমিউনিটি নয়, বরং এটি একটি গ্লোবাল কমিউনিটি। বিগত সরকারের শিক্ষার ক্ষেত্রে যে পরিবর্তনগুলো এসেছে, সেগুলো কার্যকর সম্ভব নয়। এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশে শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে লাখ লাখ শিক্ষার্থী সেখানে চলে যাচ্ছে। এভাবে দেশের মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।’
গোলটেবিল বৈঠকে অন্যান্য বক্তার মধ্যে ছিলেন শিক্ষা ও শিশু রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক রাখাল রাহা ও সেভ দ্য চিলড্রেনের ডিরেক্টর (এডুকেশন প্রোগ্রাম) মেহেরুন্নিসা স্বপ্না। সভাপতিত্ব করেন এফইটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ মোহাম্মদ সফিকুল আলম।
কবির/এমএ/