ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা নিয়োগ দেবে ব্যাংক এশিয়া জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে প্রাণ ডেইরী ও এটিইসি খিলগাঁওয়ে স্কয়ার গ্রুপের ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত জামালপুরে পুলিশের চাকরি দেওয়ার চুক্তি, ২ প্রতারক গ্রেপ্তার সাঙ্গু নদে নিখোঁজ শিশুর সন্ধান মেলেনি ১৬ ঘণ্টায়ও ঝিনাইদহে রেললাইন-মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি রোহিঙ্গাদের জন্য জমি চাইল জাতিসংঘ, নাকচ বাংলাদেশের ব্রাজিলের বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষার আগে স্বকীয়তায় ফেরার আহ্বান ম্যাকগিনের রামু বৌদ্ধ বিহারে একদিন দ্রুত বিদায়ে হতাশ তুরস্ক কোচ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বাবা বরগুনায় বেড়েছে গরুর ক্ষুরা রোগ,ভ্যাকসিন সংকটে খামারিরা রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের আহ্বান বারভিডার আ. লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর লজ্জিত আরদা গুলের বেনজিরকে শিগগিরই ফেরত আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী ২৮ জন টিনএজ থেকে গ্লোবাল সুপারস্টার চকরিয়ায় শ্রীরামকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ রূপগঞ্জে  ব্যবসায়ীর বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন নওগাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের খাঁচায় ৩ ডাকাত আইওএস ২৭-এ আসছে নতুন ফিচার কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক রাঙামাটিতে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে শিক্ষিকার মৃত্যু ব্রাজিলের কাছে হেরেও ফুটবলারদের নিয়ে গর্বিত হাইতির কোচ বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে চুক্তি হতে পারে ১৫-১৭টি : পররাষ্ট্র সচিব চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

এস আলমের ৯ কারখানা বন্ধ, লক্ষাধিক কর্মী বেকার হওয়ার শঙ্কা

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৪৫ পিএম
এস আলমের ৯ কারখানা বন্ধ, লক্ষাধিক কর্মী বেকার হওয়ার শঙ্কা
এস আলম গ্রুপ

ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারায় কাঁচামালের অভাবে ৯টি কারখানা বন্ধ হলেও কর্মীদের বেতন-ভাতা বন্ধ করেনি এস আলম গ্রুপ। গত ৫ আগস্টের পর সরকার দেশের শীর্ষস্থানীয় এই শিল্পগ্রুপের আগের এলসি স্থগিত করে এবং নতুন করে আর কোনো এলসি খুলতে দেয়নি। এ কারণে কাঁচামালের অভাবে একে একে ৯টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে এখনো বেতন পেলেও কর্মীদের প্রশ্ন কারখানা বন্ধ থাকলে কর্তৃপক্ষ এভাবে কতদিন চালাবে? তারা অবিলম্বে কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানান। 

কর্মীরা আশা করেন, সরকার কারখানাগুলো খোলার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। নইলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কারখানায় নিয়োজিত লক্ষাধিক কর্মী চাকরি হারিয়ে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে আর্থিক ঝুঁকিতে পড়বেন।

গ্রুপটির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী খবরের কাগজকে জানান, সরকারের উচিত কোম্পানির ফ্রিজ করা ব্যাংক হিসাব খুলে দিয়ে ঋণপত্র খোলার সুযোগ দেওয়া। ঋণপত্র খুলতে পারলে কাঁচামাল আসবে এবং ফের কারখানা চালু হবে। তা ছাড়া দেশের তেল, চিনিসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের চাহিদার বড় একটি অংশ এস আলম গ্রুপ মিটিয়ে থাকে। কারখানাগুলো চালু করতে না পারলে ভোগ্যপণ্যের বাজারেও বড় ধরনের সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হবে। সংকট সৃষ্টি হলেই দাম বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়। তাতে শেষ পর্যন্ত দুর্ভোগে পড়ে দেশের সাধারণ মানুষ।

তারা জানান, চট্টগ্রামে বন্ধ হওয়া এস আলম গ্রুপের ৯টি কারখানার মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলীর এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বাঁশখালীর এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল নফ, এস আলম পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম ব্যাগ ও এস আলম স্টিল। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষভাবে ১২ হাজারের বেশি কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে বিক্রয়কর্মী, ডিলার, এজেন্ট, আমদানি-রপ্তানির কাজে নিয়োজিত কর্মী, পণ্য ওঠানামার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকসহ লক্ষাধিক কর্মী এই শিল্পগ্রুপে নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, অতিসত্বর কারখানাগুলো চালু না হলে তারা সবাই বিপদে পড়বেন।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসমত আলী খবরের কাগজকে বলেন, ‘কারখানা বন্ধ থাকলে শেষ পর্যন্ত কর্মীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ৫ আগস্টের পর কাঁচামালের অভাবে কারখানা বন্ধ হয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এভাবে কতদিন চালানো সম্ভব। সরকারের উচিত অতিসত্বর এলসি খোলার সুযোগ দিয়ে কারখানা চালু করার ব্যবস্থা করা। ব্যবসা করার সুযোগ না দিলে শেষ পর্যন্ত কর্মীরাই বেকার হবেন।’ 

তাদের দায়িত্ব কে নেবে? এমন প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তারা নতুন করে কোথায় চাকরি পাবেন? এ বিষয় মাথায় রেখে সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

এস আলম কোল্ড রোল স্টিল মিল লিমিটেডের প্রশাসনিক প্রধান (কারখানা) মিনহাজ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘কারখানা বন্ধ রাখার কারণ আছে। তার মতে, কারখানা খোলা রেখে কোনো লাভ নেই। কারণ কারখানা খোলা রাখলেও উৎপাদন তো করা যাচ্ছে না। বরং খরচ ঠিকই হয়। সেই সুনির্দিষ্ট খরচ বাঁচানোর জন্যই মূলত বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তবে বেতন-ভাতাদি তারা পাচ্ছেন।’ 

তিনিও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘লাখো কর্মীর দিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকালে সরকার অবশ্যই কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।’

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা
কাল্পনিক পদ্মা ব্যারাজ। ছবি: এআই

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়নের স্বপ্নযাত্রায় এবার যোগ হয়েছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বদলে যাবে ২৪টি জেলার দৃশ্যপট। নদী ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় আসবে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পদ্মা ব্যারাজ শুধু নদীকেন্দ্রিক প্রকল্প নয়, এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিনের নাব্যতা সংকট ও সীমিত ব্যবস্থাপনার কারণে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়নি।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, নদীভাঙন রোধ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিবর্তন আসবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২৪টি জেলার ১৬১টি উপজেলার পাঁচ কোটি মানুষের কৃষি উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এর সুফল সরাসরি ও পরোক্ষভাবে সারাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

নদীভাঙন, শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট ও আঞ্চলিক বৈষম্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন আশার নাম হয়ে উঠছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

কৃষিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২ লাখ হেক্টরের বেশি এক ফসলি জমি দুই ফসলি জমিতে এবং ১ লাখ হেক্টরের বেশি জমি তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হতে পারে। সাগরের লবণাক্ত পানি বদলে কৃষকের কাছে পৌঁছবে মিঠা পানি, যা কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনে বিরাট বিপ্লব এনে দেবে। এতে বছরে অতিরিক্ত কয়েক মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বোরো ধানের গড় উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৪.৫ থেকে ৫ টন। নিরবচ্ছিন্ন সেচ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এটি ৬ থেকে ৭ টন পর্যন্ত উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষি গবেষকরা।

একইভাবে গমের উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৩.৫ টন থেকে ৪.৫ টন, ভুট্টার উৎপাদন ৮ টন থেকে ১০-১২ টন এবং আলুর উৎপাদন ২৫ টন থেকে ৩০-৩৫ টন পর্যন্ত বাড়তে পারে।

পদ্মা পাড়ের জেলা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের সংসদ সদস্য ও সরকারের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নে বুক বেঁধে আছে পদ্মা পাড়ের জনগণ। তারা এই প্রকল্পের সুফল পেতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে রাজবাড়ীসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪ জেলার জনগণ বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ছাড়া এ প্রকল্প কখনোই হয়তো পাস হত না। ইতোমধ্যে এ প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। এজন্য তিনিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উৎপাদনে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এখন আর কোনো স্বপ্ন নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা পাড়ের জেলাগুলোতে নদী ভাঙন, আকস্মিক বন্যা এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নদী ব্যবস্থাপনার আধুনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানিসংকট দূর করতে এবং মৃতপ্রায় নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ মেগা প্রকল্পের কাজ ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। কৃষকের আয় গড়ে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪১ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রতিবছর বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের কারণে কয়েকশ হেক্টর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। গত দুই দশকে পদ্মা নদী বিধৌত বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে।

পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবার প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের আওতায় নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম, তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর প্রবাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নদীভাঙনের হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জিওব্যাগ, কংক্রিট ব্লক ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন পরিকল্পনায় অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রিত পানি প্রবাহ এবং দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হলে বন্যার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে নদীর পানিধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া নদী ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষকে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে হাজার হাজার কোটি টাকার কৃষি উৎপাদন, সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বসতভিটা রক্ষা পাবে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, এ মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি, শিল্প, পরিবহন, বিপণন এবং সেবা খাত মিলিয়ে লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে কৃষিযন্ত্র, বীজ, সার, কীটনাশক, কৃষিপণ্য পরিবহন ও বিপণন খাতেও নতুন বিনিয়োগ বাড়বে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় গুদামজাতকরণ, হিমাগার এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের চাহিদাও বাড়বে। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্পে প্রতি ১ কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ২০ থেকে ৩০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। সেই হিসেবে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে এক থেকে দুই লাখ অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে অর্থের প্রবাহও বাড়বে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নাঈম/

জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সড়ক ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়নে জিপিএস সংযুক্তি বাধ্যতামূলক করেছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে সব ধরনের গণপরিবহনে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) সংযুক্তি বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সহকারী সচিব মো. জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, আগামী ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহন পরিচালনার সময় জিপিএস ডিভাইস চালু রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা ৪৪ এবং ধারা ১২৪(১)(খ)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত করতে হবে এবং যানবাহন চলাচলের সময় তা অবশ্যই সচল রাখতে হবে।

এ ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়নের সময় জিপিএস সংযুক্তি নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস নবায়ন করবে না।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী যানবাহনের বিভিন্ন কারিগরি বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি জিপিএস সংযুক্তির বিষয়টিও যাচাই করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ প্রযুক্তি ব্যবহারে গণপরিবহনের অবস্থান, গতি এবং চলাচলের রুট সহজেই পর্যবেক্ষণ এবং অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, যানবাহন ট্র্যাকিং এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিপিএস বাধ্যতামূলক করার ফলে পরিবহনখাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

থিওটোনিয়াস/

রোহিঙ্গাদের জন্য জমি চাইল জাতিসংঘ, নাকচ বাংলাদেশের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
রোহিঙ্গাদের জন্য জমি চাইল জাতিসংঘ, নাকচ বাংলাদেশের
ছবি: সংগৃহীত

মায়ানমারের জান্তাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করায় বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল তারা। তাদের জন্য আরও জমি বরাদ্দ চেয়েছে জাতিসংঘ। তবে বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের এ আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। 

শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘে আহ্বান করেছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার মায়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মায়ানমারে। তাই এর টেকসই সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। বিপুলসংখ্যক এ শরণার্থীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও দেশের সম্পদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। তাই এখন এ সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান জরুরি।

সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগে থেকে অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সেনাচৌকিতে জঙ্গি হামলাকে অজুহাত দেখিয়ে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে বাংলাদেশে।

থিওটোনিয়াস/

আ. লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
আ. লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না তারা একটি মাফিয়া পার্টি। এ জন্যই তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, আগামী ২৩ জুন তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে যেকোনো কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অবদানের জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ইতোমধ্যে দুবাই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে।’ 

এ সময় তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধীদের নির্মূল করাসহ দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘মোহাম্মদপুর এলাকা অনেক বছর ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে রয়েছে। মোহাম্মদপুরকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে এবং এখানকার অপরাধীদের নির্মূল করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ইতোমধ্যে সবার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। নির্বাচিত সরকার আসার পরে পুলিশ সদস্যরা এত বেশি দায়িত্ব পালন করছেন যে তাদের প্রশংসনীয় কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হচ্ছে।

নাঈম/

বেনজিরকে শিগগিরই ফেরত আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
বেনজিরকে শিগগিরই ফেরত আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

শনিবার (২০ জুন) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদেরকে পুরস্কার প্রদান শেষে তিনি এসব কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বেনজীর আহমেদ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের বিষয়ে সংসদে যেদিন জানিয়েছি, তার পরের দিন বিকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করি, দেশটির সরকার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খুব শিগগিরই তাকে ফিরিয়ে দেবে।’

গত ১২ জুন দুবাইয়ের একটি শপিং মল থেকে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনানুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানোর সুযোগ থাকলেও সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নথিপত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ২৩ জুনকে ঘিরে বলেন, ‘এলার্ট করা আমাদের কাজ। সন্দেহ করছি, ২৩ জুনকে (আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী) কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল অস্থিরতা, অস্থিতিশীলতা করতে চাইবে। পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করবে, সেজন্য সারাদেশে এলার্ট করা হয়েছে। সেটিকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না, সেটি একটি মাফিয়া পার্টি।’

পুলিশকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্যই পুরস্কৃত করা হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা কর্তব্যপালন করছে, তাদের স্বীকৃতি দিতে চাই। মানুষের মধ্যে ধারণা ছিল, পুলিশ বাহিনী হয়তো নিষ্ক্রিয় হয়েছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে তড়িৎ গতিতে পুলিশ বাহিনী নৈতিক সাহস ফিরে পেয়েছে। নির্বাচিত সরকার আসার পর তারা অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা দায়িত্ব পালন করছে; এটি লক্ষণীয়। এমন কৃতিত্বের জন্য তাদের সম্মান করা উচিৎ। সরকার তাদের উৎসাহ দিচ্ছে যেন বাকিরাও অনুপ্রাণিত হয় এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হয়।’

মোহাম্মদপরে চলমান অপরাধ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদপুর বহু বছর ধরে অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়েছে, সেখানে রাতারাতি নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেখানে অপরাধীদের নির্মূল করা হবে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।’

অন্তরা/