ইংরেজি নববর্ষ বরণে আতশবাজির কারণে ঢাকায় গত সাত বছরে শব্দদূষণ বেড়েছে গড়ে ৭৪ শতাংশ। আর বায়ুদূষণ বেড়েছে গড়ে ১৯ শতাংশ। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে নববর্ষ উদযাপনের সময় আতশবাজি পোড়ানোর কারণে বায়ু ও শব্দদূষণের ওপর বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) পরিচালিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ এবং আতশবাজি ও ফানুসমুক্ত নববর্ষ উদযাপনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
গবেষণার সারসংক্ষেপ নিয়ে বক্তব্য রাখেন ক্যাপস-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার। তিনি বলেন, ‘উদযাপন করা সবার অধিকার। কিন্তু অন্যের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা না করে উদযাপন করায় অনেক অসুবিধা হয়। নববর্ষ উদযাপনের প্রাক্কালে শব্দ ও বায়ুদূষণের মাত্রা কেমন হয় তা নিয়ে আমরা গত সাত বছরের তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেছি। গত বছর ২০২৩ সালে নববর্ষ উদযাপনে ঢাকার বায়ুদূষণ ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। অতি ক্ষুদ্র কণা ২৪৯ মাইক্রোগ্রাম থেকে বেড়ে ৩৪০ গ্রামে উন্নীত হয়। অর্থাৎ দূষণের মাত্রা বেড়েছে। একইভাবে শব্দদূষণ বেড়েছে। ২০১৩ সালে ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টার আগে যে শব্দদূষণ ছিল, তা রাত ১১টার পরে ১০২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শব্দদূষণ ৫০ ডেসিমেল থেকে বেড়ে ১০১ ডেসিমেল হয়েছিল।’
২০১৭ সাল থেকে তথ্য নিয়ে পরিচালিত এই গবেষণা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত সাত বছরে সর্বোচ্চ ৬৬ শতাংশ থেকে সর্বনিম্ন ৬ শতাংশ পর্যন্ত বায়ুদূষণ বেড়েছে। গড়ে বেড়েছে ১৯ শতাংশ। করোনাকালে দূষণ কমেছিল আতশবাজি ও ফানুস না উড়ানোর কারণে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নববর্ষের আয়োজন করা হয়। কিন্তু এখানে যেভাবে নববর্ষ উদযাপন করা হয়, তা সাংস্কৃতিক হুমকি। সরকার সে বিষয়টি ভেবে দেখতে পারে। অন্যের বিশ্রাম ও শান্তি নষ্ট করে, এমন কোনো কিছুই করা যাবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, আরণ্যক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রকিবুল হাসান মুকুল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশেদুজ্জামান মজুমদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।