ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশের বেশি সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’ স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরে স্যামসাংয়ের নতুন ল্যাপটপ গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ
Nagad desktop

স্বাধীন ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব আইজিপির

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:২২ পিএম
আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:২৪ পিএম
স্বাধীন ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব আইজিপির
বাংলাদেশ পুলিশ

পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও শক্তিশালী ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনের সুপারিশসহ বেশ কিছু প্রস্তাব সংস্কার কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম। সম্প্রতি পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন জানান, তারা খসড়া প্রস্তাব জমা দিয়েছেন, তবে কমিশনের কাঠামো কেমন হবে তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে কমিশনপ্রধান সফর রাজ বলেন, ‘আমরা আইজিপির কাছ থেকে একটি প্রস্তাব পেয়েছি। তাতে সাংবিধানিক কমিশন গঠনসহ বেশ কিছু সুপারিশ রয়েছে।’ 

খসড়া প্রস্তাব প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, ‘আমরা পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছি। তাতে বলা হয়েছে, কমিশনের প্রতিটি পদে নিয়োগ হবে দুই বছরের জন্য। শীর্ষস্থানীয় পদগুলোতে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও পুলিশের কর্মকাণ্ড তদারকির দায়িত্বে থাকবে এই কমিশন। এতে করে রাজনৈতিক আনুগত্য বিবেচনায় পদোন্নতি ও নিয়োগের পুরোনো সংস্কৃতির অবসান ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। কমিশনের লক্ষ্য পুলিশ যেন নিরপেক্ষ, স্বাধীন এবং জন-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংগতি রেখে মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে তা নিশ্চিত করা। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে আইনের শাসন এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করা। কারণ বিগত দিনে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ ঘোচাতে চান তারা।

এর আগে কীভাবে পুলিশ কমিশন গঠন করা যেতে পারে, সে ব্যাপারে অনলাইনে জরিপ পরিচালনা করে পুলিশ সংস্কার কমিশন। এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জরিপে অংশ নেওয়া ১৪ হাজার ৩৮৯ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং বাইরের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে একটি পৃথক তদারকি সংস্থা গঠনের পক্ষে মত দেন। 

সংস্কার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের একটি সংযোজনী হিসেবে পুলিশের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এতে প্রস্তাবিত ১১ জন সদস্য পুলিশ থাকবেন। এর চেয়ারম্যান হবেন আপিল বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বা একজন অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি। আর সদস্যদের মধ্যে চারজন সংসদ সদস্য- দুজন ক্ষমতাসীন দলের এবং দুজন বিরোধী দল থেকে মনোনীত হবেন। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পরামর্শ করে স্পিকার তাদের নাম প্রস্তাব করবেন। অরাজনৈতিক ব্যক্তিরাও থাকবেন কমিশনে- একজন আইন বিশেষজ্ঞ, একজন মানবাধিকার কর্মী, একজন অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি এবং সমাজবিজ্ঞান বা পুলিশিং সংক্রান্ত একজন শিক্ষাবিদ। এই চারজনের মধ্যে একজন নারী থাকবেন। রাষ্ট্রপতি একটি বাছাই কমিটির প্রস্তাবিত ছয়জনের তালিকা থেকে তাকে নিয়োগ দেবেন। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রসচিব এবং আইজিপি পদাধিকারবলে পুলিশ কমিশনের সদস্য হবেন এবং আইজিপি সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধান বিচারপতি অথবা তার মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি বাছাই কমিটির প্রধান হবেন। এই কমিটিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রধানরা এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব অথবা একজন অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

কমিশনের কার্যাবলি সম্পর্কে জানানো হয়, কমিশন আইজিপি নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নয় এমন তিনজন কর্মকর্তার একটি প্যানেল সুপারিশ করবে। আইজিপির কর্মকালের মেয়াদ হবে অবসরের বয়স নির্বিশেষে দুই থেকে তিন বছর। প্রস্তাবিত কমিশনকে আইজিপিকে অপসারণ করার ক্ষমতাও দেওয়া হবে, যদি কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হন। এটি পুলিশ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিশেষায়িত ইউনিট, উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), মেট্রোপলিটন কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের জন্য নামও সুপারিশ করবে।

সংস্কার কমিশন সদস্যরা মনে করেন, এটা করা সম্ভব হলে পুলিশ প্রশাসনে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে পদোন্নতি এবং লোভনীয় পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অবসান ঘটবে। প্রস্তাবিত কমিশন প্রয়োজনে একটি জাতীয় জননিরাপত্তা নীতি এবং পুলিশ সম্পর্কিত আইন, বিধি ও প্রবিধিও প্রণয়ন করবে। প্রয়োজনে এটি আইনসংগতভাবে বলপ্রয়োগের পরিধি নির্ধারণ, পুলিশ প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করার কাজও করবে। পুলিশ কমিশনের সদস্যদের মেয়াদ হবে চার বছর। সংসদ ভেঙে গেলে সংসদ সদস্যরা কমিশনের সদস্য থাকবেন না, যেখানে কমিশনে নিয়োগ শুধু এক মেয়াদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে। ঋণখেলাপি, বিদেশি নাগরিক, কর ফাঁকিতে অভিযুক্ত, অর্থ আত্মসাৎকারী, অপরাধী বা প্রজাতন্ত্রের পদাধিকারী ব্যক্তি কমিশনের সদস্য হওয়ার যোগ্য হবেন না। সরকার কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মী দিয়ে সহায়তা করবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় তহবিলও বরাদ্দ করবে সরকার।

কমিশনের থাকবে একটি অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। এই কমিটি পুলিশের বিরুদ্ধে বিদ্যমান অভিযোগ সুরাহার জন্য আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে। পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্তে কেউ সন্তুষ্ট না হলে এই তিন সদস্যের কমিটির কাছে আপিল করতে পারবেন। এই অভিযোগ কমিটি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। পুলিশ কর্মকর্তারা সমস্যায় পড়লে ওই কমিটি তা সমাধানের লক্ষ্যে তিন সদস্যের অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠন করবে।

‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে
ছবি: সংগৃহীত

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আগামী ১৮ থেকে ২০ জুন নির্ধারিত অনুষ্ঠানমালা বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের লক্ষ্যে তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। 

সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানমালা জুনের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী সময়সূচি যথাসময়ে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হবে।

 

মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

মায়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ-ও বলেছেন, ভারতের সাথে সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

প্রশ্নোত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে এবং সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ফেন্সিডিলসহ সব ধরনের মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ বন্ধে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার মোতাবেক 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে বিজিবি। সেইসাথে, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, জানান মন্ত্রী।

এছাড়া, দুর্গম ও স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও  নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণের ফলে বিজিবির বিওপিসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং টহলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। সেগুলো হলো:

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অতি সংবেদনশীল এলাকায় ইতিমধ্যে 'স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম' স্থাপন করা হয়েছে।
দুর্গম পার্বত্য সীমান্তে সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যার ফলে বিজিবির টহল দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে যেকোনো সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সক্ষম হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতদের চোরাচালান ও অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে এবং অপরাধীদের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তার জন্য নিয়মিত 'জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম' পরিচালনা করা হচ্ছে।

এসএন/

যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী
মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে  না’ বলে যারা হুমকি দিচ্ছে, তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বিএনপি আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবে। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে বিএনপি কাজ করবে।’

‘যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা জনগণের স্বার্থে কথা বলছে না, তারা নিজের স্বার্থে কথা বলছে।  তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।’

একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে আছে তো— এখানে অনেক মুরুব্বি আছেন। মনে আছে তো— একাত্তরে এরা কী করেছিল? মনে আছে তো— ’৮৬ তে কী করেছিল? মনে আছে তো— এর মধ্যে এক যুগ যে আন্দোলন চলেছিল, সেই আন্দোলনে তাদেরকে কোথাও আমরা কিন্তু দেখিনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যদি শহিদদের তালিকা বের করা হয়, দেখা যাবে যে ছাত্রটি মারা গিয়েছে—তিনি ছাত্রদলের একজন কর্মী, যে ছাত্রটির বউ মরেছে তিনি ছাত্র দলের কর্মী, যে যুবকটি মারা গিয়েছে তিনি যুবদলের কর্মী, যে যুবকটি গুম হয়েছে তিনি যুবদলের কর্মী। যেই মানুষ বিনা কারণে জেল খেটেছে, খুঁজলে দেখা যাবে তিনি বিএনপির কর্মী, যে মানুষ মিথ্যা মামলা মাথায় করে বয়ে বেড়িয়েছে বছরের পর বছর, খোঁজ করলে দেখা যাবে তিনি শহিদ জিয়া, খালেদা জিয়ার কর্মী।’

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতি জনগণের ম্যান্ডেটের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘মানুষ বিএনপিকে বলেছে, তোমরা দেশকে গড়ে তোলো, মানুষ বিএনপিকে বলে দিয়েছে, আগামী পাঁচ বছর তোমাদেরকে সময় দিলাম তোমরা দেশকে ঠিক করো। স্বৈরাচার দেশকে খালি করে দিয়ে চলে গিয়েছে।’

শ্রীমঙ্গল থেকে বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছান মৌলভীবাজারে। এই অনুষ্ঠানে জেলার প্রান্তিক নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ১০ জন নারী সদস্যের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বাটন চেপে মৌলভীবাজারের ১৯ ওয়ার্ডসহ অনলাইনের মাধ্যমে আরো ২১ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তৃতীয় পর্যায়ে নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি একযোগে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের আগে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি আম ও নিম গাছের চারা  এবং এর আগে শ্রীমঙ্গলে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাম ও কৃষচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।

মৌলভীবাজারের অনুষ্ঠানে চা-শ্রমিকের আবাসন এবং তাদের সন্তানদের বৃত্তি প্রদানসহ দুঃস্থ-অসহায়, প্রতিবন্ধী, প্রান্তিক মানুষের মধ্যে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করেন সরকার প্রধান।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বলেছে, সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না। তাদের সম্পর্কে সর্তক করে  আমি বলতে চাই, বিএনপির প্রতিশ্রুতির পরিকল্পনা জনগণের পরিকল্পনা। এটি যারা ভেস্তে দিতে চায়, তাদের সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির কিছু করা লাগবে না। জনগণ সতর্ক থাকলেই বিএনপির কাজ হয়ে যাবে। কারণ, এ দেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। মালিক যদি সতর্ক থাকে আর কারো টেনশন থাকবে না। এ দেশের মালিক জনগণ, জনগণের হাতে এই দেশের নিরাপত্তা, এ দেশের উন্নয়ন, এ দেশের ভবিষ্যৎ আমি সঁপে দিয়ে গেলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বিএনপিকে সময় দিতে চায় না তারা বলে ফ্যামিলি কার্ড কোত্থেকে করবা? টাকা পাবা কই? তাদের উদ্দেশ্যে পরিস্কার করে বলে দিতে চাই, বিগত এক যুগ আমরা দেখেছি, সারা পৃথিবী দেখেছে, সারা পৃথিবী সাক্ষ্য দিয়েছে— কীভাবে এ দেশের অর্থ পাচার হয়ে গিয়েছিল। এখন থেকে বাংলাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে সেই পাচার আমরা রুখে দেব।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশের মানুষের অর্থ, এই দেশের মানুষের সম্পদ দেশেই থাকবে। কোথাও যেতে পারবে না। এ দেশের  মানুষের অর্থ এই দেশের মানুষের সম্পদ এ দেশের মানুষের ভালোর জন্য ব্যবহার হবে। যারা বলে টাকা কোথায় পাবা, তাদের কাছে এই হচ্ছে আমার জবাব। তাদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা বলতে চাই, মানুষকে নিয়ে চিন্তা করুন, মানুষকে নিয়ে কাজ করার চিন্তুা করুন, দেখবেন উপায় বের হবে।’

সামনে সময় দেশের জন্য কাজ করার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামনের সময় হচ্ছে কাজ করার, সামনে সময় হচ্ছে দেশ গড়ার, সামনের সময় হচ্ছে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করার। আজকে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত, এই ৪০ কোটি হাত যদি অবশ হয়ে পড়ে থাকে, অলস হয়ে পড়ে থাকে— তাহলে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা যাবে না।’

একাত্তরে দেশ স্বাধীন করেছিল বাংলাদেশের জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছিল কে? বাংলাদেশের জনগণই মুক্ত করেছিল। কাজেই দেশকেও গড়ে তুলবে বাংলাদেশের জনগণ। কারণ, খালেদা জিয়াকে যখন বলেছিল দেশ ছেড়ে চলে যাও। তখন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বাংলাদেশের মাটি হচ্ছে আমার প্রথম  এবং শেষ ঠিকানা। মনে আছে আপনাদের? আমাদের সকলের এই বাংলাদেশই হচ্ছে প্রথম ও শেষ ঠিকানা।’

‘কাজেই এ দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, এ দেশকে যদি গড়ে তুলতে হয় তাহলে সকলে আমাদেরকে হাতে হাত মিলিয়ে এক সাথে কাজ করতে হবে।’

উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন এখানে সবাই আমরা হাত তুলে প্রতিজ্ঞা করি যে, আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি, আমাদের আগামী দিনের প্রত্যাশা, আমাদের আগামী দিনের সকল কর্ম পরিকল্পনা হবে এই দেশ ও এ দেশের মানুষকে ঘিরে। দেশ গড়াই হবে আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি।’

১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো যেমন— ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, মুয়াজ্জিন, ইমামসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের সম্মানিভাতা প্রদান, স্কুল শিক্ষার্থীদের ড্রেস প্রদান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা প্রভৃতি কাজ শুরু করার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর উপকারটা কার হবে? দলমত নির্বিশেষে এর উপকার পাবে সকল মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপিকে জনগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী করেছে।  ১৭ তারিখের পর এ সরকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সরকার। বর্তমান সরকার হচ্ছে, দলমত নির্বিশেষে সবার সরকার। আমাদের সরকারের মূখ্য বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণ ও বাংলাদেশের মানুষ।’

অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের এই অঞ্চলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে গত এক যুগেরও বেশি সময় এই জেলায় উন্নয়ন না হওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারহানা শারমিন, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউস, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এবং কেরানিগঞ্জ থেকে অনলাইনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

মৌলভীবাজারের অনুষ্ঠান শেষ করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিলেটের উদ্দেশ্যে সড়ক পথে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

নাঈম/

যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে আবেদন অনুমোদন পাওয়া প্রায় ছয় হাজার নাগরিকের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দূতাবাসের মাধ্যমে এসব এনআইডি সংশ্লিষ্ট প্রবাসীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা বুধবার (১৭ জুন) জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ১৬ হাজার ৭১৫ জন প্রবাসী এনআইডির জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ১০ হাজার ৯৬৮ জনের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিতদের মধ্যে ৫ হাজার ৮০৭ জনের এনআইডি বর্তমানে প্রিন্টিং পর্যায়ে রয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডার মায়ামি এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে দূতাবাসের মাধ্যমে এনআইডি কার্যক্রম শুরু হয়। এর আওতায় নিউইয়র্কের ৪ হাজার ১৭০ জন, ওয়াশিংটনের ৪৩০ জন, মায়ামির ৩৬৫ জন এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের ৪৪২ জনের এনআইডি পাঠানো হচ্ছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ইসি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে প্রায় এক লাখ আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার প্রবাসী ইতোমধ্যে এনআইডি পেয়েছেন।

বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদনকারীদের অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র, বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট, এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যয়ন, অনলাইন জন্মনিবন্ধন এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হয়। বিশেষ কিছু উপজেলার নাগরিকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্রও দাখিল করতে হয়।

ইসি আরও জানায়, প্রবাসীদের দেওয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট উপজেলায় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আবেদন অনুমোদন করে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের এনআইডি সরবরাহ করা হয়।

ইসি/এলিস/আমান

নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস (ডিইডব্লিউ) লিমিটেড থেকে নির্মিত হচ্ছে পাঁচটি রিভারাইন পেট্রল ভেসেল।

বুধবার (১৭ জুন) নারায়ণগঞ্জে ডিইডব্লিউ চত্বরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জন্য ওই পাঁচটি রিভারাইন পেট্রোল ভেসেল (আরপিভি) নির্মাণের লক্ষ্যে ‘কিল-লেয়িং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে জাহাজ নির্মাণে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড ও শিপইয়ার্ডগুলো সাফল্যের ধারাবাহিকতায় অগ্রযাত্রার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ ও নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ ধারাবাহিকতায় বুধবার ডিইডব্লিউ লিমিটেড থেকে কোস্টগার্ডের জন্য পাঁচটি ‘আরপিভি’ নির্মাণের লক্ষ্যে ‘কিল-লেয়িং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী প্রধান অতিথি এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং ডিইডব্লিউ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তির ওই আরপিভির দৈর্ঘ্য ৩৮ দশমিক ৫ মিটার, প্রস্থ ৭ দশমিক ৯০ মিটার, গভীরতা ২ দশমিক ৪৫ মিটার এবং ২৩২ টন ডিসপ্লেসমেন্ট ক্ষমতাবিশিষ্ট সক্ষমতায় এটি নির্মিত হচ্ছে। প্রতিটি নৌযান ঘণ্টায় ২৫ মাইল বেগে চলাচল করতে সক্ষম হবে। এতে নৌযানে নেভিগেশন র‍্যাডার, জিপিএস, যোগাযোগ প্রযুক্তি, নাইট ভিশন ও বিভিন্ন ধরনের আধুনিক সরঞ্জামাদি সংযোজিত থাকবে। কম গভীরতায় চলাচলের উপযোগী ও উচ্চগতি সম্পন্ন এ নৌযানসমূহ বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের বহরে সংযোজনের মধ্য দিয়ে দেশের নদী, মোহনা এবং উপকূলীয় এলাকার সংকীর্ণ ও দুর্গম নৌপথে অধিক দক্ষতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, কম গভীরতাসম্পন্ন জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নজরদারি জোরদারকরণ, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নদীপথ ব্যবস্থাপনায় কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

আলমগীর হোসেন/নাঈম